উত্তরঃ

উদ্দীপকের 'L' চিহ্নিত অংশটি হলো পরাগনালিকা (pollen tube)। পরাগনালিকা সপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় (reproductive process) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পরাগায়নের (pollination) পর পরাগরেণু থেকে অঙ্কুরিত হয়ে গর্ভমুণ্ড (stigma) থেকে ডিম্বাণু (ovule) পর্যন্ত পুং-গ্যামেট পরিবহনের পথ তৈরি করে।

পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়ার পর গর্ভমুণ্ডের শর্করা ও জলীয় পদার্থ শোষণ করে অঙ্কুরিত হয় এবং একটি লম্বা নল তৈরি করে, যা পরাগনালিকা (L) নামে পরিচিত। এই পরাগনালিকা গর্ভদণ্ড (style) ভেদ করে ডিম্বাশয় (ovary) এর দিকে অগ্রসর হয় এবং ডিম্বক (ovule) এ প্রবেশ করে। পরাগনালিকার মধ্যেই দুটি পুং-গ্যামেট (male gametes) থাকে, যা ডিম্বকের দিকে ধাবিত হয়।

ডিম্বকের ভেতরে প্রবেশ করার পর পরাগনালিকা ফেটে যায় এবং পুং-গ্যামেটগুলো মুক্ত হয়। এরপর একটি পুং-গ্যামেট ডিম্বাণুর (egg cell) সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (zygote) গঠন করে। এই মিলনকেই নিষেক (fertilization) বা সৃষ্টির প্রক্রিয়া বলা হয়, যা থেকে ভ্রূণ (embryo) ও ফল-বীজের সৃষ্টি হয়। এভাবেই পরাগনালিকা উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির জন্য সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করে।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে প্রদর্শিত L হলো পরাগনালি (pollen tube) এবং M হলো ডিম্বক (ovule), যার মধ্যে ডিম্বাণু (egg cell) এবং সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রীয় কোষ (central cell) থাকে। L ও M এর সংযোগ বলতে পরাগনালি কর্তৃক ডিম্বকের অভ্যন্তরে পুংজনন কোষ (male gametes) প্রবেশ করানো এবং পরবর্তী নিষেক প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। এই সংযোগের পরিণতি উদ্ভিদ প্রজননে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ফল ও বীজ গঠনে অত্যাবশ্যক ভূমিকা পালন করে।

চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পরাগরেণু (pollen grain) K চিহ্নিত গর্ভমুণ্ডে (stigma) পতিত হওয়ার পর অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি L সৃষ্টি করেছে। এই পরাগনালি গর্ভদণ্ড (style) ভেদ করে ডিম্বকের M মাইক্রোপাইল (micropyle) বা ডিম্বকরন্ধ্র দিয়ে ডিম্বকের ভেতরে প্রবেশ করে। পরাগনালির অভ্যন্তরে দুটি পুংজনন কোষ থাকে। ডিম্বকের ভেতরে প্রবেশ করে পরাগনালি তার অগ্রভাগ ফেটে যায় এবং দুটি পুংজনন কোষকে ডিম্বাণু থলিতে (embryo sac) মুক্ত করে। এরপর একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণু (egg cell) এর সাথে এবং অপর পুংজনন কোষটি কেন্দ্রীয় কোষ (central cell) এর সাথে মিলিত হয়। angiosperm উদ্ভিদে এই দুটি নিষেক একসাথে ঘটে বলে একে দ্বিনিষেক (double fertilization) বলে।

L ও M এর সংযোগের ফলে সৃষ্ট দ্বিনিষেকের পরিণতি সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, একটি পুংজনন কোষ (male gamete) এর সাথে ডিম্বাণুর (egg cell) মিলন ঘটে এবং জাইগোট (zygote) সৃষ্টি হয়। এই জাইগোট পরবর্তীতে বিভাজিত ও বিকশিত হয়ে ভ্রূণ (embryo) গঠন করে, যা নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। দ্বিতীয়ত, অপর পুংজনন কোষটি কেন্দ্রীয় কোষের (central cell) সাথে মিলিত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস (primary endosperm nucleus) গঠন করে। এই শস্য নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে শস্যকলা (endosperm tissue) তৈরি করে, যা বিকাশমান ভ্রূণের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে। এই শস্যকলা ভ্রূণের পুষ্টি যোগায়।

পরিশেষে বলা যায়, L ও M এর সংযোগের ফলস্বরূপ ডিম্বকের (M) ভেতরে জাইগোট ও শস্যকলা তৈরি হয়। এই ডিম্বক তখন বীজে (seed) পরিণত হয়। ডিম্বককে ধারণকারী গর্ভাশয় (ovary) পরিপক্ব হয়ে ফলে (fruit) রূপান্তরিত হয়। এভাবে, L ও M এর সংযোগ সপুষ্পক উদ্ভিদের বংশবিস্তার নিশ্চিত করে এবং ফল ও বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এটি উদ্ভিদের জীবনচক্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
129

প্রজনন (Reproduction) জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জীব তার জীবদ্দশায় নিজের প্রতিরূপ সৃষ্টির মাধ্যমে তার প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিন্ন ভিন্ন জীবের প্রজননের প্রক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্যগুলো লক্ষণীয়।
এই অধ্যায়ে সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং মানব প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-


•জীবে প্রজননের ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
•প্রজনন অঙ্গ হিসেবে ফুলের কাজ বর্ণনা করতে পারব।
• সপুষ্পক উদ্ভিদের জীবনচক্রের সাহায্যে উদ্ভিদের যৌন প্রজনন ব্যাখ্যা করতে পারব।
•প্রাণীর অযৌন ও যৌন প্রজনন ব্যাখ্যা করতে পারব।
• প্রজননের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বহিঃ ও অন্তঃ নিষেকের পার্থক্য করতে পারব।
• ব্লক চিত্রের সাহায্যে মানুষের প্রজননের ধাপসমূহ বর্ণনা করতে পারব।
• প্রজনন কার্যক্রমে হরমোনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• মানব ভ্রূণের বিকাশ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• মানবদেহে এইডসের সংক্রমণের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার ব্যাখ্যা করতে পারব।
• দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর এইডসের ক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
• এইডস প্রতিরোধে পোস্টার/লিফলেট অঙ্কন করে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারব।
• এইডস রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শন করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

পুংকেশরের দণ্ডের মাথায় থলের মত অংশই পরাগথলি।

747
উত্তরঃ

সপুষ্পক উদ্ভিদের ছোট একটি শাখায় ফুলগুলো একটি বিশেষ নিয়মে সজ্জিত থাকে। ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জুরী বলে। পুষ্পমঞ্জুরীর ফুলগুলো বহনকারী দণ্ডকে বলা হয় মঞ্জুরীদণ্ড। পুষ্পমঞ্জুরীতে মঞ্জুরীদণ্ডের বৃদ্ধি অসীম হলে তাকে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জুরী বলে। অনিয়ত পুষ্পমঞ্জুরীতে মঞ্জুরীদণ্ডের শীর্ষদেশ একটি মাত্র ফুলে পরিসমাপ্ত না হয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন- সরিষার পুষ্পমঞ্জুরী।

426
উত্তরঃ

P অংশটি হলো ফুলের পুংস্তবক। পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে বলা হয় পুংকেশর। পুংকেশরের মাথায় পরাগথলিতে তৈরি হয় পরাগায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-পরাগরেণু। P অংশটি ফুলটিতে না থাকলে পরাগায়নের ক্ষেত্রে যা ঘটবে তা নিম্নরূপ-

i. ফুলটিতে স্ব-পরাগায়ন ঘটবে না। অর্থাৎ পরপরাগায়ন ঘটবে।
ii. P অংশটির অনুপস্থিতিতে পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হবে।
iii. P অংশটি না থাকলে পরপরাগায়নের ফলে সৃষ্ট প্রজাতির চারিত্রিক বিশুদ্ধতা ক্ষুন্ন হবে।
iv. পরাগায়ন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
V. এ ধরনের পরাগায়নে পরাগারেণুর অপচয় ঘটবে।
vi. P অংশটির অনুপস্থিতিতে পরপরাগায়নই সম্ভব এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্ভিদে নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটতে পারে।
vii. এ ধরনের পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

493
উত্তরঃ

চিত্রের Q চিহ্নিত অংশটি হলো ফুলের গর্ভাশয় এ অংশটি উদ্ভিদের প্রজাতিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
অধিকাংশ সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন জননের মাধ্যমে তাদের বংশ বৃদ্ধি তথা প্রজাতিকে রক্ষা করে থাকে। উদ্ভিদের যৌন জনন বীজ তৈরির মাধ্যমেই ঘটে থাকে। এই বীজ থেকেই সৃষ্টি হয় নতুন উদ্ভিদ যা তার প্রজাতিকে রক্ষা করে। ফুলের Q চিহ্নিত অংশ অর্থাৎ গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে থাকে ডিম্বাশয় এবং ডিম্বাশয়ের ভেতর থাকে ডিম্বাণু (স্ত্রী গ্যামেট)। পরাগায়নের পর পরাগনালিকা গর্ভদণ্ড ভেদ করে গর্ভাশয়ে প্রবেশের পথে পরাগনালিকার অগ্রভাগে ২টি পুংগ্যামেট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরাগনালিকা ডিম্বকরন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে এবং এর অগ্রভাগ ফেটে যায়। এর পর পুংগ্যামেট দু'টির ১টি ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) তৈরি করে। অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিলিত হয়। নিষিক্ত এই গর্ভাশয় ফলে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণু বীজে পরিণত হয়। ফল পরিপক্কের সাথে সাথে বীজও পরিপুষ্ট হয়। পরিপুষ্ট বীজ অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। এভাবেই গর্ভাশয় অর্থাৎ চিহ্নিত অংশ তার অভ্যন্তরে বীজ তৈরির মাধ্যমে প্রজাতিকে রক্ষা করে থাকে।

446
উত্তরঃ

যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে স্থাপিত সম্পর্কই হলো অমরা।

356
উত্তরঃ

HIV- এর আক্রমণে AIDS রোগ হয়ে থাকে। HIV শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতি সাধন করে ও এ কণিকার এন্টিবডি তৈরিতে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। AIDS- এর আক্রমণে রোগীর মৃত্যু যেহেতু অনিবার্য এবং এর কোন ঔষধ নেই তাই একে বলা হয় ঘাতক রোগ।

724
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews