কোনো বস্তুর সামাগ্রিক গঠন প্রণালিকে আকার বলে।
ডিজাইন যে ধরনেরই হোক না কেন রেখা ডিজাইনের বৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করে।
পোশাকে রেখার ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে লম্বা, খাটো, বেঁটে মনে হয়। লম্বা রেখায় ব্যক্তিকে লম্বা, আড়াআড়ি রেখায় মোটা ও বেঁটে দেখায়, বক্ররেখা পোশাকে ছন্দ আনে এবং বিপরীত রেখার ব্যবহারে পরিধানকারীকে সাবলীল দেখা যায়। এভাবেই রেখা পোশাকে বৈচিত্র্য আনে।
উদ্দীপকে 'C' চিহ্নিত স্থান শিল্পকলার একটি নীতি 'ছন্দ' নির্দেশ করে।
ছন্দ অনুভব করা যায়। এটি নির্ভর করে দৃষ্টির গতির ওপর। ছন্দ কারু এবং অলংকারিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ছন্দের অর্থ ধারাবাহিকতা। ছন্দের শুরু ও শেষ একই গতিতে হতে হবে। এর মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে দৃষ্টি ওঠানামা করে। গতি ও পুনরাবৃত্তি ছন্দের প্রাণ। সুশৃঙ্খল গতির ধারা প্রকাশ বা অনুভূতিই হলো ছন্দ। চোখের সন্তোষজনক আকর্ষণের মাধ্যমে পোশাকের ছন্দ ধরা পড়ে। রং, রেখা, বিন্দু, আকার প্রভৃতি পুনঃপুনঃ ব্যবহার করে ছন্দ সৃষ্টি করা যায়। পোশাকে ছন্দ বা গতি থাকতে হবে। ছন্দ পোশাকে বৈচিত্র্য আনে; পোশাক ছন্দ আনতে পারলে একঘেয়েমি দূর হয়। কোনো হালকা রঙের কামিজের সাথে সেই রঙের গাঢ় ওড়না ও সালোয়ার পরলে পোশাকে ছন্দ তৈরি হয়। সুতরাং, পোশাকের আকর্ষণীয় করতে ছন্দের গুরুত্ব রয়েছে।
উদ্দীপকে A ও B চিহ্নিত অংশ দুটি হচ্ছে ভারসাম্য ও অনুপাত।
ভারসাম্য বা সমতা বলতে সাধারণত সমানভাবে ছড়ানো ওজন বোঝায়। ভারসাম্য তিন প্রকার। যথা- ১. প্রত্যক্ষ; ২. অপ্রত্যক্ষ; ও ৩. রশ্মিগত ভারসাম্য। কেন্দ্র স্থির রেখে দুইদিকে সমান গুরুত্বের জিনিস রাখা হলে তাকে প্রত্যক্ষ ভারসাম্য বলে।
দুটি বস্তুর পারস্পরিক সমন্বয়ের মধ্যে মিলনকে সংগতি বা অনুপাত বলে। পোশাকে রং, নকশা, গঠন, আকার-আকৃতি প্রভৃতির সাথে পরস্পরের সম্পর্ক রয়েছে। এসবের পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে পোশাকের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে এবং তা আকর্ষণীয় হয়। পোশাকের ক্ষেত্রে সংগতির উল্লেখযোগ্য দিক হলো পোশাকের কাঁধ, গলা, হাত ইত্যাদি বিভিন্ন অংশের মিত্রতা বা মিল।
পোশাকে ভারসাম্য থাকতে হবে। যেমন- শাড়ির রঙের সাথে ব্লাউজের ও পেটিকোটের রং। পোশাকের এক অংশের সাথে অন্য অংশের অনুপাত ঠিক থাকতে হবে। যেমন- পোশাকের এক হাতা লম্বা ও অন্যটি খাটো, এতে অনুপাত রক্ষিত হয়নি। এছাড়া কাঁধ, গলা কোমর ইত্যাদি বিভিন্ন অংশের মধ্যে সঙ্গতি, হবে। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত রং, নকশা ও ছাপা একটি পোশাককে আকর্ষণীয় করে। সুন্দর ও আকর্ষণীয় পোশাক তৈরিতে ভারসাম্য ও অনুপাত উভয় শিল্পনীতিই গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকে ভারসাম্য ও অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। পোশাকের বিভিন্ন অংশের অনুপাত রক্ষা করতে পারলে পোশাকে ভারসাম্য আছে বলে ধরা হবে।
সুতরাং, পোশাকের সৌন্দর্য রক্ষায় ভারসাম্য ও অনুপাত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শিল্পনীতি। তাই শিল্পসম্মত পোশাক তৈরিতে 'A' ও 'B' চিহ্নিত অংশের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allশিল্পকলার একটি উপাদান হলো রং।
রঙের যথাযথ ব্যবহার পোশাকের ডিজাইনকে যেমন সুন্দর করে; তেমনি ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয় করে তোলে। ব্যক্তিত্ব বিকাশে রঙের ভূমিকা অন্যতম। যেমন- কিশোরী ও শ্যামলা
মেয়েদের জন্য উজ্জ্বল রং, বৃদ্ধ ও ফর্সা মেয়েদের জন্য হালকা রং উপযোগী। ত্রুটিপূর্ণ রং দ্বারা সৃষ্ট ডিজাইনের পোশাক পরিধানকারীর সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত রেখাটি হচ্ছে বক্ররেখা।
পোশাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রেখা একটি অন্যতম শিল্প উপাদান। রেখার মাধ্যমে পোশাকে নকশা তৈরি করা যায়। বিভিন্ন প্রকার রেখা প্রয়োগের মাধ্যমে বস্ত্রকে দেহোপযোগী করে পোশাক তৈরি করা হয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত রেখাটি ঢেউ খেলানো বাঁকানো, যা বক্ররেখার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পোশাকে বৈচিত্র্য ও ছন্দ আনতে বক্ররেখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোশাকে বক্ররেখা আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তির দৈর্ঘ্য কমায়, তবে সৌন্দর্য ও নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। উর্ধ্বমুখী বক্ররেখা আনন্দ ও উল্লাস বোঝায়। অন্যদিকে নিম্নমুখী বক্ররেখা বিষাদ ও নিরুৎসাহের ভাব আনে।
চিত্রে শিল্পকলার ভারসাম্য, অনুপাত ও ছন্দ নীতিগুলো প্রতিফলিত হয়েছে।
পোশাককে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করতে হলে শিল্পকলার নীতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া কোনো শিল্পই সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয় না। ভারসাম্য, অনুপাত ও ছন্দ এ শিল্পনীতিগুলোর প্রয়োগ পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। সুন্দর ডিজাইনের জন্য পোশাকে ভারসাম্যের প্রয়োজন রয়েছে। এর একটি উপায় হলো দুই দিকে একই ডিজাইন করা। কিন্তু যদি জামার একদিকের চেয়ে অন্যদিকে বেশি আকর্ষণীয় ডিজাইন থাকে, তখন সেটা অবশ্যই কেন্দ্রের কাছাকাছি রেখে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। পোশাকে অনুপাত বলতে একটি অংশের সঙ্গে অন্য অংশের সম্বন্ধ বোঝায়। এটি পোশাকের বর্ণ নির্বাচনকালে ও ব্যবহৃত বিভিন্ন বর্ণের সমতা রক্ষা করে। পোশাকের এক অংশের সাথে অন্য অংশের অনুপাত থাকতে হবে। এছাড়া' কাঁধ, গলা, কোমর ইত্যাদি বিভিন্ন অংশের মধ্যে পারস্পরিক সংগতি বা অনুপাত ঠিক হতে হবে। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত রং, নকশা ও ছাপা একটি পোশাককে আকর্ষণীয় করে তোলে। ডিজাইনের আরেকটি শর্ত হচ্ছে ছন্দ এবং এটি হচ্ছে কোনো জিনিসের নিয়মিত সজ্জা। পোশাকে ছন্দ বা গতি থাকতে হবে। চোখের সন্তোষজনক আকর্ষণের মাধ্যমে পোশাকে ছন্দ ধরা পড়ে। রং, রেখা, বিন্দু, আকার প্রভৃতির পুনঃপুন ব্যবহার করে ছন্দ সৃষ্টি করা খায়। কোনো হালকা রঙের শাড়ির সাথে সেই রঙের গাঢ় ব্লাউজ ব্যবহারে ছন্দ আনা যায়।
তাই বলা যায়, পোশাকে শিল্পকলার নীতিগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করে পোশাককে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
যেকোনো জিনিসকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলাই শিল্প।
জাপানি পদ্ধতিতে পুষ্পসজ্জাকে ইকেবানা বলে। ইকেবানা পদ্ধতির স্তর তিনটি। যথা-
১ম স্তর: সর্বোচ্চ ডালটি স্বর্গের প্রতীক। এটি ফুলদানির কেন্দ্রস্থলে থাকে। এই ডালকে অবলম্বন করে অন্যান্য ডালের বিন্যাস করা হয়।
২য় স্তর: এই স্তরটি মানুষের প্রতীক। এই ডালের উচ্চতা হবে প্রথম
ডালের অংশ।
য় স্তর: এই স্তরটি পৃথিবীর প্রতীক। এই স্তরটি হবে ২য় স্তরেরঅংশ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
