প্রথমবার পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয় ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে বক্তাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আরও ৩৪ জন বাঙালি সামরিক ও সিএসপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করে তাই আগরতলা মামলা নামে পরিচিত।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, শেখ মুজিবসহ এ কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা অঙ্গরাজ্যের আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সাথে এক বৈঠকে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। মামলায় ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং মওলানা ভাসানী সরকারি এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবং মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবসহ সকল বন্দির মুক্তির দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন।
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট
বজ্রাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং ভারতীয় উপমহাদেশের, একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি পাকিস্তান অন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। বাঙালি জাতির মুক্তির পেছনে তার অসাধারণ অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি জাতির পিতা বলা হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সকল ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ছয় দফা, স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব পেশ করেন। এই ছয় দফার মধ্যে প্রধান হিল বর্ষিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়নি। এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লক্ষ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে বলাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করেন।
বঙ্গবন্ধুর সাথে পাকিস্তানি শাসকদের আলোচনা বিফলে গেলে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইট নামে গণহত্যা শুরু করে। সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে বরণবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। ঐ রাতেই বজাবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীও হন। তাই বলা যায় যে, ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলির সাথে বাংলাদেশের মহান নেতা বকাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
না, শুধু ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলির মাধ্যমে উক্ত নেতার অর্থাৎ বলাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় পাওয়া যায় না।
আমরা বজাবন্দু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় পাই ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বেজাল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং বাঙালি মুসলিম নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদীর সান্নিধ্যে আসেন। এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন। পাকিস্তান ভারত পৃথক হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি 'পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ' প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই পূর্ব বাংলায় শেখ মুজিবুর রখমানের রাজনৈতিক তৎপরতার সূচনা ঘটে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে কারাবন্দিদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৫৪ এর যুজফ্রন্ট নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ আসন থেকে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন এবং সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৬১ সালে তিনি স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা।
পরিশেষে বলা যায় যে, বক্তাবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের বাঙালি জাতির জনক প্রভৃতি বিষয়গুলোর মাধ্যমেই তার সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় পাওয়া যায় না। উল্লিখিত ঘটনাবলিও তার রাজনৈতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।
Related Question
View Allবেজাল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে
বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
