হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাই রক্তচাপ।
হৃৎপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে প্রকোষ্ঠ সমূহের ক্রমাগত সংকোচন প্রসারণ যে চক্রাকারে পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সংঘটিত হয়। নিচে ধাপগুলোর নাম দেওয়া হলো-
i. অলিন্দের ডায়াস্টোল
ii. অলিন্দের সিস্টোল
iii. নিলয়ের সিস্টোল
iv. নিলয়ের ডায়াস্টোল।
উদ্দীপকের 'X' অঙ্গটি দ্বারা মানবদেহের হৃৎপিণ্ডকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো-
মানুষের হৃৎপিণ্ড দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। বাইরের স্তর প্যারাইটাল ও ভেতরেরটি ভিসেরাল পেরিকার্ডিয়াম। দুই স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বিদ্যমান যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ সহজ করে। হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। উপরের দুটি ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচের দুটি ডান ও বাম নিলয়। 'ডান অলিন্দের সাথে সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মাধ্যমে সারাদেহ থেকে সমৃদ্ধ রক্ত আসে। ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা বিদ্যমান। আবার বাম অলিন্দের সাথে পালমোনারি ধমনি যুক্ত যা রক্ত ফুসফুসে নিয়ে যায়। বাম অলিন্দের সাথে পালমোনারি শিরা যুক্ত যা ফুসফুস থেকে সমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে আনে। বাম অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝে বাইকাসপিড কপাটিকা বিদ্যমান। বাম নিলয় থেকে রক্ত অ্যাওটার মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বাম ও ডান নিলয়ে রক্তনালির সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বিদ্যমান। সমগ্র হৃৎপিণ্ডটি দুই ফুসফুসের মাঝে একটু বাম দিকে বাঁকা হয়ে অবস্থিত।
হৃৎপিণ্ড ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকার মাধ্যমে সারাদেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। এসব বাহিকাসমূহের সহায়তায় হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুটি বর্তনী বা চক্রের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত হয়। একটি হলো সিস্টেমিক সংবহন যা A থেকে B তে এবং অপরটি পালমোনারি সংবহন যা C থেকে D তে উদ্দীপকের চিত্রে দেখানো হয়েছে। নিচে উক্ত রক্তসংবহনের কৌশল বর্ণনা করা হলো- A থেকে B তে তথা সিস্টেমিক সংবহন এ বাম নিলয় থেকে রক্ত বিভিন্ন বাহিকা (ধমনি) এর মাধ্যমে অঙ্গগুলোতে পৌছায় এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে বিভিন্ন রক্ত বাহিকা (শিরা) এর মাধ্যমে ডান অলিন্দে ফিরে আসে। সব সিস্টেমিক ধমনির উদ্ভব হয় মহাধমনি থেকে আর মহাধমনির উদ্ভব ঘটে বাম নিলয় থাকে। নিলয়ের সংকোচনের ফলে বাম নিলয় থেকে রক্ত অ্যাওর্টার ভেতর দিয়ে ধমনিসমূহে প্রবেশ করে। ধমনিসমূহ কৈশিক জালিকায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গের টিস্যুতে -যুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আবার কোষ ও টিস্যু থেকেসমৃদ্ধ রক্ত কৈশিক জালিকার মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে উপশিরা, শিরা ও পরিশেষে মহাশিরা অর্থাৎ সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মাধ্যম হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে প্রবেশ করে।
C. থেকে D তে অর্থাৎ পালমোনারি বা. ফুসফুসীয় সংবহনে রক্ত হৃৎপিণ্ডের ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং ফুসফুস থেকে বাম অলিন্দে ফিরে আসে। রক্ত ডান নিলয় থেকে পালমোনারি ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসের বিনিময় ঘটে। রক্ত থেকে অপসারিত হয় এবং সেই সঙ্গে যুক্ত হয়। এ সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি শিরায় সংগৃহীত হয়ে এর মধ্য দিয়ে বাম অলিন্দে গমন করে।
সিস্টেমিক ও পালমোনারি সংবহনের কার্যক্রম বিশ্লেষণে এটাই পরিলক্ষিত হয় যে, সিস্টেমিক সংবহনে সারা দেহ হতে যে রক্ত যুক্ত হয়ে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তা আবার পালমোনারি সংবহনে ফুসফুসে, গিয়ে পরিত্যাগ করে যুক্ত হয়। পালমোনারি সংবহন শেষে হৃৎপিণ্ডে আনীত সমৃদ্ধ রক্ত পুনরায় সিস্টেমিক সংবহনের মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরিত হয়। এভাবেই দুই প্রকার সংবহন সারা দেহে রক্ত প্রবাহের অবিচ্ছিন্ন এক বর্তনী তৈরি করে।
Related Question
View Allকোষঝিল্লিতে যে সকল এনজাইম উপস্থিত থাকে সেগুলোই মেমব্রেন এনজাইম।
নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ফেনলিক, স্টেরয়েড বা প্রোটিনধর্মী পদার্থ হলো হরমোন। হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হতে অল্প পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে রক্ত বা কলারস দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি দেহের দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে এনজাইম নালিযুক্ত গ্রন্থি বা বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এটি প্রোটিনধর্মী এবং এর কার্যপদ্ধতি দ্রুত ও ফল তাৎক্ষণিক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত টিস্যুটি হলো রক্ত। রক্তের তৃতীয় উপাদানটি হলো অণুচক্রিকা। অণুচক্রিকার কাজ রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ততঞ্চন ঘটানো। মানবদেহের কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তপাত হতে থাকে। রক্তপাত বন্ধ করার জন্য উক্ত স্থানে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধা প্রয়োজন। রক্তরসে অবস্থিত ১৩টি ফ্যাক্টর রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ততঞ্চনে অংশ নেয়। এদের ধারাবাহিক কার্যকারিতার ফলে রক্তজমাট বাঁধে। রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা-করা হলো-
i. ক্ষতস্থানের কলা ও অণুচক্রিকার বাতাসের সংস্পর্শে ভাঙ্গনের ফলে প্রম্বোপ্লাস্টিন নামক এনজাইম নিঃসরণ হয়।
ii. থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তে বিদ্যমান হেপারিনকে অকেজো করে দেয় এবং রক্তরসে অবস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে প্রোপ্তম্বিন ও অন্যান্য কিছু উপাদানের সাথে ক্রিয়া করে গ্লম্বিন উৎপন্ন করে।
iii. এরপরেই গ্রন্থিন রক্তে অবস্থিত ফাইব্রিনোজেন নামক প্রোটিনের সাথে মিলে ফাইব্রিন নামক সূক্ষ্ম তন্তুর সৃষ্টি করে।
iv. ফাইব্রিন মনোমার থেকে যে ফাইব্রিন পলিমার সৃষ্টি হয় তা ক্ষতস্থানে জালের আকার ধারণ করে।
v. এরূপ ফাইব্রিন জালকে রক্তকণিকাগুলো আটকে গিয়ে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধে।
নাদিমের রক্তচাপ পরীক্ষার আগে বেড়ে গিয়ে পরীক্ষা শুরুর পর তা পুনরায় স্বাভাবিক হয়। তার রক্তচাপ পরিবর্তিত হাওয়ার মূলে রয়েছে ব্যারোরিসেপ্টর। নিচে এর কার্যকৌশল বিশ্লেষণ করা হলো-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যারোরিসেপ্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যারোটিড সাইনাস ও অ্যাওর্টিক আর্চের প্রাচীর গাত্রে উচ্চচাপ ব্যারোরিসেপ্টর অবস্থান করে। হৃৎপিণ্ডে রক্তচাপের পরিবর্তন ঘটলে এই পরিবর্তন রক্তনালির প্রাচীরে সঞ্চালিত হয় ফলে সেন্সর তথা ব্যরোরিসেপ্টরগুলো উদ্দীপ্ত হয়। ব্যারোরিসেপ্টর রক্তনালির গাত্রে রক্তচাপের স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতা অনুধাবন করে এবং তা স্নায়ুর 'মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে, ফলে হৃদস্পন্দনের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। দেহে রক্তচাপ কমে গেলে ব্যারোরিসেপ্টরেরও সংকেত মাত্রা কমে যায়। এ তথ্য স্নায়ুর মাধ্যমে হৃদপেশির দেহের আর্টারিওল ও শিরায় প্রেরণ করে। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়। আবার রক্তের আয়তন কমে গেলে আয়তন রিসেপ্টর মস্তিষ্কে বার্তা প্রেরণ করে। ফলে পিটুইটারি গ্রন্থি কর্তৃক ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায়। উক্ত হরমোন রক্তের আয়তন বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্তচাপ বাড়ায়।
অপরদিকে রক্তের আয়তন কমে গেলে বৃক্কের অন্তর্বাহী ধমনির জাক্সটা গ্লোমেরুলার কোষ থেকে রেনিন এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তের আয়তন বাড়িয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
এভাবে ব্যারোরিসেপ্টর নাদিমের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক অবস্থায় পরিবর্তিত করে।
হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাই রক্তচাপ।
হৃৎপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে প্রকোষ্ঠ সমূহের ক্রমাগত সংকোচন প্রসারণ যে চক্রাকারে পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সংঘটিত হয়। নিচে ধাপগুলোর নাম দেওয়া হলো-
i. অলিন্দের ডায়াস্টোল
ii. অলিন্দের সিস্টোল
iii. নিলয়ের সিস্টোল
iv. নিলয়ের ডায়াস্টোল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
