গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হচ্ছে কার্যকর নির্বাচনব্যবস্থা।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর গণতন্ত্র নির্ভর করে বলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনমত। আর নির্বাচনের মাধ্যমেই জনমত প্রকাশ পায়। নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটাররা একাধিক প্রতিনিধির মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। যে দল বেশি আসন পায় সে দল সরকার গঠন করে। নির্বাচিত দল সঠিকভাবে জনগণের জন্য কাজ না করলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ সেই দলকে আর নির্বাচিত করে না। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।
প্রদত্ত ছকচিত্রের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতাকে দলীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগ এ দেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
অপরদিকে, উদ্দীপকে উল্লেখিত বাংলাদেশের অন্য দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দলীয় মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিএনপি তার দলীয় মূলনীতিতে ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত করেছে। জাতীয় পার্টি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, ইসলামি আদর্শ ও সব ধর্মের স্বাধীনতা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সামাজিক প্রগতিকে দলীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাই বলা যায়, ছকচিত্রের আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলটিই ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
'উদ্দীপকের ছকচিত্রটি বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নির্দেশ করে'- উক্তিটি সঠিক।
বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একের অধিক দল বিদ্যমান থাকে। এসব দলের প্রধান লক্ষ্য থাকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন। বহুদলীয় ব্যবস্থায় একের অধিক রাজনৈতিক দল সক্রিয় থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভারতে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। কেননা ভারতে ছোট-বড় প্রায় দুইশত রাজনৈতিক দল বর্তমান রয়েছে।
আলোচ্য ছকচিত্রটি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নির্দেশ করে। কেননা সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান এবং একের অধিক রাজনৈতিক দল বিদ্যমান। ছকচিত্রটিতে দেশের তিনটি রাজনৈতিক দল যথাক্রমে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মূলত বহুদলীয় ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। অধিকন্তু এই তিনটি প্রধান দল ছাড়াও বাংলাদেশে আরো কিছু রাজনৈতিক দল বিদ্যমান রয়েছে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান এবং এক-এর অধিক রাজনৈতিক দল তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান যা উদ্দীপকের ছকচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য । আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত রাজনৈতিক দলেরই শাসন । জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার । আর রাজনৈতিক দল ছাড়া এই গণতান্ত্রিক সরকার গঠন সম্ভব নয়। এ অধ্যায় পাঠের মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক দল কী, গণতন্ত্রের সাথে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনের সম্পর্ক, নির্বাচন কমিশন কী ইত্যাদি সম্পর্কে জানব ।
এ অধ্যায় পাঠের মাধ্যমে আমরা-
♦ রাজনৈতিক দলের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব
♦ গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব
♦ বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের বর্ণনা দিতে পারব
♦ গণতন্ত্র ও নির্বাচনের সম্পর্ক নিরূপণ করতে পারব
♦ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব ।
Related Question
View Allগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়।
'খ' ব্যক্তি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই প্রকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অথবা গোপন ভোটদান পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোেটারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনের ভোটাররা 'খ' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। অর্থাৎ 'খ' ব্যক্তি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ভোটদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটাররা গোপনে ব্যালটপেপারে পছন্দের ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট দেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের 'খ' ব্যক্তিও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ জনমত গঠনের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচির ব্যাখ্যা এবং অন্য দলের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিটিং, মিছিল কর্মসূচি পালন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা চালিয়েছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনমত গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!