কোষ বিভাজনের শুরুতে বা একটি কোষে পরপর দুবার বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়ে নিউক্লিয়াসের প্রস্তুতিমূলক কার্যসম্পন্নকারী দশাটি হলো ইন্টারফেজ।
মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোষের নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
চিত্র-R দ্বারা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে একটি কোষ থেকে তিনটি অপত্য কোষ সৃষ্টিকে দেখানো হয়েছে যা অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফল। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে টিউমার এমনকি ক্যান্সারও সৃষ্টি হতে পারে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে একটি থেকে দু'টি, দু'টি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয়। যা কোন কোন ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ক্যান্সারেও পরিণত হতে পারে। ক্যান্সার কোষও নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল। প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার কোষ সৃষ্টি করে থাকে। এ ভাইরাসের ই, ও ই, নামের দু'টি জিন কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দু'টি প্রোটিন অণুকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় অর্বুদ। অনেক সময় এ অর্বুদ কোষে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ তথা ক্যান্সার।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-P এবং চিত্র-Q দ্বারা যথাক্রমে মিয়োসিস এবং মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ বা প্রাণীর ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ সৃষ্টি করে। জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। আবার যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড জনন কোষের মিলন ঘটে, তখন জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয় যা ডিপ্লয়েড। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখে। অপরদিকে, মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সকল বহুকোষী জীবই জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। যা পরবর্তীতে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অসংখ্য কোষ সৃষ্টি হয়ে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়। মাইটোসিসে তৈরি অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ মাতৃকোষের অনুরূপ থাকে। ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হতে পারে। এছাড়াও জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ, জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে মাইটোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবে মাইটোসিসের ফলে একই ধরনের কৌষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
তাই বলা যায়, জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিয়োসিস অপেক্ষা মাইটোসিস অধিক ভূমিকা রাখে।
এককোষী জীব থেকে শুরু করে বহুকোষী জীব পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই নানা ধরনের কোষ বিভাজন দেখা যায়। এগুলোর কোনোটি দেহবৃদ্ধি ঘটায়, কোনোটি জননকোষ সৃষ্টি করে, আবার কোনোটি দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই বিভিন্ন ধরনের কোষ বিভাজন কীভাবে হয়ে থাকে, এ সম্পর্কে আমরা এ অধ্যায়ে জানার চেষ্টা করব।
- কোষ বিভাজনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ বর্ণনা করতে পারব।
- মাইটোসিস ব্যাখ্যা করতে পারব। মাইটোসিসের পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে পারব।
- জীবদেহে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- মিয়োসিস ব্যাখ্যা করতে পারব। জননকোষ উৎপাদনে মিয়োসিসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কোষ বিভাজনের অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allপ্রাণীর দেহকোষে এবং উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু, যেমন: কাণ্ড, ভূণমুকুল, বর্ধনশীল পাতা, মুকুল ইত্যাদিতে মাইটোসিস প্রক্রিয়া ঘটে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোষের নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোসোেম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোসোেম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোসোেম সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
উদ্দীপকের B ধাপটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের টেলোফেজ ধাপ। এ ধাপটিতে যে ধরনের পরিবর্তন ঘটে তা হলো-
i. ক্রোমোসোমগুলোতে পানি যোজন ঘটে।
ii.. ক্রোমোসোমগুলো প্রসারিত হয়ে ক্রমান্বয়ে সরু ও লম্বা হয়। এরা জড়াজড়ি করে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে।
iii. দুই মেরুতে নিউক্লিয়ার রেটিকুলামের চারিদিকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন তৈরি হয়।
iv. নিউক্লিওলাসের পুনঃআবির্ভাব ঘটে।
V.বিভাজনের এ ধাপে দু'মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।
vi. এ ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্রের কাঠামো ভেঙ্গে যায় এবং স্পিন্ডল তন্তুগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
vii. এ ধাপের শেষে বিষুবীয় তলে কোষপ্লেট সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। জীবের জন্য এ প্রক্রিয়াটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে জীবদেহে নানা সমস্যা দেখা দেয়। নিচে এ সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলো-
i. বহুকোষী জীবে জাইগোট নামক একটি মাত্র কোষের মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বহুকোষী জীবদেহ গঠিত হয় এবং এদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সুতরাং, উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে জীবের দেহ গঠন ও দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
ii. মাইটোসিসের মাধ্যমে বহুকোষী জীবের জননাঙ্গ তৈরি হয়ে থাকে। তাই প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ মাইটোসিস সঠিকভাবে না ঘটলে জীবের জননাঙ্গ ঠিকভাবে তৈরি হবে না ফলে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
iii. মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য রক্ষা পায়। তাই এ বিভাজন সঠিকভাবে না ঘটলে এই ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে।
iv. মাইটোসিসের কারণেই জীবদেহের সকল কোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা সমান থাকে। সুতরাং প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে কোষে ক্রোমোসোমের এ সমতা বিনষ্ট হবে।
V. মাইটোসিস প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে না ঘটলে কোষের নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তনে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।
বহুকোষী জীবের দেহ গঠনকারী কোষই হলো Somatic Cell.
কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে কতকগুলো স্পিন্ডল তন্তুর সমন্বয়ে স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। কোষ বিভাজনের এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়। এই তন্তুগুলোকে তখন বলা হয় ট্রাকশন তত্ত্ব। সুতরাং ট্রাকশন তন্তু মূলত স্পিন্ডল তন্তু, কিন্তু যে সকল স্পিন্ডল তন্তুর সঙ্গে ক্রোমোসোম যুক্ত হয় না তাদের ট্রাকশন তন্তু বলা যায় না। এ কারণেই বলা যায় যে, সকল ট্রাকশন তন্তুই স্পিন্ডল তন্তু, কিন্তু সকল স্পিন্ডল তন্তুই ট্রাকশন তন্তু নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!