'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছক 'ক'-এ নির্দেশনাসমূহে যে উপাদানটির প্রভাব রয়েছে তা হচ্ছে শিক্ষা।
সামাজিক পরিবর্তনে এটি একটি বিশেষ উপাদান। শিক্ষার প্রসার সমাজের সদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে এবং যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে দেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়নও ঘটেছে।
অতএব, নারীর ক্ষমতায়ন, কুসংস্কার দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছক 'খ' এ নির্দেশকসমূহের উপাদানটি হচ্ছে শিল্পায়ন। যার একদিকে আশীর্বাদ অন্যদিকে অভিশাপ। আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত।
এদেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অধিক হারে উৎপাদন বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জাতীয় বৃদ্ধির মূলে রয়েছে শিল্পায়ন। আবার শিল্পায়নের ফলে পুরুষ, মহিলা এক সাথে কাজ করছে। শিল্পে শ্রমিকেরা অধিকাংশ সময় কাটায় সহকর্মীদের সাথে। কর্মক্ষেত্রে প্রাত্যহিক জীবনের প্রভাব ব্যক্তির সমগ্র জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তির জীবনদর্শন, আচার-আচরণ, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। শিল্পনগরীর বাসস্থান স্বল্পতা, স্বল্প মজুরি ইত্যাদি কারণে পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে একসাথে বসবাস করা সম্ভব হয় না। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে। আবার পারিবারিক সংগঠনে বিবাহবিচ্ছেদ, শিশু-কিশোরদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে সমস্যা, প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধপ্রবণতাসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। আমাদের দেশের শহরে বস্তির উদ্ভব এ শিল্পায়নের ফসল। যেসব স্থানে পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, চুড়ি শিল্প, তামাক-বিড়ি শিল্প গড়ে উঠেছে সেসব স্থানে বস্তির উদ্ভব হয়েছে, যা সামাজিক জীবনে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রাহাজানি, অপরাধ, কিশোর অপরাধের মতো বহু সামাজিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে। এসব সমস্যা আবার শৃঙ্খলিত সমস্যার সৃষ্টি করেছে, যা নগর জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।
তাই বলা যায়, শিল্পায়ন শহর অর্থনীতিতে একদিকে যেমন আশীর্বাদ অন্যদিকে অভিশাপও।
Related Question
View Allসমাজ কাঠামো ঞ্চাশ্রয় কার্যাবলির পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হলো। শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদয়া ও শ্রমদানা' কার্যক্রমের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা উপাদানের সাথে মিল রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা, বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজ জীবনে বহু কিছু সৃষ্টি করেছে; যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নারীর ভূমিকার পরিবর্তনে সমাজজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্দীপকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে বহু নারীর ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যার ফলে নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেরা আয় করতে পারছে। নারীরা উপার্জিত টাকা পরিবারের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সামাজিক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করছে। নারীর ভূমিকার এই পরিবর্তন নারীকে ক্ষমতায়নে ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বেসরকারি সংস্থা বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। যা নারী উন্নয়ন সংঘ এখন জনসংখ্যারোধ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী তাদের অবস্থার উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
তাই বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় এসে নারীরা সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!