সাইক্লোনের সময় বাতাসের বেগ থাকে ৬৩ কি. মি/ঘণ্টা বা তার বেশি।
গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার জন্য CO₂ গ্যাস ব্যাপকভাবে দায়ী। বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে CO₂ কেই গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী বলে ধরা হয়। মূলত এই প্রক্রিয়াটির ৪৯%-ই CO₂ গ্যাসের কারণে হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য D তথা শিল্পকারখানাকে দায়ী করা হয়েছে। এর কারণ নিম্নরূপ:
পৃথিবীতে বর্তমানে দ্রুত গতিতে শিল্পোন্নয়ন ঘটছে। যার ফলে দেশে দেশে প্রচুর পরিমাণে শিল্প কারখানা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সকল শিল্প কারখানা প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করছে এবং অতিরিক্ত বর্জ্য হিসেবে নির্গত করছে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক দ্রব্যাদি। এ সকল রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন গ্রীণ হাউস গ্যাস যেমন: CO2, SO2, NO2, SO3, CFC, CFC, CO ইত্যাদি উৎপন্ন করছে। এই গ্যাসগুলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এই গ্যাসগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংস করে এবং অতিমাত্রায় তাপ শোষণ করে রাখে। তাই এদের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভীষণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতএব বলা যায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য D অর্থাৎ শিল্পকারখানা সর্বাধিক দায়ী।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ বৃক্ষ নিধন এবং 'B' চিহ্নিত অংশটি বন্যা, জলোচ্ছ্বাস। এদের মধ্যে বৃক্ষ নিধন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের জন্য অধিকতর ক্ষতিকর।
বৃক্ষনিধন হলো বায়ু দূষণের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। বৃক্ষনিধনের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে ও অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে করে বায়ুতে O₂ ও CO₂ এর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর পরিমাণ বাড়লে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে করে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে মহাপ্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলশ্রুতিতে সমুদ্রতীরের এবং ভূমধ্যের অনেক নিচু দেশ প্লাবিত হবে।
এছাড়া অধিকহারে বৃক্ষ নিধনের ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়।
ফলে উক্ত এলাকা মরুভূমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের জন্যও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তবে এ ক্ষতি পূরণীয়। কিন্তু বৃক্ষনিধনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা অপূরণীয়।
অতএব, উপর্যুক্ত আলোচনা হতে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, উদ্দীপকের চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ বৃক্ষনিধন পরিবেশের জন্য অধিকতর ক্ষতিকর।
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ইত্যাদি নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে লেগেই আছে। এসব দুৰ্যোগে জানমালের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় অন্তরায়। পরিবেশের ওপর মানুষের নানারকম হস্তক্ষেপের ফলে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাম্প্রতিক কালে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা :
- বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- দুর্যোগ সৃষ্টির কারণ, প্রতিরোধ, মোকাবেলার কৌশল এবং তাৎক্ষণিক করণীয় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সুস্থ জীনযাপনে মানসম্মত ও উন্নত পরিবেশের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব
- প্রকৃতি সংরক্ষণশীলতার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব। প্রকৃতির সংরক্ষণশীলতার বিভিন্ন কৌশল বর্ণনা করতে পারব।
- নিজ এলাকায় মানসম্মত ও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টির সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি অনুসন্ধানমূলক কাজ সম্পন্ন করতে পারব।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ এবং দূর্যোগের করণীয় বিষয়ে সমাজকে সচেতন করার বিষয়ে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
- প্রকৃতির সংরক্ষণশীলতার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি বিষয়ে পোস্টার অঙ্কন করতে পাৱৰ ।
- পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!