বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন শিল্প-কারখানা স্থাপন, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, ফ্রিজ ও এসি ব্যবহার ইত্যাদির কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার প্রাকৃতিক বিভিন্ন গ্যাস যেমন- কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন গ্যাস ইত্যাদির কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপর নেতিবাচক চাপ পড়ছে যা সরাসরি বৈশ্বয়িক উষ্ণায়ন সৃষ্টি করছে। বর্তমানে ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ ও প্রস্তরভূত জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে ক্রমবর্ধমান হারে যোগ হচ্ছে। এসব কারণে দিন দিন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়েই চলেছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো নিরক্ষীয় অঞ্চল, যেখানে অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়।
নিরক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে অক্ষাংশের মধ্যে এ বায়ু প্রবাহিত হয়। সমগ্র উষ্ণমণ্ডলের অর্ধেকের বেশি এলাকায় এই বায়ু প্রবাহিত হয়। তবে শীতকালে এ বায়ুর গতিবেগ বেশি থাকে। এ বায়ু উচ্চ অক্ষাংশ হতে নিম্ন অক্ষাংশের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুর গতিপথে বৃহৎ মরুভূমিগুলো অবস্থিত। এ বায়ুর প্রভাবে শীতল আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়।
শীতকালে এর গতি বেশি থাকে এবং শীতের শুরুতে উত্তর-পূর্ব অয়নবায়ু স্থলভাগ এবং সমুদ্রের ব্যাপক অংশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলে প্রবাহিত বায়ুপ্রবাহদ্বয় হলো অয়ন বায়ু ও পশ্চিম বায়ু। বৈশিষ্ট্যগত দিক বিবেচনায় পশ্চিমা বায়ু ও অয়ন বায়ুর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান।
অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু যখন নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হয় তখন অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে উর্ধ্বে ওঠে। উত্তর অয়ন বায়ু ঘণ্টায় ১৬ কি.মি. এবং দক্ষিণ অয়ন বায়ু ঘণ্টায় ২২.৫০ কি.মি. গতিবেগে প্রবাহিত হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোনো প্রকার আনুভূমিক প্রবাহ থাকে না। অয়ন বায়ুতে সাধারণত জলীয়বাষ্প কম থাকে বলে এ বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। এ বায়ুর যে অংশ সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তার প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকাতে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
পক্ষান্তরে, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে বলে প্রবাহিত অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়। ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় হতে দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারাবছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়। পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে স্থলভাগ বেশি থাকায় তথায় এর গতিবেগ দুর্বল থাকে। উত্তর-পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ু জলভাগের উপর দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এর গতিবেগ প্রবল থাকে। থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের এ বায়ুর আনুভূমিক প্রবাহ অনুভব হয় না বলে এ অঞ্চলকে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
সুতরাং উপরিউক্ত পশ্চিমা বায়ু ও অয়ন বায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে বলা যায় যে পশ্চিমা বায়ুর বৈশিষ্ট্য অয়ন বায়ুর মতো নয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবায়ুর অনুভূমিক গতিকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
সমুদ্রস্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এ বেঁকে যাওয়াই ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
ফেরেলের সূত্র দ্বারা প্রমাণ করে যে, আহ্নিক গতিতে পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ সূত্র অনুসারে অয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে। নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ এ স্থানীয় বায়ুর কথা বলা হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে এক ধরনের বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, একে স্থানীয় বায়ু বলে। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্বপার্শ্বের উষ্ণ ও শুষ্ক প্রবাহিত চিনুক বায়ু; পার্বত্য অঞ্চলের শীতল বায়ু পাহাড়ের উপত্যকার মধ্য দিয়ে সমভূমির দিকে প্রবাহিত ফন বায়ু; ফ্রান্সের রোন নদীর উপত্যকা দিয়ে শীতকালে দক্ষিণে সমভূমি ও দ্বীপ এলাকার দিকে প্রবাহিত মিস্টাল বায়ু; ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে যে নিম্নচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় তার পুরাভাগের সিরক্কো বায়ু এবং মিসরের দক্ষিণ দিক হতে মিশরে প্রবাহিত খামসিন বায়ু প্রভৃতি স্থানীয় বায়ু।
প্রত্যেকটি বায়ু স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তেমনি উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ুর বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-১ দ্বারা নিয়ত বায়ুকে নির্দেশ করে।
যেসব বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সবসময় একই দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় তাদের নিয়ত বায়ু বলে। ভূপৃষ্ঠের চাপবলয়গুলোর অবস্থান লক্ষ্য করলে বায়ুপ্রবাহের দিক সহজেই জানা যায়। বায়ুপ্রবাহ উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময়, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় হতে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে ওঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় হতে অয়ন নিয়ত বায়ু শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, কর্কটীয় ও মকরীয় বলয় হতে আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে পশ্চিমা নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়। আবার, মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় হতে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ – ৪০ বছরের আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
বায়ুর উষ্ণ ও শীতল অবস্থাকে বায়ুর তাপমাত্রা বলে।
তাপমাত্রার পরিমাপের উপর কোনো স্থানের জলবায়ু বহুলাংশে নির্ভরশীল। তাপমাত্রা বেশি হলে অঞ্চলটিতে উষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে। আবার তাপমাত্রা খুব কম বা মধ্যম হলে অঞ্চলটিতে যথাক্রমে মেরুদেশীয় অথবা নাতিশীতোষ্ণ বায়ুর সৃষ্টি হয়। এজন্য তাপমাত্রা জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।হসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
