স্যার টমাস রো ছিলেন একজন ইংরেজ কূটনীতিক যিনি রাজা প্রথম জেমসের দূত হয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসেছিলেন।
ইউরোপীয়রা প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করে।
সাত শতক থেকে ভারতীয় অঞ্চলের সঙ্গে আরব বণিকদের একচেটিয়া ব্যবসা ছিল। তারা মূলত সমুদ্র পথে বাণিজ্য করত। ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনপোল অটোমান তুর্কিরা দখল করে নেয়। ফলে উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। তাই প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভিন্ন জলপথ আবিষ্কারের প্রয়োজন হয়। ফলে ইউরোপীয়রা ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করে।
উদ্দীপকের চাটটি দ্বৈত শাসনব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে।
১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার নাবালক পুত্র নাজিম উদ- দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়। এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে। রবার্ট ক্লাইভ এ সময় দেওয়ানি শর্ত সম্বলিত দুটি চুক্তি করেন। একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সাথে অন্যটি নাজিম-উদ-দ্দৌলার সাথে। এই চুক্তিদ্বয়ের ফলে যে দেওয়ানি লাভ করা হয় তাতে এ অঞ্চলে কোম্পানির ক্ষমতা একচেটিয়া বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
উদ্দীপকের চার্ট-এ দেখা যায়, নবাব ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং ইংরেজরা দায়িত্বহীন ক্ষমতার অধিকারী। এটি দ্বৈত শাসনব্যবস্থার প্রতিচিত্র। রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের পর যে দ্বৈত শাসনের উদ্ভব ঘটে, উদ্দীপকের চার্টটি সেই শাসন ব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে।
উক্ত শাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ দ্বৈত শাসন বাংলার জনজীবনে এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনে।
দেওয়ানি লাভের ফলে এবং নবাব কর্তৃক প্রদত্ত শর্ত অনুযায়ী শুল্কহীন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে কোম্পানির কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের অর্থলোেভ দিন দিন বাড়তে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে দেশীয় বণিকশ্রেণি এবং সাধারণ মানুষ। এছাড়া দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলা থেকে প্রচুর অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। এতে এদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত দ্বৈত শাসনের ফলাফল হয় ভয়াবহ। এ সময় খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়। ১৭৭০ সালের (১১৭৬ বাংলা) গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ইতিহাসে তা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষের ফলে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। দ্বৈত শাসনের ফলে ১৭৬৫-৭০ সালের বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের প্রায় সমান আদায় ছিল দুর্ভিক্ষের বছরও। চরম শোষণ- নির্যাতনে বাংলায় মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়েছিল।
উপরের আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, দ্বৈত শাসন বাংলার জনজীবনে অত্যন্ত বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!