দুর্যোগ হলো এখন কোনো ঘটনা বা অবস্থা যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা যদি পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। কারণ পৃথিবীর সবকিছুই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন পরিকল্পনা টিকে থাকে না। তাই উন্নয়নকে চিরস্থায়ী করতে অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা।
উদ্দীপকে 'ক' স্থানের পর্যায়টি হলো পূর্বপ্রস্তুতি।
দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা যায় তা হলো- ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ প্রভৃতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতিতে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি চিহ্নিত করতে পারলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হ্রাস করা যায়। কেননা চিহ্নিত এলাকায় আগে থেকেই কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করলে দুর্যোগের ঝুঁকি কম হয়। দুর্যোগের পূর্বে দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে দুর্যোগপরবর্তী কার্যকম সহজ হয়। তাই পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয় যেন দুর্যোগের পরে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোল মোকাবিলার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যেন জনগোষ্ঠীর সম্পদ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জীবন, সপ্তদূ ও পরিবেশের বিপুল ক্ষতিসাধন করে। এ ক্ষতির পরিমাণ যাতে কম হয় তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পূর্বপ্রস্তুভুতিমূলক কার্যক্রম।
উদ্দীপকে 'খ' স্থানের পর্যায়টি হলো পুনরুদ্ধার। নিচে পুনরুদ্ধারের সাথে সাড়াদানের পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
অতীতে দুর্যোগে সাড়াদান সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সাড়াদান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার একটি অংশ ধরা যায়। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর তাই সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। সাড়াদানের সময় অনেকগুলো কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়। যেমন- অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম। বিপদগ্রস্ত মানুষ বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলের খোঁজ না পেলে স্বেচ্ছাসেবক দল তল্লাশি চালিয়ে তাদেরকে একত্রিত করে। অর্থাৎ দুর্যোগে কী পরিমাণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কত, কী পরিমাণ জীবজন্তু মারা গেছে, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত প্রভৃতি নিরূপণও সাড়াদানের আওতাভুক্ত। এছাড়া ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগপরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধার পর্যায় শুরু হয়। এ স্তরে দুর্যোগকবলিত এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা 'হয়। দুর্যোগে যেসব সম্পদ, মানুষ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। সাধারণত পুনরুদ্ধার পর্যায়ে যেসব পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যায় তা হলো-দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করা; ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও সেবা প্রদান; ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য সাহায্য প্রদান; প্রয়োজনে বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহণ; ক্ষতিগ্রস্তদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা এবং পূর্বে ঋণগ্রস্ত থাকলে ঋণ মওকুফ করা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়; কিন্তু এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। দুর্যোগন মোকাবিলায় পুনরুদ্ধার ও সাড়াদান উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি কার্যক্রমের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবায়ুদূষণের একটি অন্যতম উৎস হলো শিল্পকারখানার ধোঁয়া।
দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
অর্থনৈতিক দূষণের প্রত্যক্ষ ফল হলো দরিদ্রতা। যেকোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন কারণে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয় অর্থাৎ দূষণের সম্মুখীন হয় তখন উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায় আর উন্নয়ন থমকে দাঁড়ালে একটি দেশে দরিদ্রতা নেমে আসে। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণ হয়। তাই বলা যায়, দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস যার ভৌগোলিক অবস্থান নিচে দেখানো হলো।
বাংলাদেশের আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রসমূহ দেশের উত্তর-পূর্বাংশ, পূর্ব বাংলা এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সিলেট, ছাতক, রশিদপুর, তিতাস, কৈলাসটিলা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, সেমুতাং, বেগমগঞ্জ, কুতুবদিয়া, বিয়ানীবাজার, ফেনী, কামতা, ফেঞ্চুগঞ্জ, জালালাবাদ, বেলাবো, মেঘনা, শাহবাজপুর, সাঙ্গু, বিবিয়ানা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও বাঙ্গুরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এদের মধ্যে সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, যা ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির সারমর্ম হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে তেমনি কালো ধোঁয়ার হাত থেকে বায়ুদূষণ রোধ হয়।বাংলাদেশে ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শিল্প ক্ষেত্রে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ফলে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত কাঠের বিকল্প হিসেবে গ্যাস অধিক গ্রহণযোগ্য। এর ফলে কাঠের ব্যবহার হ্রাস পায় যার ফলে বনজসম্পদ রক্ষা পায়। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, কয়লার ব্যবহার অধিক হারে বায়ুদূষণ করে। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো কালো ধোঁয়া নেই। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিক ব্যবহারের ফলে যেহেতু কাঠের ব্যবহার কম হয় তাই একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে কালো ধোঁয়া না থাকায় বায়ুদূষণ রোধ হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি সঠিক।
দুর্যোগ হলো এখন কোনো ঘটনা বা অবস্থা যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা যদি পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। কারণ পৃথিবীর সবকিছুই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন পরিকল্পনা টিকে থাকে না। তাই উন্নয়নকে চিরস্থায়ী করতে অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
