তড়িৎ প্রবাহ চলার সম্পূর্ণ পথকে তড়িৎ বর্তনী বলে।
কোনো পরিবাহীর রোধ ২ ও'ম হয় যদি ঐ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য তার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের মানের দ্বিগুণ হয়। যেমন, বিভব পার্থক্য, V = 2V এবং তড়িৎপ্রবাহ, I = IA হলে ও'মের সূত্রানুসারে
রোধ
উদ্দীপকের A চিত্রটি হলো ফিউজ। নিচে এটি ব্যাখ্যা করা হলো-তড়িৎ বর্তনীতে অতিরিক্ত তড়িৎপ্রবাহ রোধ করার জন্য যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ফিউজ বলে। ফিউজ হলো নিরাপত্তা -কৌশল। ফিউজ টিন ও সীসার সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। এটি একটি চীনামাটির কাঠামোর উপর আটকানো থাকে। এ' ফিউজ তারের গলনাঙ্ক কম হয়। এর মধ্যদিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। বর্তনীতে ফিউজ 'শ্রেণিতে সংযোগ করতে হয়। বর্তনীতে ফিউজের মান কম বা বেশি হওয়া অসুবিধাজনক।
চিত্র B এর উভয়ই ও'মের সূত্র মেনে চলে না। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত দেওয়া হলো-
ও'মের সূত্র হলো- তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের মান পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। অর্থাৎ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য বেশি হলে তড়িৎপ্রবাহ বেশি হবে এবং বিভব পার্থক্য কম হলে তড়িৎ প্রবাহ কম হবে।
চিত্র B এর ১ম লেখচিত্র হতে দেখা যায়, শুরুর দিকে বিভবপার্থক্য বাড়ার সাথে সাথে তড়িৎপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তড়িৎপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট মান প্রাপ্ত হওয়ার পর বিভব পার্থক্য বাড়ানো হলেও তড়িৎপ্রবাহ বাড়েনি। তাই এটি ও'মের সূত্র মেনে চলে না।
২য় লেখচিত্র হতে দেখা যায় বিভবপার্থক্য বৃদ্ধির সাথে সাথে তড়িৎপ্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এটি ও'মের সূত্র মেনে চলেছে।
বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। এ প্রবাহ আবার দু'রকম- এসি এবং ডিসি প্রবাহ। কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য। এই বর্তনীতে তড়িত্যন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়। এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য অ্যামিটার বা যেকোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• এসি এবং ডিসি প্রবাহের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
• তড়িৎ বর্তনীতে রোধ, ফিউজ এবং চাবির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
• তড়িৎ প্রবাহ এবং বিভব পার্থক্যের মধ্যকার সম্পর্ক লেখচিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারব,
• শ্রেণি ও সমান্তরাল বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ এবং বিভব পার্থক্যের ভিন্নতা প্রদর্শন করত পারব;
• তড়িৎ প্রবাহ এবং বিভব পার্থক্য পরিমাপে অ্যামিটার ও ভোল্টমিটারের সঠিক ব্যবহার করতে পারব;
• তড়িতের কার্যকর ব্যবহার এবং অপচয় রোধে নিজে সচেতন হব এবং অন্যদের সচেতন করব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
