লেন্স হলো দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যম
কোনো লেন্সের ক্ষমতা +3D বলতে বোঝায় লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের প্রায় 33 সেমি. দূরে আলোক রশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করতে পারবে।
উদ্দীপকে AO আলোক রশ্মি OB পথে না যেয়ে OC পথে গমন করে। এর কারণ হলো আলোর প্রতিসরণ। আলোর এ ধর্মের কারণে আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন আলো দিক পরিবর্তন করে।
উদ্দীপকের চিত্রানুযায়ী NN' হলো মাধ্যমে দুটির অভিলম্ব। আলোকরশ্মি AO বরাবর আপতিত হলে AO আপতিত রশ্মি এবং বিন্দু হলো আপতন বিন্দু। প্রথম মাধ্যম হালকা এবং দ্বিতীয় মাধ্যমটি ঘন হওয়ায় আলোকরশ্মি OB পথে না গিয়ে ON'-এর দিকে সরে এসে OC বরাবর চলে যায়। এখানে OC প্রতিসরিত রশ্মি। ∠AON হলো আপতন কোণ এবং ∠CON' হলো প্রতিসরণ কোণ।
উদ্দীপক অনুযায়ী মাধ্যমন্বয় বিপরীত ধরলে এ মাধ্যম হবে ঘন মাধ্যম এবং ৮ হালকা মাধ্যম। তাহলে AO আপতিত রশ্মি NN' অভিলম্ব এবং MM' বিভেদ তল। AO রশ্মি তির্যকভাবে বিভেদতলে উপর আপতিত হচ্ছে।

আমরা জানি, আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম হতে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন প্রতিসরণের পর প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। চিত্র হতে দেখা যায় যে, AO আপতিত রশ্মি বিভেদতলে পড়ে প্রতিসরণের পর তা OB পথে না গিয়ে অভিলম্ব NN' হতে দূরে সরে OC পথে গমন করছে। ফলে প্রতিসরিত রশ্মি OC এবং প্রতিসরণ কোণ ∠CON' হবে।
সুতরাং উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রের মাধ্যমন্বয় বিপরীত হলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যাবে।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আলোর প্রয়োজনের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা চোখ বন্ধ করলে কিছুই দেখি না। আবার পুরোপুরি অন্ধকারে চোখ খোলা রাখলেও কিছু দেখতে পাই না। আলো হচ্ছে সেই নিমিত্ত, যার সাহায্যে আমরা দেখতে পাই। তোমরা আপের শ্রেণিগুলোতে আলোর বিভিন্ন ধর্মের সাথে পরিচিত হয়েছ। এই অধ্যায়ে আয়না বা দর্পণের ব্যবহার ছাড়াও আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কে আরও কিছু জানবে। এছাড়া চোখের ক্রিয়া, স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম বিন্দু, লেন্সের ক্ষমতা, চোখের ত্রুটি এবং লেন্স ব্যবহার করে চোখ ভালো রাখার উপায় জানতে পারবে।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
- দর্পণের ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব।
- আলোর প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- দৃষ্টি কার্যক্রমে চোখের ক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম বিন্দু ব্যাখ্যা করতে পারব।
- লেন্সের ক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- চোখের ত্রুটি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- লেন্স ব্যবহার করে চোখের ত্রুটি সংশোধনের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
- চোখ ভালো রাখার উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- চোখের ত্রুটি সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধান করতে পারব ।
- চোখের প্রতি যত্ন নেব এবং অন্যদের সচেতন করব।
Related Question
View Allআলোর প্রতিসরণ (Reflection of light) হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে আলোর রশ্মি একটি বিপরীত পৃষ্ঠ থেকে ফিরে আসে। এটি ঘটে যখন আলোর রশ্মি কোনো প্রতিবন্ধক বা পৃষ্ঠে আঘাত করে এবং সেই পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিসরণের দুইটি মূল ধরণ রয়েছে:
- সমতল প্রতিসরণ: যখন আলো একটি সমতল পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়, যেমন আয়না।
- বক্র প্রতিসরণ: যখন আলো বক্র পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়, যেমন জলাধার বা কোনো গোলাকার পৃষ্ঠ।
প্রতিসরণের মূল নিয়ম:
- প্রতিরূপ নিয়ম: প্রতিসরণের সময়, প্রতিসরণের কোণ (অর্থাৎ আলোর আসার কোণ) এবং প্রতিফলনের কোণ (অর্থাৎ ফিরে আসার কোণ) একে অপরের সমান হয়।
- আইনার নিয়ম: আলো যে কোন পৃষ্ঠের দিকে প্রবাহিত হয়, সেই পৃষ্ঠের সাথে প্রান্তিক অবস্থায় প্রতিসরণ ঘটে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি আয়না দেখতে পাওয়া যা আমাদের নিজস্ব প্রতিবিম্ব দেখায়, এটি আলোর প্রতিসরণের একটি বাস্তব উদাহরণ।
পদার্থবিজ্ঞানে প্রতিসরণ বলতে একটি তরঙ্গের পথ পরিবর্তনকে বোঝায়; যখন এটি একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়। তরঙ্গের গতির পরিবর্তন বা মাধ্যমের পরিবর্তনের কারণে পথ পরিবর্তন হতে পারে। আলোর প্রতিসরণ হতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তবে অন্যান্য তরঙ্গ যেমন শব্দ তরঙ্গ এবং জলতরঙ্গেও প্রতিসরণ হতে দেখা যায়।
আলো যখন একটি স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে লম্বভাবে বাকাভাবে আপতিত হয় তখন বিবেদতলে এর গতিপথের দিক পাল্টে যায়। আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন করার এই ঘটনাই হলো আলোর প্রতিসরণ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!