যে বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
কোনো স্থানের উষ্ণতা বেশি হলে অথবা বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে কিংবা কোনো কারণে বায়ু প্রসারিত হলে তার চাপ কমে যায়। তখন ঐ স্থানে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তখন ভূপৃষ্ঠের বায়ুচাপের সমতা রক্ষার জন্য আশেপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল হতে ঐ নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। তাই বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বিদ্যমান।
মহাদেশসমূহের পশ্চিমাংশে হতে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এ. জলবায়ু দেখা যায়। ভূমধ্যসাগর এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে এ জলবায়ুর বিস্তৃতি ও প্রভাব সর্বাধিক বলে উপক্রান্তীয় মহাদেশের পশ্চিম প্রান্তের এ জলবায়ুকেও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলা হয়। এ জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না বলে এ অঞ্চলের জলবায়ু অত্যন্ত মনোরম ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল। গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা সেলসিয়াস এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা সেলসিয়াস। সমুদ্র উপকূল হতে দেশের অভ্যন্তরে তাপমাত্রার ব্যবধান কমতে থাকে। এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতীশিতোষ্ণ অঞ্চলের বলে তাপ তেমন প্রখর নয়। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত (২৫-৭৫) সেন্টিমিটার। সমুদ্র উপকূল হতে মহাদেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমতে থাকে। আকাশ প্রায়ই মেঘমুক্ত থাকে। এ অঞ্চলে শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু এবং গ্রীষ্মকালে শুষ্ক অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু এবং 'খ' অঞ্চলে মৌসুমি জলবায়ু বিদ্যমান।
বিভিন্ন ঋতুতে এ দুই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
নিচে এ দুই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ঋতুগত তারতম্য ব্যাখ্যা করা হলো-
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে ঋতুভেদে বৃষ্টিপাতের তারতম্য হয়। বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিবহুল শীতকাল এ অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। এ অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৫-৭৫ সে.মি.।
অন্যদিকে মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে শীতকাল বৃষ্টিহীন এবং গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল থাকে। এ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সমুদ্র হতে আগত বায়ু জলীয়বাষ্প বহন করে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে বিকালবেলা প্রবলবেগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়। এ অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ১২৫-২০০ সে.মি. পর্যন্ত দেখা যায়। শীতকালে স্থলভাগ হতে সমুদ্রের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয় বলে এ বায়ু জলীয়বাষ্পহীন হয়।
তাই বলা যায়, ভূমধ্যসাগরীয় ও মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের ঋতুভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরন ভিন্ন হয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে অধিক তাপ থাকে। এই অধিক তাপই জলীয়বাষ্প তৈরির মাধ্যমে সারাবছরই অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়। যেকোনো অঞ্চলে বৃক্ষ বেড়ে ওঠার জন্য তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। সারাবছর এরূপ বৃষ্টিপাত ও তাপের জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে তৌকিরের গমনকৃত অঞ্চলটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে মূলত আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহের জন্য।
শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় মহাদেশীয় ভূভাগের পশ্চিম প্রান্তে হতে ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী স্থানে যে জলবায়ু দেখা যায় তাকে পশ্চিম উপকূলবর্তী উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বলে। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশসমূহে এ শ্রেণির জলবায়ু দেখা যায়। এ কারণে এ জলবায়ুকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মৃদুভাবাপন্ন শীত ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত হওয়ার কারণে তাপের তেমন প্রখরতা অনুভূত হয় না। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল পরিলক্ষিত হয়। এ অঞ্চলে তৃণভূমির পরিমাণ কম। উদ্দীপকে তৌকিরের গমনকৃত দেশটিতে সারাবছর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে এবং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় তা ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য।
তৌকিরের নিজের দেশটি মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত এবং গমনকৃত দেশটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। অবস্থানগত কারণে এ দুই দেশের জলবায়ু ভিন্ন প্রকৃতির। নিচে মৌসুমি ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর পার্থক্য তুলে ধরা হলো।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা থেকে সেলসিয়াস এবং শীতকালীন তাপমাত্রা -সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে জুন-জুলাই মাসে সূর্য কর্কটক্রান্তির নিকটবর্তী হয় তখন চাপবলয়গুলো উত্তর দিকে সরে যায়। এ অঞ্চলে শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে শীতকাল আর্দ্র এবং গ্রীষ্মকাল শুষ্ক হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, মৌসুমি অঞ্চলে সারাবছর তাপমাত্রার পরিমাণ বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা সেলসিয়াসের বেশি থাকে। শীতকালীন তাপমাত্রা সেল সিয়াস থেকে সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এ অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ুপ্রবাহের গতি ও দিক পরিবর্তন হয় এবং বায়ুর চাপেরও বৈষম্য হয়। এ অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ১২৫ থেকে ২০৩ সেমি পর্যন্ত দেখা যায়। এ অঞ্চলে জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণত বর্ষাকালে ও গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।
সুতরাং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু এবং মৌসুমি অঞ্চলের জলবায়ু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
মৌসুমি প্রবাহিত ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে।
মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন শিল্প-কারখানা স্থাপন, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, ফ্রিজ ও এসি ব্যবহার ইত্যাদির কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার প্রাকৃতিক বিভিন্ন গ্যাস যেমন- কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন গ্যাস ইত্যাদির কারণে বায়ুমণ্ডলের ওপর নেতিবাচক চাপ পড়ছে যা সরাসরি বৈশ্বয়িক উষ্ণায়ন সৃষ্টি করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
