পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে লিথোফাইট শৈবাল বলে।
বক্রসিংওভারের দুইটি গুরুত্ব নিম্নরূপ-
i. ক্রসিংওভারের ফলে দুইটি ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে জিনগত পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে সৃষ্ট জীবে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন সাধিত হয়।
ii. ক্রসিংওভারের মাধ্যমে কাক্ষিত উন্নত বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট নতুন প্রকরণ সৃষ্টি করা যায়।
উদ্দীপকের 'X' হলো Ulothrix. নামক সবুজ শৈবাল।
এটি Chlorophyceae শ্রেণিভুক্ত শৈবাল। নিচে এ শ্রেণির শৈবালের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
i. এদের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
ii. এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকায় এরা স্বভোজী।
iii. এরা সুকেন্দ্রিক এবং এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু অনুপস্থিত।
iv. এদের জননাঙ্গ সাধারণত এককোষী।
v. কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত এবং কোষে সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ।
vi. এদের জাইগোট স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভূণে পরিণত হয় না।
vii. এরা সাধারণত জলীয় পরিবেশে জন্মায়।
উদ্দীপকের Ulothrix-শৈবালটির Y ও Z দ্বারা যথাক্রমে জুস্পোর ও গ্যামিটকে নির্দেশ করা হয়েছে। উল্লিখিত জুস্পোর ও গ্যামিট যথাক্রমে মায়োসিস ও মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে। নিচে মাইটোসিস ও মায়োসিসের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
| মাইটোসিস | মায়োসিস্ |
| i. জীবের দৈহিক কোষে ঘটে ফলে দেহের বৃদ্ধি হয়। | i. জীবের জনন মাতৃকোষে ঘটে ফলে জননকোষ তৈরি হয়। |
| ii. মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়। | ii. মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়। |
| iii. মাইটোসিস বিভাজনে সৃষ্ট অপত্য কোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান হয়। | iii. মায়োসিস, বিভাজনে সৃষ্ট অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। |
| iv. নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোসোম একবার বিভাজিত হয়। | iv. নিউক্লিয়াস দুবার কিন্তু ক্রোমোসোম একবার বিভাজিত হয়। |
| v.অপত্য কোষ মাতৃকোষের সমগুন সম্পন্ন হয়ে থাকে। | V.অপত্য কোষ মাতৃকোষ থেকে ভিন্নগুণ সম্পন্ন হয়ে থাকে। |
| vi. মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কায়াজমা সৃষ্টি বা ক্রসিংওভার ঘটে না। | vi. মায়োসিস প্রক্রিয়ায় কায়াজমা সৃষ্টি ও ক্রসিংওভার ঘটে। |
যেসব উদ্ভিদের দেহকে মূল কান্ড ও পাতায় বিবক্ত করা যায় না তাদের সমাঙ্গদেহী বলে।
ক্লোরোফিল এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর এদের ২ শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যথাঃ
১.ক্লোরোফিল যুক্ত শৈবাল
২.ক্লোরোফিলবিহীন ছত্রাক
Related Question
View Allমিথোজীবিতা হচ্ছে দুটি ভিন্ন জীবের মধ্যে এমন একটি সহবস্থান যেখানে উভয়েই উপকৃত হয়।
বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও প্রকৃতিগত সাদৃশ্যপূর্ণ দুটি গ্যামিটের মিলনকে আইসোগ্যামী বলে। এই ধরনের গ্যামিট একই খ্যালাসে অথবা ভিন্ন ভিন্ন থ্যালাসে উৎপন্ন হতে পারে। কখনও কখনও ফিলামেন্ট বিশিষ্ট শৈবালের একই ফিলামেন্টের ভিন্ন ভিন্ন কোষে এগুলো উৎপন্ন হয়।
যেমন- Ulothrix |
উদ্দীপকে উল্লিখিত এ জীবটি শৈবাল। শৈবালের দৈহিক গঠন বিভিন্ন রকম হতে পারে। নিচে শৈবালের দৈহিক গঠনের পরিসর ব্যাখ্যা করা হলো-শৈবাল এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এককোষী শৈবাল সচল (ফ্লাজেলা থাকায়, যেমন- Chlamydomonas) বা নিশ্চল ফ্লাজেলাবিহীন, (যেমন- Chlorella) হতে পারে। অনেক প্রজাতি আছে যাদের অনেকগুলো কোষ একসাথে কলোনি হিসেবে অবস্থা করে (যেমন-Volvox)। বহু শৈবাল প্রজাতি আছে যাদের দেহ ফিলামেন্টাস। ফিলামেন্ট অশাখ হতে পারে (যেমন- Spirogyra, Ulothrix) আবার শাখান্বিত হতে পারে (যেমন- Chaetophora), কোনো কোনো শৈবালে বিশেষ জননাঙ্গ সৃষ্টি হয়। অনেক সামুদ্রিক শৈবালের দেহকে বাহ্যিকভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত দেখায়। যেমন- Sargassum। সমুদ্রে কিছু শৈবাল এতো লম্বা হয় যা স্থলভাগের কোনো কোনো উঁচু বৃক্ষের সমান বা তারও বেশি। কোনো কোনো শৈবাল দেখতে পর্ব-মধ্যপর্ব বিশিষ্ট মনে হয় যেমন- Chara। অনেক শৈবালের দেহ লম্বা পাতার ন্যায়, যেমন- Ulva।
উদ্দীপকে 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে শৈবাল ও ছত্রাককে নির্দেশ করা হয়েছে। শৈবাল ও ছত্রাকের পাশাপাশি সহাবস্থানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় লাইকেন নামক উদ্ভিদের। লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। এ ধরনের সহাবস্থানকে মিথোজীবিতা বলা হয়। সুতরাং লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক একে অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। লাইকেন উদ্ভিদে ছত্রাক চারিদিক থেকে শৈবালকে ঘিরে রেখে বাসস্থান প্রদান করে। ছত্রাক পরিবেশ থেকে পানি, খনিজ লবণ ও জলীয় বাষ্প ইত্যাদি শোষণ করে শৈবালকে প্রদান করে। আর শৈবাল মধ্যখানে বসে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে। প্রস্তুতকৃত খাদ্য শৈবাল ও ছত্রাক উভয়েই ভাগ করে গ্রহণ করে। এভাবে শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট লাইকেন উদ্ভিদে তারা উভয়ই একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়।
সুতরাং উদ্দীপকের A ও B দ্বারা গঠিত জীবের পারস্পরিক মিথোজীবিতা একে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সর্বদাই উপকার করে।
একটি জীবের এক সেট ক্রোমোসোমে অবস্থিত সকল জিনসহ পূর্ণাজা DNA-ই হলো জিনোম।
এক জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড এর মধ্যে যে অংশের বিনিময় ঘটে, তাকে ক্রসিংওভার বলে। মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো ক্রসিংওভার, যার ফলে জিনগত পরিবর্তন সাধিত হয়। জিনগত পরিবর্তন সাধনের ফলে সৃষ্ট জীবে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
