উপকারীর উপকার স্বীকার করাই প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচয়। কিন্তু সমাজে এমন লোক রয়েছে যারা স্বার্থোদ্ধারের পর উপকারীকে পরিহাস করতেও কুণ্ঠিত হয় না। এ-রকম ব্যবহারে তাদের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় বলে, উপকারীরাই সমাজে মর্যাদা পেয়ে থাকে।
পার্থিব জগতে জীবন সংসার বিপৎসংকুল সমুদ্রের মতো, মানুষ এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে, আশায় বুক বাধে। কেননা আশাই জীবন, জীবনের গতি। আশা আছে বলেই মানুষ বেঁচে আছে। আশা হচ্ছে আত্মার নোঙর। পৃথিবীতে সকলেই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশা করে। এজন্য মানুষের প্রাণান্তকর প্রয়াস চিরদিনের। তাই মানুষ। সর্বদা সযত্নে দুঃখকে এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু মানুষের জীবনের চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এ পথ নানা বাধা-বিগ্নে ভরা। এখানে সুখ ও দুঃখ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই বলা যায়, তরঙ্গহীন সাগর যেমন অকল্পনীয় তেমনি দুঃখ-কষ্ট ব্যতীত জীবনও কল্পনাতীত। তবু সমস্যাসংকুল সংসারে প্রতিকুল পরিবেশে আশার ওপর নির্ভর করেই মানবজীবনের দিনগুলো। অতিবাহিত হয়। বিক্ষুব্ধ তরঙ্গরাশি যেমন সাগরের বুক উত্তাল করে রাখে তেমনি সংসারপ সাগরে বহুবিধ প্রতিবন্ধকতা মানুষকে গ্রাস করতে চায়। সেই অকূল-উত্তাল দুঃখের সাগর মানুষ অতিক্রম করে আশার তরণি ভাসিয়ে। সংসার সাগরে জটিল সংকট উত্তরণে আশাই মানুষের একমাত্র অবলম্বন। আশা-আকাক্ষা না থাকলে মানুষ আশঙ্কার কাছে বারবার পরাজিত হতো। মানুষের মনোবল ভেঙে যেত। আজকের দিনের সমস্যা ও দুঃখের দিনগুলো আগামীদিন থাকবে না, আগামী দিনগুলো। ভালো হবে, সুন্দর হবে, কল্যাণ বয়ে আনবে, এই সুখের আশাতেই মানুষ স্বাভাবিকভাবে সাময়িক দুঃখ-কষ্ট মেনে নেয়। প্রকৃতপক্ষে, আশার দুয়ারে প্রতিটি মানুষই অতিথি। আশা না থাকলে মানুষ দুঃখের সমুদ্রে তলিয়ে যেত। কিন্তু আশার অমৃত রসেই মানুষ উজ্জীবিত হয়। আশা মানুষের মাঝে নিত্য নতুন শক্তি সঞ্চারিত করে। আশা না থাকলে মানুষের পক্ষে সংসারধর্ম পালন করা সম্ভবপর হতো না। কেউ কোনো কাজ করত না, মানবজীবনের অস্তিত্ব হয়ে পড়ত বিপন্ন। তাই মানুষের বেচে থাকার অবলম্বন হলো আশা; আশাই মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে প্রেরণা জোগায়। আশা মানুষকে দেয় চলার শক্তি, দেয় সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির আশ্বাস। এই আশ্বাস অফুরন্ত শক্তির উৎস। মোটকথা, আশা আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ বিশ্বজগৎকে শতভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমে ঢেলে সাজাচ্ছে এবং সাজাবেও অনন্তকাল। আশার ভেলায় ভর করেই মানুষ সহস্র দুঃখ-বেদনা আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। আশাহীন জীবন ব্যর্থতার লীলাভূমি মাত্র। আশা নামের অনির্বাণ শিখার আলোকে মানুষ অন্ধকারে পথ খুঁজে নেয়। আশার আলোকবর্তিকা হাতে ধরে মানুষ সংসার সমরাঙ্গন হতে ছিনিয়ে আনে সার্থকতার জয়মাল্য।
Related Question
View Allচর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
তন্বী = তোন্নি
'তন্বী' (তন্বী) শব্দের উচ্চারণ হলো: তন্বী (তন্-বী)।
- বিশ্লেষণ: তন্ + বী (ন-ফলা)।
এটি একটি বিশেষণ পদ, যার অর্থ সাধারণত তনুগাত্রী, কৃশাঙ্গী বা সুক্ষ্মদেহী নারী।
চিত্রকল্প = চিত্ত্রোকল্পো
চিত্রকল্প শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: চিত্রোকল্প [cit̪rokol̪p]।
উচ্চারণের নিয়ম:
- চিন্-: চ-এ হ্রস্ব-ইকার।
- -ত্রোক-: 'ত্ৰ' (ত+র) যুক্তবর্ণটি 'ত্রো' উচ্চারিত হয়।
- -ল্প: প-এর শেষে 'অ' ধ্বনি প্রায় বিলুপ্ত হয় (হসন্ত)।
বিশ্লেষণ:
চিত্রকল্প -> চৎ + রোক + ল্প।
অন্য = ওন্নো
উদ্বেগ = উদ্বেগ্
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!