১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হয়। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভাইসরয় নিযুক্ত হয়ে আসার পর তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারত বিভাগ নিয়ে একটি পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন। ভারতের ইতিহাসে সেটিই লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনা নামে পরিচিত।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত করেন। তিনি ভারতীয় নেতবৃন্দের সাথে আলোচনা করে এখানকার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত বিভাগের একটি বাস্তব পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করেন। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন এ পরিকল্পনা ঘোষিত হয়। এটিই ভারতের ইতিহাসে লর্ড ম্যাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা নামে পরিচিত।
ছকটিতে (?) চিহ্নিত স্থান লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের প্রতি ইঙ্গিত করে।
ভারত স্বাধীনতা আইন-১৯৪৭ অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো নিয়ে ভারত রাষ্ট্র এবং মুসলিম প্রধান এলাকাগুলো নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশশাসিত ভারত বিভক্ত হয়ে মুসলিমদের জন্য পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র মুসলিমদের জন্য গঠিত হলেও বিশাল ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য ছিল। এজন্য ১৯৪০ সালে উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাবে ভারতের মুসলিমপ্রধান অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ মুসলিম লীগের অবাঙালি নেতারা একাধিক রাষ্ট্রের কথা বাদ দিয়ে একটি মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের দাবি এগিয়ে নেন। এর পরিণতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান নামে মুসলিমদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল হিসেবে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়। ১৯৫৫ সালে পূর্ব বাংলার নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তানের বৃহত্তর অপর অংশ পশ্চিম পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে দুটি পৃথক রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়। আর পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে, যা উদ্দীপকে (?) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়েছে।
ছকটিতে পাকিস্তানের দুটি অংশ দ্বারা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানকে বোঝানো হয়েছে।
ভারতবর্ষের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পূর্ব বাংলা ও ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। অথচ একমাত্র ধর্ম ছাড়া দুই অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ, ভাষা, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠানের কোনো মিল ছিল না। ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তানের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল তাতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল। লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক মুসলিম লীগের বাঙালি নেতা এ কে ফজলুল হক বলেছিলেন, বাংলার শাসন ক্ষমতা কোনোমতেই কোনো কাল্পনিক ও অজানা কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। কিন্তু মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম থেকেই অখন্ড পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের দিল্লি কনভেশনে সুকৌশলে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে 'Independent States'- এর জায়গায় 'Independent State' করে এককেন্দ্রিক পাকিস্তানের কাঠামো গ্রহণ করা হয়। এর ব্যাখ্যায় জিন্নাহ বলেন, State শব্দটিই ভুল করে States হয়েছে। এভাবে শেষ পর্যন্ত দুই অঞ্চলের মধ্যে বহু পার্থক্য এবং হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্মলাভ করে।
Related Question
View Allমুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
স্বত্ববিলোপ নীতি লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার নীতি, যাতে দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না।
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না। তাছাড়া এ নীতির প্রয়োগ করে নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণটি ফুটে উঠেছে।
লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। উপমহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করত বাংলা প্রেসিডেন্সিতে । কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন এত বড় অঞ্চলকে একটিমাত্র প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংগত মনে করেন নি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
উদ্দীপকের সালেহপুর ইউনিয়ন আয়তনে অনেক বড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছিল। তাই এটিকে দুটি আলাদা ইউনিটে ভাগ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের কারণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণের ইঙ্গিত বহন করে। এটি ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরও কারণ ছিল বলে আমি মনে করি।
বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল আর্থ-সামাজিক। তৎকালীন সময়ে শিল্প- কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কোলকাতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। উন্নত সবকিছুই কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
লর্ড কার্জন ছিলেন রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সতর্ক। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল, যা তার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই কোলকাতাকেন্দ্রিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশদের Divide and rule policy (বিভেদ ও শাসন নীতি) প্রয়োগ করে ব্রিটিশ স্বার্থকে টিকিয়ে রাখাও বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু প্রশাসনিক কারণেই নয়, উল্লিখিত বিষয়গুলোও বঙ্গভঙ্গের জন্য দায়ী ছিল।
লর্ড ডালহৌসি দিল্লির মুঘল সম্রাটের পদ বিলুপ্ত করেন।
হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মাঝে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!