সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। কিন্তু সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে বসবাস করতে হলে তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি তার নিজের ধর্মকে ভালোবাসে সে কখনোই অন্যের ধর্মকে ঘৃণা করতে পারেনা।
মূলভাব: যথার্থ জীবনের ধর্ম দুঃসাহসী চিত্ত, দৃঢ় মনোবল আর কঠিন আত্মপ্রত্যয়। যারা এসব গুণের অধিকারী তাদের বেঁচে থাকা সার্থক ও যথার্থ। কেননা মরণকে তাঁরা তুচ্ছজ্ঞান করে যেকোনো প্রয়োজনে জীবন উৎসগ করতে প্রস্তুত থাকেন। আর যারা ভীরু ও কাপুরুষ তারা সদা পলায়নপর। তারা বেঁচে থেকেও যেন মৃত। পৃথিবীর অমোঘ নিয়মে সব মানুষকেই একদিন না একদিন মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়। মৃত্যু নিষ্ঠুর বাস্তব হলেও এর থেকে কারো নিষ্কৃতি নেই।
ভাবসম্প্রসারণ: মৃত্যু জীবনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। 'মরিতে না হইলে বাঁচিয়া থাকিবার কোনো মর্যাদাই থাকিত না।' জীবনকে সত্যিকারভাবে সফল ও উপভোগ্য করতে হলে মৃত্যুভয় পরিহার করতে হবে। কর্মময় মানবজীবনের প্রতিটি কাজেই কম-বেশি ঝুঁকি আছে। যে কাজ যত দুরূহ, যত বিপজ্জনক সে কাজে মৃত্যুর ঝুঁকি তত বেশি। এমন ক্ষেত্রে দৃঢ়চিত্ত সাহসীরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্ম সম্পাদনে পিছপা হন না। তাই এ অনিবার্যকে সহজভাবে মেনে নেওয়া উচিত। তা না হলে জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায় না। জীবনে চলার পথে, প্রতিটি কাজে নানা ধরনের ঝুঁকি থাকে। যাঁরা দৃঢ়চিত্ত, সাহসী তারা বিপদের পরোয়া করেন। মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নিয়ে অনেক বিপজ্জনক ও কঠিন কাজ করেন স্বচ্ছন্দে। অদম্য সাহস ও দৃঢ়চিত্তের অধিকারী। যাঁরা দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে ঝাপিয়ে পড়েন। পায়ে পায়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা মেনে নিয়েই দুর্যোগের সময় জীবন বাজি রেখে দুর্যোগের মোকাবিলা করেন। অগ্নিকাণ্ড হলে আটকে পড়া জানমাল উদ্ধারে, ঝড়ঝঞ্ঝা, বন্যায় বিপন্ন মানুষকে বাঁচাতে এমনি নানা দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় দৃঢ়চিত্তের লোকেরাই এগিয়ে আসেন, বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। শত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে বাঁচাতে সাহসী লোকেরাই ঝাপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহিদের জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এমন জীবনের অধিকারী যারা তারা মৃত্যুর পরও অমরত্ব লাভ করেন। সাহসী। লোকেরা প্রতি মুহূর্তে জীবনকে, পৃথিবীর সৌন্দর্যকে উপভোগ করেন। উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে, মহাশূন্যে বিচরণে, দুর্গম পাহাড় আরোহণে প্রতি মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা জেনেও ভয়ংকর সুন্দরের নেশা তাদের দুর্দমনীয় করে তোলেন। বিজ্ঞানের নিত্যনতুন প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনেও রয়েছে নানারকম ঝুঁকি। তাই সমাজ ও সভ্যতা বিকাশের প্রতিটি ধারায় রয়েছে। সাহসী মানুষের মহান অবদান। আর যারা ভীরু তারা বরাবর মৃত্যুকে এড়িয়ে যেতে চায়। কাপুরুষ চিত্ত তাদের গৃহকোণে আবদ্ধ করে রাখে। পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য আর আনন্দ উপভোগ থেকে তারা বঞ্চিত হয়, বঞ্চিত হয় জীবনের প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দেওয়ার অপার সুখ থেকে। তাই তাদের বেঁচে থাকা অর্থহীন। প্রয়োজনে যারা মরতে দ্বিধা করেন না, তাদের বেঁচে থাকাই সার্থক।
মন্তব্য: পৃথিবীতে যারা ন্যায় ও সত্যের জন্য হাসিমুখে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা আজও আমাদের মাঝে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে রয়েছেন। তাই ন্যায় ও সত্যের পথে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ব্যক্তিই যথাযথভাবে বাঁচার অধিকারী।
Related Question
View Allচর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
তন্বী = তোন্নি
'তন্বী' (তন্বী) শব্দের উচ্চারণ হলো: তন্বী (তন্-বী)।
- বিশ্লেষণ: তন্ + বী (ন-ফলা)।
এটি একটি বিশেষণ পদ, যার অর্থ সাধারণত তনুগাত্রী, কৃশাঙ্গী বা সুক্ষ্মদেহী নারী।
চিত্রকল্প = চিত্ত্রোকল্পো
চিত্রকল্প শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: চিত্রোকল্প [cit̪rokol̪p]।
উচ্চারণের নিয়ম:
- চিন্-: চ-এ হ্রস্ব-ইকার।
- -ত্রোক-: 'ত্ৰ' (ত+র) যুক্তবর্ণটি 'ত্রো' উচ্চারিত হয়।
- -ল্প: প-এর শেষে 'অ' ধ্বনি প্রায় বিলুপ্ত হয় (হসন্ত)।
বিশ্লেষণ:
চিত্রকল্প -> চৎ + রোক + ল্প।
অন্য = ওন্নো
উদ্বেগ = উদ্বেগ্
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!