সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নৈতিক গুণাবলি শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে।
শিশু যখন বিদ্যালয়ে প্রথম প্রবেশ করে, তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার দীক্ষিতকরণ শুরু হয়। সে বৃহত্তর সমাজে প্রচলিত আদবকায়দা এবং আচার-আচরণের সাথে পরিচিত হতে আরম্ভ করে। তার সহপাঠীরা বিভিন্ন পরিবার ও পরিবেশ থেকে আসে। কাজেই বৃহত্তর পটভূমিকায় সে সমাজের মূল্যবোধ, ভাবাদর্শ, সমাজ অনুমোদিত আচার-আচরণ এবং সমাজে নিষিদ্ধ কাজকর্ম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে।
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থান সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরন দাসপ্রথাকে নির্দেশ করে।
দাস সম্পর্কে এল টি হবহাউজ বলেন, দাস হচ্ছে এমন ব্যক্তি যাকে সমাজের আইন এবং প্রথা অনুসারে অন্যের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চরম অবস্থায় দাস হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে অধিকারহীন এবং কোনো ব্যক্তি বা মালিকের অস্থাবর সম্পত্তি। সাধারণ অবস্থায় দাস এমন ব্যক্তি যাকে দাস মালিক তার গরু বা গাধার মতোই মনে করে এবং গরু গাধার মতোই তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। অতএব দাস ব্যবস্থা নির্ভর সমাজ বলতে এমন এক অসমতার সমাজকে বোঝায় যেখানে কিছু লোক সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে অধিকারবিহীন অবস্থায় থাকে।
উদ্দীপকের ছকে প্রভুর অবাধ কর্তৃত্ব ও সম্পত্তি, অধিকারবিহীন জীবন, সামাজিকভাবে ঘৃণার পাত্র, সম্পত্তির অনুপস্থিতি ও জীবন্ত হাতিয়ার বিষয়গুলোর উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, উল্লিখিত বিষয়গুলো দাস সমাজব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানের জন্য যথোপযুক্ত প্রত্যয় হচ্ছে দাসপ্রথা।
'উক্ত স্তর অর্থাৎ দাসপ্রথা স্তরটি ছিল সামাজিক স্তরবিন্যাসের সবচেয়ে চরম ও নিকৃষ্ট অবস্থা।' আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মানুষের সমাজব্যবস্থার ইতিহাসে অসম সামাজিক সম্পর্কের চরমরূপ ছিল দাস সমাজব্যবস্থা বা দাসপ্রথা। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ এল. টি হবহাউজের সংজ্ঞাটি বিশেষ প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, দাস হচ্ছে এমন একজন মানুষ যাকে আইন ও প্রথা অন্যের সম্পত্তিরূপে পরিগণিত করে। চূড়ান্ত বিচারে সে যাবতীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং বিশুদ্ধ অস্থাবর' সম্পত্তি। অন্যদিকে সে কিছু নিশ্চিত বিষয়ে অধিকার সংরক্ষণ করতো, কিন্তু এটি অনেকটা ষাঁড় বা গাধার মতোই।
ইউরোপে যারা দাস শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের কোনো ভূ- সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি থাকত না। এমনকি সব রকমের মানসিক অধিকারও তাদের ইচ্ছাধীন ছিল না। তাদেরকে প্রভু বা মালিকের সম্পত্তি বলেই গণ্য করা হতো। দাসদের সামাজিক অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে সমাজচিন্তাবিদ এইচ. জে. নিবয়ের ধারণায়। তিনি বলেন, "প্রত্যেক দাসের একজন মালিক থাকে। স্বাধীন বা মুক্ত মানুষের তুলনায় দাসদের সামাজিক অবস্থান নিচু। দাস প্রথায় ব্যক্তি অবশ্যম্ভাবী শ্রমিক।"
উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, সামাজিক স্তরবিন্যাসের সবচেয়ে-চরম ও নিকৃষ্ট ধরন হলো দাসপ্রথা।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View AllCaste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।
সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাউদ্দীপকে ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।
সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
"উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় তথা সামাজিক স্তরবিন্যাস ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না'- আমি এ বক্তেব্যের সাথে একমত।
সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের উদ্ভব ঘটেছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো। এজন্য স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের আকৃতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। যুগে যুগে স্তরবিন্যাসের রূপরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কথনো বিলুপ্ত হয়নি। বাস্তবে বৈষম্যহীন বা শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সব সমাজেই কম-বেশি স্তরবিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রাচীন তথা আদিমযুগের যূথবদ্ধ সমাজ থেকে বর্তমানের আধুনিক শিল্পসমাজ সর্বত্র সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান ছিল এবং আছে। স্তরবিহীন কোনো সমাজ নেই। অর্থ-সম্পদ, মেধা, বংশ, পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ক্ষমতা, শিক্ষা এর কোনো না কোনো একটির ভিত্তিতে সমাজকে স্তরায়িত করা যায়। এ সম্পর্কে জন মিলার বলেন- শ্রেণি, পদমর্যাদা, সামাজিক উঁচুনিচু ভেদাভেদ সর্বজনীন। ক্রমান্বয়ে সামাজিক আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তনের ফলে তা সম্পত্তির মালিকানা ও পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাস। চিরন্তন ও সর্বজনীন। আর এটি সব সমাজেই বিদ্যমান। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হলো উন্নয়ন।
বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সন্তান সন্ততি যদি পিতার কাছ থেকে পায়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।
পিতৃসূত্রীয় পরিবারের নেতৃত্ব, সম্পত্তি, বংশমর্যাদা ইত্যাদি উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা থেকে পুত্রের কাছে আসে। এখানে দাদা, বাবা, পুত্র ও নাতিকে নানা, মাতা, মেয়ে ও নাতনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের প্রচলিত সমাজ ও চাকমা সমাজে এ ধরনের পরিবার প্রচলিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!