যা কিছু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোনো বিষয়কে সূচিত করে বা অন্য কোনো বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে তাকে সংকেত বলে।
সত্যসারণি গঠনের কয়েকটি প্রক্রিয়া বা নিয়ম রয়েছে। যে অপেক্ষকের সত্যসারণি গঠন করতে হবে প্রথমেই তার বর্ণের সংখ্যা লক্ষ করতে হবে। এরপর বর্ণগুলোকে সারণির বাঁ দিক থেকে কিছুটা ফাঁক দিয়ে পর পর লিখতে হবে। উপাদান বর্ণ ও মূল অপেক্ষককে যথাক্রমে বাম ও ডানদিকে বসানোর পর তাদের নিচে একটা আনুভূমিক রেখা এবং প্রত্যেক স্তম্ভের পর একটা উলম্ব রেখা টেনে দিয়ে সারি ও স্তম্ভগুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সারণির সংখ্যার ভিত্তিতে উপাদান বর্ণের নিচে সংশ্লিষ্ট বর্ণের সত্যমান লিখতে হবে। সারণির সংখ্যা বড় হলে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্তম্ভকে মাধ্যমিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
উদ্দীপকের আলোকে 'জল পড়ে পাতা নড়ে' এই প্রাকল্পিক বাক্যটিকে প্রতীকায়িত করে নিচে সত্যসারণিতে দেখানো হলো:
এখানে প্রাকল্পিক বাক্যটিকে একটু বিস্তৃত করে লিখলে পাই 'যদি জল পড়ে তবে পাতা নড়ে।' এখানে 'যদি জল পড়ে' অংশটুকুর জন্য P ধরি ও পাতা নড়ে অংশের জন্য R ধরি এবং একে প্রতীক নিয়ে প্রতীকায়িত করি তাহলে অপেক্ষকটি হবে । এ অপেক্ষকে চার ধরনের সত্যমান হতে পারে। যথা-
১. P সত্য ও R সত্য হলে, সত্য।
২. P সত্য ও R মিথ্যা হলে, মিথ্যা।
৩. P মিথ্যা ও R সত্য হলে, সত্য।
৪. P মিথ্যা ও R মিথ্যা হলে, সত্য।
সত্যসারণি গঠনের নিয়ম অনুসারে '' অপেক্ষককে নিচে সত্যসারণিতে দেখানো হলো :
স্তম্ভ | ১ম স্তম্ভ | ২য় স্তম্ভ | চূড়ান্ত স্তম্ভ |
সারি | P | R | |
১ম সারি | T | T | T |
২য় সারি | T | F | F |
৩য় সারি | F | T | T |
৪র্থ সারি | F | F | T |
উদ্দীপকের বিভিন্ন প্রকারের প্রতীক চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যেমন- ০, H, ⊃, n, , , L, >, , RX, v, I, V = f, dn + o, Q c ∴ || ∵ . প্রভৃতি। গণিত ও যুক্তিবিদ্যায় এসব প্রতীক চিহ্নের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। এখানে কিছু কিছু প্রতীক চিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। যুক্তিবিদ্যা ও | গণিতের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক হলো- 'O, H' ইংরেজি বর্ণমালার প্রতীক যুক্তিবিদ্যা ও গণিতে এদের গ্রাহক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। '⊃'এই প্রতীক যুক্তিবিদ্যায় প্রাকল্পিক বা নাল প্রতীক হিসেবে আর গণিতে উপসেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যুক্তিবিদ্যায় সর্বময় নির্দেশ করে '=' ত্রিদাঁড় প্রতীকটি। আর গণিতে সর্বময় প্রকাশ করে '' প্রতীকটি। '∴ ∵' এই দুটি প্রতীক চিহ্ন গণিত ও যুক্তিবিদ্যায় উভয়টিতে সুতরাং ও 'যেহেতু' হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
'v, /' এ প্রতীক দুটির প্রথমটি যুক্তিবিদ্যায় 'অথবা' হিসেবে এবং '/' গণিতে 'অথবা' হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে উদ্দীপকে প্রদত্ত প্রতীক চিহ্ন দ্বারা যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযে সংকেত প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে তাকে স্বাভাবিক সংকেত বলে।
সংকেত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে স্বাভাবিক সংকেত, অন্যটি কৃত্রিম সংকেত। স্বাভাবিক সংকেত হলো তাই যা প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে। যেমন- ঝড়-ঝঞ্ঝার সংকেত। কৃত্রিম সংকেত বলতে দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সংকেত ব্যবহার করে থাকি। যেমন- ট্রাফিকের লালবাতি- গাড়ি থামানোর সংকেত। এই সংকেত আমরা নিজেদের প্রয়াজনে ব্যবহার করে থাকি এবং একে আমরা তথা মানুষ সৃষ্টি করেছে। সুতরাং কৃত্রিম সংকেত হলো যা দৈনন্দিন জীবনে আমরা ব্যবহার করে থাকি।
প্রতীক বলত আমরা বুঝি যে কোনো কিছু নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কোনো কিছুর পাশে যখন (√) টিক চিহ্ন দেই তখন তা সঠিক বলে আমরা জানি। প্রতীককে মানুষ নিজ ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে থাকে। লাল বাতিকে গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি মানুষের ব্যবহার ও ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল। প্রতীক যেহেতু লিখিত বা কথিত রূপ সুতরাং এর সাথে এর অর্থের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। যেমন 'লালবাতি' প্রতীককে আমরা সব সময় সর্বক্ষেত্রে জানি। এটিকে জানার জন্য প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ এটি লিখিত রূপ বলেই সরাসরি প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না।
লালবাতি হচ্ছে একটি প্রতীক যা মানুষের ব্যাখ্যা ও ব্যবহার এর উপর নির্ভরশীল। লালবাতি প্রতীকটি প্রত্যক্ষ হলে সংকেতের রূপ নিবে। লালবাতিকে আমরা গাড়ি থামানোর প্রতীক হিসাবে জানি। যখন এটি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বলে তখন গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে বোঝানো হয়। সুতরাং লালবাতি- যেমন প্রতীক, তেমন সংকেতও বটে। লালবাতি যখন প্রতীকরূপে থাকে তখন তা কোনো ধরনের প্রত্যাশা জাগায় না। সুতরাং উদ্দীপকে যে লালবাতির কথা বলা হয়েছে তা মূলত প্রতীক এবং গাড়ি থামানোর সময় সংকেত হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে লালবাতি গাড়ি থামানোর প্রতীক। অর্থাৎ লালবাতি যদি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বালানো হয় তবে গাড়ি থেমে যায়। সুতরাং এর উপযোগিতা আছে। অর্থাৎ প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। প্রতীক বলতে এমন কিছু লিখিত বা কথিত চিহ্নকে বোঝায় যা কোনো কিছু নির্দেশ করে। লালবাতি একটি চিহ্ন যা জ্বলে উঠলেই গাড়ি থেমে যায়। প্রতীকের উপযোগিতা ব্যাপক। প্রতীকের ফলে জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। যেমন কোনো গাড়িকে ট্রাফিক পুলিশ থামাতে চাইলে লালবাতি জ্বালায় এবং গাড়িটি থেমে যায়। কিন্তু লালধাতির প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তে সে যদি চিৎকার করে তবে তা থামানো কষ্টসাধ্য বটে। সুতরাং প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতীকের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জটিল যুক্তিকে প্রতীকের মাধ্যমে আমরা সহজে প্রকাশ করতে ও বুঝতে পারি। গণিতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূকিা রাখে। কোনো বিষয় যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখন দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীকের মাধ্যমে তা সহজ করা হয়।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রাজু ও মিনার বাবার উত্তরের মাধ্যমে প্রতীকের উপযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে।
যে যুক্তিবিদ্যায় যুক্তিকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে 'সাবেকি যুক্তিবিদ্যা' বলে।
যে বাক্যকে বিশ্লেষণ করলে আর কোনো অঙ্গবচন বা উপাদান পাওয়া যায় না মূলত সেটিই হলো সরল বাক্য। যেমন- রাসেল হন একজন দার্শনিক। এ বাক্যটিকে ভেঙ্গে আর কোনো বাক্য আমরা পাই না। তাই একে পারমাণবিক বাক্যও বলা হয়। সুতরাং সরল বাক্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যে ভাগ করা যায় না। যেমন ভাবে পরমাণুকে ভাগ করা যায় না। অবশ্য এই ধারণা (পরমাণুকে ভাগ করা যায় না) আগের। সরল বাক্যকে 'নিরপেক্ষ বাক্য'ও বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
