সংঘ হচ্ছে এমন একটি জনগোষ্ঠী যারা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কোনো সীমিত সংখ্যক উদ্দেশ্যের জন্য একত্রিত হয়।
পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো সামাজিক নিয়ন্ত্রণ। সামাজিক মূল্যবোধ, প্রথা, রীতিনীতি, আচার-ব্যবহার, অভ্যাস ইত্যাদি কীভাবে মেনে চলতে হয় শিশুরা সে সম্পর্কে পরিবারেই প্রথম শিক্ষালাভ করে। পরিবার থেকে অর্জিত এ জ্ঞান শিশুর পরবর্তী জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ফলে সে সমাজ নিয়ন্ত্রিত বা সমাজ আকাঙ্ক্ষিত ধারায় চলতে পারে। তাই বলা যায়, পরিবার সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-এর '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজ নামক মৌল প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
সমাজ হলো সমাজবিজ্ঞানের সবচেয়ে পরিচিত প্রত্যয়। সাধারণত সমাজ বলতে একত্রে বসবাস করাকে বোঝায়। আবার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সমগ্রতাকেও সমাজ বলা হয়। সমাজের প্রকৃত রূপু কিছু সমাজবিজ্ঞানীর ভাষায় ফুটে উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, সমাজ অর্থ হলো সহযোগিতা। সমাজ হলো যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী মরিস জিন্সবার্গ সমাজের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, মানুষের সাথে মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, সংগঠিত বা অসংগঠিত, সচেতন বা অসচেতন, সহযোগিতা বা বৈরিতামূলক সব সম্পর্কই সমাজের অন্তর্ভুক্ত। মোটকথা মানুষ তথা জনগোষ্ঠী এবং তাদের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্কগুলো উভয়ই সমাজ গঠনের জন্য জরুরি।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-এর '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' ও 'খ'-তে যথাক্রমে সমাজ ও সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে। এ দুটি বিষয় সমাজবিজ্ঞানের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। তবে উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের জটিল জাল। পক্ষান্তরে, সম্প্রদায় নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ জীবনযাত্রার অংশীদারী জনগোষ্ঠী। সমাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকা থাকা অপরিহার্য নয়। সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বসবাসের নির্দিষ্ট অঞ্চল থাকা জরুরি। সমাজ হলো বিমূর্ত। সম্প্রদায় অনেকখানি মূর্ত।
সমাজের ক্ষেত্রে 'সম্প্রদায়গত চেতনা' অথবা 'আমরা বোধ' বিদ্যমান থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। কিন্তু এমন চেতনা ছাড়া সম্প্রদায় সম্ভব নয়। সমাজ অপেক্ষাকৃত বৃহৎ। সম্প্রদায় সমাজের চেয়ে আকারে ছোট। সমাজে অভিন্নতা ও বিভিন্নতা দুটিই বিদ্যমান। সম্প্রদায়ে বিভিন্নতার চেয়ে অভিন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ হলো সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তী ধাপ। সম্প্রদায় হলো সমাজের পরবর্তী ধাপ। সমাজ হলো একটি সামগ্রিক বিষয়। সম্প্রদায় হলো তার অংশ বিশেষ।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সমাজ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশকিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকমার্কসীয় তত্ত্বানুযায়ী শ্রেণির প্রকৃতি উৎপাদন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
জনসাধারণের পেশা ভৌগোলিক প্রভাবে নির্ধারিত হয় এবং তা সমাজজীবনকে প্রভাবিত করে।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। শীতলক্ষ্যার উপকূলে ডেমরা অঞ্চলে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো যে, শীতলক্ষ্যার পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাঁত-সুতার নমনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাঁতিদের সুতিবস্ত্র বয়নে সুবিধা হয়। বাংলাদেশের সিলেটে ও আসামে গড়ে ওঠেছে চা শিল্প। এই শিল্পের মাধ্যমেও মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, আর এসব শিল্পের উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে 'ভৌগোলিক পরিবেশ'।
উদ্দীপকের শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্ল মার্কস বলেন, প্রতিটি মানবসমাজ দুটি বিবদমান শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিক এবং অন্যটি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিকানা থেকে বঞ্চিত অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণি। ঠিক এমনিভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজকেও কার্ল মার্কস পুঁজিপতি ও সর্বহারা শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজিপতি শ্রেণি কর্তৃক শ্রমিক শ্রেণিকে অত্যধিক শোষণের ফলে এ সমাজে শ্রেণিসংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে - দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, জমির আলী যে গার্মেন্টসে কাজ করেন সেখানে শ্রমিকদের মজুরি খুবই কম। তাই জমির আলী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেন। জমির আলী ও শ্রমিকদের এই আন্দোলন কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই বলা যায়, জমির আলী ও শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিজ্ঞানের জনক এডউইন এইচ, সাদারল্যান্ড।
ক্রিয়াবাদের জনক ডুর্খেইম তার ক্রিয়াবাদের ব্যাখ্যায় সমাজকে জীবদেহের সাথে তুলনা করেন।
একটি জীব বা একজন ব্যক্তিমানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে এবং জীবদেহ বা ব্যক্তিমানুষকে সচল রাখার জন্য তার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তাদের কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করলেই ব্যক্তিমানুষ সচল থাকে। তেমনি সমাজেরও থাকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অংশ। সমাজ সচল থাকে তখনই যখন সমাজের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ কর্ম ও দায়িত্ব পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!