শস্যবীজ, ডাল, আলু, খোসা সমেত টাটকা ফল এবং শাকসবজি ইত্যাদির দীর্ঘ তত্ত্বময় অংশই হলো রাফেজ।
জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য শর্করা ও আমিষ ছাড়াও বিশেষ যে খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন হয় তাই খাদ্যপ্রাণ। এটি সাধারণত খাদ্যে অতি সামান্য পরিমাণে থাকে। বিপাক ক্রিয়ায় উৎসেচকের সাথে কো- এনজাইম হিসেবে খাদ্যপ্রাণ কাজ করে। এটি প্রাণীর বৃদ্ধি ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য। এই উপাদানটি জৈব প্রকৃতির যৌগিক পদার্থ। এর অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধনসহ বিভিন্ন কাজ ব্যাহত হয়।
উদ্দীপকে একটি খাদ্য পিরামিড দেখানো হয়েছে। উল্লিখিত খাদ্য পিরামিডে খাদ্যের উপাদানগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো-
A-স্নেহ জাতীয় খাদ্য (দুধ), B-আমিষ জাতীয় খাদ্য (মাংস), C- ভিটামিন জাতীয় খাদ্য (পুঁইশাক, আম) এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য (শস্যদানা) একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন, আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডের খাদ্যগুলোর বিকল্প খাদ্য ব্যবহার করে এক দিনের দুপুরের সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
দুধের পরিবর্তে -পনির বা দই
মাংসের পরিবর্তে - মাছ বা ডাল
পুঁইশাক ও আমের বদলে- লাল শাক ও জাম
শস্যদানার পরিবর্তে- ভাত বা রুটি
আমাদের দেশে দুপুরের খাবারকে সাধারণত প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই দুপুরের খাবারে অবশ্যই উপরোক্ত সুষম খাদ্য তালিকার খাদ্য থাকা ভালো।
একটি সুষম খাদ্য পিরামিডের সর্ব নিচু স্তরে শর্করাকে রাখা হয়। আর উদ্দীপকের শস্যদানাও শর্করার উদ্ভিজ্জ উপাদান। সুতরাং উদ্দীপকের D চিহ্নিত খাদ্য উপাদানটি শর্করা। শর্করা মানুষের প্রধান খাদ্য। এটি দেহে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি ও তাপশক্তি উৎপাদন করে।
দেহের পৃষ্টি চাহিদা পূরণে শর্করার ভূমিকা অপরিহার্য। জীবদেহের বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তি লাগে তা শ্বসনের সময় শর্করা জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়। শস্যদানা হতে প্রাপ্ত প্রতিগ্রাম শর্করা জারণে ৪.১ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়। সেলুলোজ একটি অপাচ্য প্রকৃতির শর্করা। এটি আঁশযুক্ত খাদ্য যা কোষ্ঠকাঠিন্য রোধক। এছাড়া শর্করা থেকে প্রোটিন ও ফ্যাট সংশ্লেষ হয়। খাদ্যে এর অভাব ঘটলে
স্নেহ জাতীয় পদার্থের দহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে না। ফলে শরীরে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থের সৃষ্টি হয়ে কিটোসিস রোগ হয়। আবার শর্করার অভাবে দেহের ওজন কমে যায়, ক্ষুধা বেড়ে যায়, শরীর দুর্বল
হয়ে পড়ে এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এসকল কারণেই D চিহ্নিত খাদ্য উপাদানটির গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allকীভাবে ভর সূচি বা BMI নির্ণয় করা হয়?
ভর সূচি নির্ণয়ের সূত্র হলো: ভর সূচি = ওজন (কেজি) / (উচ্চতা (মি) x উচ্চতা (মি))।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির ওজন ৭০ কেজি এবং উচ্চতা ১.৭৫ মিটার হয়, তাহলে তার ভর সূচি হবে: ভর সূচি = ৭০ / (১.৭৫ x ১.৭৫) = ৭০ / ৩.০৬২৫ ≈ ২২.৮৬।
ভর সূচির ব্যবহার
প্রাপ্ত ভর সূচির মান ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর ওজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সাধারণত এই মান ব্যবহার করে ওজন-সম্পর্কিত রোগ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে থাকে।
জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ' এর অভাব জনিত একটি রোগ। জেরোফথ্যালমিয়ায়, বিটোটের দাগগুলি কনজাংটিভাল জেরোসিসের পরে দেখা দেয়। ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরােফথ্যালমিয়া নামক রােগ হয়। যখন ভিটামিন এ-এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়,তখন চোখের কর্নিয়ায় আলসার সৃষ্টি হয় সে অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া বলে।
ফল, শাকসবজি, শস্যদানা ইত্যাদি উপস্থিত সেলুলোজ নির্মিত আঁশ বা তন্তুর ন্যায় অপাচ্য অংশই হলো রাফেজ।
খাদ্যপ্রাণ বলতে সাধারণত জীবিত প্রাণী বোঝায়। অর্থাৎ, যে সকল প্রাণী খাদ্য গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায়, প্রজনন করে এবং পরিবেশের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে খাদ্যপ্রাণ বলা হয়।
খাদ্যপ্রাণের কিছু উদাহরণ:
- মানুষ: আমরা খাদ্য গ্রহণ করে শক্তি পাই এবং বেঁচে থাকি।
- প্রাণী: সকল প্রাণী, যেমন সিংহ, হাতি, পাখি, মাছ ইত্যাদি।
- পোকামাকড়: মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি।
- উদ্ভিদ: উদ্ভিদ সূর্যের আলো, পানি এবং মাটি থেকে খাদ্য তৈরি করে।
খাদ্যপ্রাণের মূল বৈশিষ্ট্য:
- জীবন: খাদ্যপ্রাণের মধ্যে জীবনের উপস্থিতি থাকে।
- বৃদ্ধি: খাদ্য গ্রহণ করে খাদ্যপ্রাণ বৃদ্ধি পায়।
- প্রজনন: খাদ্যপ্রাণ নিজের প্রজাতির বংশ বিস্তার করে।
- পরিবেশের সাথে যোগাযোগ: খাদ্যপ্রাণ পরিবেশের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে।
খাদ্যপ্রাণের শ্রেণিবিন্যাস:
খাদ্যপ্রাণকে বিভিন্ন ভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। যেমন:
- খাদ্যের ধরনের উপর ভিত্তি করে: শাকসভী, মাংসাশী, সর্বভুক ইত্যাদি।
- বাসস্থানের উপর ভিত্তি করে: স্থলচর, জলচর, উড়ুচর ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!