যেসব দ্রব্যের উপযোগ আছে, যোগান সীমাবদ্ধ, যা হস্তান্তরযোগ্য এবং যার বাহ্যিক রূপ আছে তাই সম্পদ
খনিজ এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ খুবই জরুরি। খনিজ এলাকা পরিবেশ দূষণ বা বিপর্যয়ের মধ্যে থাকলে খনিজ উত্তোলন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের ফলে খনি শ্রমিকদের নানাবিধ রোগব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।' তাই খনিজ এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ প্রয়োজন।
চিত্রের 'ক' স্থানটি হলো দিনাজপুর যেখানে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো কয়লা। কয়লা হলে। কার্বনের সমাবেশ। কার্বনের পরিমাণ বেশি হলে তাপ প্রদানের ক্ষমতাও অধিক হয়। সুতরাং তাপ প্রদানের ক্ষমতা দ্বারাই কয়লার গুণাগুণ বিচার করা হয়। গুণাগুণের বিচারে কয়লাকে অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট বা বাদামি এবং পীট কয়লা নামে শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
অ্যাস্ট্রাসাইট জাতীয় কয়লা সর্বাপেক্ষা কঠিন ও উৎকৃষ্ট শ্রেণির। এ কয়লা ঘন কৃষ্ণবর্ণ, উজ্জ্বল ও ভারি। এটা কঠিন বলে সহজে প্রজ্বলিত হতে চায় না। তবে একবার প্রজ্বলিত হলে নীল আভাযুক্ত প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয় এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জ্বলতে থাকে। এর মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। বিটুমিনাস মধ্যম শ্রেণির কয়লা। এ কয়লা কৃষ্ণবর্ণের এবং ভঙ্গুর। এটা থেকে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় কিন্তু সামান্য ধোঁয়া বের হয়। এর মধ্যে শতকরা ৮২ কার্বন, ৫ ভাগ হাইড্রোজেন থাকে। পৃথিবীর সঞ্চিত কয়লার শতকরা ৭৫ ভাগ এই শ্রেণির।
লিগনাইট জাতীয় কয়লা হলো নিকৃষ্ট শ্রেণির। এ কয়লা নরম ও ভঙ্গুর। এর রং বাদামি বলে একে বাদামি কয়লাও বলে। এতে শতকরা ৬৫ ভাগ কার্বন থাকে। এতে জলীয়বাষ্প ও গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় তাপ প্রদানের শক্তি কম। পীট সরচেয়ে নিকূট শ্রেণির কয়লা। পীটকে ঠিক কয়লা বলা চলে না। কারণ, উদ্ভিদ কয়লায় রূপান্তরিত হওয়ার এটা প্রথম স্তর। এতে ৫৯% কার্বন থাকে এবং জ্বালালে খুব ধোঁয়া হয়।
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থানটি হলো দিনাজপুর ও সিলেট যেখানে ইঙ্গিতকৃত খনিজদ্বয় হলো কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস। উভয় অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় উল্লিখিত খনিজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কয়লা পুড়িয়ে জল থেকে উদ্ভূত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুড়িয়ে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন প্রকার শিল্পে কয়লায় প্রত্যক্ষ ব্যবহার লক্ষণীয়। কয়লা থেকে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন সার তৈরি করা হয়। যা কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ইটভাটা শিল্পকারখানা প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা হয়। বনজ সম্পদ রক্ষায় কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানায় ও ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ঘোড়াশালের সার কারখানায় তিতাস গ্যাস কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কীটনাশক, ওষুধ, রাবার, প্লাস্টিক, কৃত্রিম তন্তু প্রভৃতি তৈরির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস তেলের পরিবর্তে
প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন- সিদ্ধিরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও গৃহস্থালি, যানবাহন ও বাণিজ্যিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং কৃষির উন্নতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় হ্রাস, বনজ সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পৃথক পৃথক ভূমিকা রয়েছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপ্রকৃতিপ্রদত্ত যে সকল পদার্থ হতে শক্তি পাওয়া যায় তাকেই শক্তিসম্পদ বলে।
বাংলাদেশে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি পাওয়া যায়।
যেসব কয়লায় কার্বণের পরিমাণ কম এবং ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি যেসব কয়লাকে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি। নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লায় মধ্যে পিট ও বিটুমিনাস উল্লেখযোগ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ কয়লা ক্ষেত্র থেকে বিটুমিনাস ও পিট জাতীয় কয়লার উত্তোলন করা হয়।
উদ্দীপকে 'ক' খনিজ সম্পদটি হলো লৌহ আকরিক যা সভ্যতার আধুনিকায়ন ও নগরায়ণ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। এশিয়ার মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশে লৌহ আকরিক সঞ্চিত আছে। নিচে এশিয়া মহাদেশে লৌহ
আকরিকের উৎপাদন ব্যাখ্যা করা হলো-
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইরান, জাপান, প্রভৃতি দেশে 'লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। নিচে এসব দেশে ২০১৯ সালে কী পরিমাণ লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয় তা একটি তালিকায় মাধ্যমে তুলে ধরা হলো-
ক্রমিক নং | দেশ | ২০১৯ সাল |
১ | চীন | ৩৫.০০ |
২ | ভারত | ২১.০০ |
৩ | কাজাখিস্তান | ৪.৩০ |
8 | ইরান | ৩.৮০ |
অতএব বলা যায় এশিয়া মহাদেশের বহু দেশ লৌহ আকরিক উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে 'খ' খনিজ সম্পদটি হলো- খনিজ তেল।
ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন শিলা স্তর থেকে উত্তোলিত তেলকে খনিজ তেল বলে। খনিজ তেল বিশ্বব্যাপি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই সারা বিশ্বব্যাপি এর বাণিজ্য কার্যক্রম সচল। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল উত্তোলন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ দ্বিতীয়টি নেই। মৃল্প কয়েকটি দেশ তেল সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং তেলের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ও বহুমুখী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
খনিজ তেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকারেই রপ্তানি করা হয়। অপরিশোধিত খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া প্রভৃতি প্রধান। আর আমদানিকৃত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, ইতালি, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি প্রধান।
পরিশেষে বলা যায় খণিজ তেল বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তরল সম্পদ। কৃষি, শিল্প, পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেলের প্রত্যক্ষ ব্যবহার রয়েছে। তাই সারাবিশ্ব ব্যপিই এর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা প্রভৃতি পুড়িয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে তাপবিদ্যুৎ বলে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে কয়লার সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা, প্রাণীর দেহাবশেষ সবকিছু ভূঅভ্যন্তরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
