BIOS (Basic Input/Output System) হলো একটি ফার্মওয়্যার, যা কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে একটি চিপে (সাধারণত ROM বা Flash Memory) সংরক্ষিত থাকে। কম্পিউটার চালু করার সময় এটি প্রথম সক্রিয় হয়। BIOS-এর মূল ভূমিকাগুলো হলো:
১. POST (Power-On Self-Test): কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথে BIOS সিস্টেমের প্রধান হার্ডওয়্যার উপাদানগুলো (যেমন- সিপিইউ, মেমরি, কীবোর্ড, ডিস্ক ড্রাইভ) সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে। কোনো সমস্যা পেলে এটি সাধারণত বিপ সাউন্ড বা স্ক্রিনে ত্রুটি বার্তা প্রদর্শন করে।
২. বুটস্ট্র্যাপ লোডার (Bootstrap Loader): POST সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, BIOS অপারেটিং সিস্টেম খুঁজে বের করে এবং তা প্রধান মেমরিতে (RAM) লোড করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এটি হার্ড ডিস্ক, সিডি/ডিভিডি বা ইউএসবি ড্রাইভের বুট সেক্টর থেকে অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল লোড করে।
৩. হার্ডওয়্যার ইনিশিয়ালাইজেশন: BIOS সিস্টেমের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ডিভাইসকে (যেমন- গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ড) প্রাথমিক পর্যায়ে সক্রিয় করে এবং তাদের মৌলিক সেটিংস কনফিগার করে।
৪. সিস্টেম সেটিংস (CMOS Setup): BIOS একটি ইউটিলিটি (সাধারণত CMOS Setup বা BIOS Setup নামে পরিচিত) প্রদান করে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী সিস্টেমের মৌলিক কনফিগারেশন (যেমন- তারিখ ও সময়, বুট ডিভাইসের ক্রম, হার্ডওয়্যার সেটিংস) পরিবর্তন করতে পারে। এই সেটিংসগুলো CMOS (Complementary Metal-Oxide-Semiconductor) নামক একটি পৃথক চিপে সংরক্ষিত থাকে যা একটি ছোট ব্যাটারি দ্বারা চালিত হয়।
৫. অপারেটিং সিস্টেম ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে ইন্টারফেস: পুরনো সিস্টেমগুলোতে, BIOS অপারেটিং সিস্টেম এবং হার্ডওয়্যারের মধ্যে একটি মৌলিক ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করত, যদিও আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমগুলো প্রায়শই সরাসরি হার্ডওয়্যার অ্যাক্সেস করে।
বর্তমানে UEFI (Unified Extensible Firmware Interface) আধুনিক কম্পিউটারগুলোতে BIOS-এর স্থান দখল করছে, যা আরও উন্নত বৈশিষ্ট্য প্রদান করে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!