উত্তরঃ

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পৌষ্টিকনালির ভেতরে জটিল খাদ্য নির্দিষ্ট এনজাইমের ক্রিয়ায় বিশ্লেষিত হয়ে শোষণযোগ্য খাদ্যসারে পরিণত হয় সেই প্রক্রিয়াই হলো পরিপাক।

উত্তরঃ

আঁশযুক্ত খাবারকে রাফেজযুক্ত খাবার বলে। যেমন: শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, উদ্ভিদের ডাটা, ফলমূল, পাতার আঁশ ইত্যাদি। এগুলো জটিল শর্করা। এ ধরনের খাবার খেলে স্থূলতা, ক্ষুধা প্রবণতা ও চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাস পায়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের A অংশটি হলো ডিওডেনাম এবং X ও Y অংশ দুটি যথাক্রমে যকৃত ও অগ্ন্যাশয়। মানবদেহে পরিপাক প্রক্রিয়া চলাকালে পাকস্থলি থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত পাচকরস দ্বারা আমিষ ও স্নেহ পদার্থের পরিপাক শুরু হয়। যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে। পিত্তলবণের সংস্পর্শে স্নেহ বা চর্বি পদার্থ সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত হয়। চর্বি বিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

চর্বি   লাইপেজ  ফ্যাটি এসিড + গ্লিসারল

আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রের ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিড ও সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।

আমিষ ট্রিপসিন অ্যামাইনো এসিড + সরল পেপটাইড

এভাবে ডিওডেনামে চর্বি ও আমিষ পরিপাকে যকৃত ও অগ্ন্যাশয় ভূমিকা রাখে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের X অংশটি হলো যকৃত এবং Y অংশটি হলো অগ্ন্যাশয়। যকৃতকে রাসায়নিক গবেষণাগার এবং অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। যকৃত পিত্তরস তৈরি করে, গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করে, অ্যামাইনো এসিডের মাত্রা নির্দিষ্ট রাখে। পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকণা ভাঙতে সহায়তা করে, খাদ্যের অম্লভাব দূর করে। যকৃতে এইরূপ বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে বলে একে 'রাসায়নিক গবেষণাগার' বলা হয়।

আবার, অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়। কারণ এটি একই সাথে বহিঃক্ষরা এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। বহিঃক্ষরা হিসেবে পরিপাকের সময় এনজাইম নিঃসৃত করে। এনজাইমগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। আবার অন্তঃক্ষরা হিসেবে বিভিন্ন হরমোন নিঃসৃত করে। হরমোনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইনসুলিন যা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।

103

জীবমাত্রই খাদ্য গ্রহণ করে, কারণ জীবের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। তবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ভিন্ন। জীবের পুষ্টির জন্য বিভিন্ন উপাদানের প্রয়োজন হয়। মানবদেহের জন্য খাদ্য, পুষ্টি ও পরিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদের পুষ্টি এ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়।

 

  • উদ্ভিদের পুষ্টির অতি প্রয়োজনীয় উপাদান বর্ণনা করতে পারব।
  •  উদ্ভিদে পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণ বিশ্লেষণ করতে পারব। 
  • প্রাণীর খাদ্যের প্রধান উপাদান ও উৎস বর্ণনা করতে পারব।
  • আদর্শ খাদ্য পিরামিড ব্যাখ্যা করতে পারব। খাদ্য গ্রহণের নিয়মনীতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • পুষ্টির অভাবজনিত রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার বর্ণনা করতে পারব। 
  • কিলোক্যালরি ও কিলোজুল ব্যাখ্যা করতে পারব। 
  • পুষ্টি উপাদানে শক্তির পরিমাণ এবং ক্যালরি ও জুলে এদের রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব।
  •  বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ও বডি মাস রেশিওর (বিএমআর) গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব। 
  • বিএমআই ও বিএমআরের হিসাব করতে পারব।
  •  বিএমআর এবং ব্যয়িত শক্তির সাথে সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারব। 
  • বয়স ও লিঙ্গভেদে বিএমআই হিসাব করতে পারব। 
  • সুস্থ জীবনযাপনে শরীরচর্চা ও বিশ্রামের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
  •  খাদ্য সংরক্ষণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব। খাদ্যে অতিমাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ এবং রঞ্জক ব্যবহারের শারীরিক বিক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে পারব।
  •  পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রধান অংশ ও সহায়তাকারী অঙ্গের গঠন ও কাজ বর্ণনা করতে পারব। 
  • পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রধান অংশের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব। যকৃতের (Liver) কাজ বর্ণনা করতে পারব। 
  •  অগ্ন্যাশয়ের কাজ বর্ণনা করতে পারব। 
  • খাদ্য পরিপাকে উৎসেচকের (Enzyme) ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব। 
  •  অস্ত্রের বিভিন্ন সমস্যাজনিত রোগ এবং এর প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব। 
  • পরিপাকতন্ত্রের রোগের বিষয়ে নিজে সচেতন হব এবং পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করব। 
  • সাত দিনের গৃহীত খাদ্যের একটি তালিকা তৈরি করে এটিকে সুষম খাদ্যের সাথে তুলনা করতে পারব। 
  • স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে পুষ্টির অবদান বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব। 
  • স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে পুষ্টির অবদান বিষয়ে নিজে সচেতন হব অন্যদের সচেতন করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিভিন্ন ধরনের প্রাণিজ আমিষ যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, যকৃত ইত্যাদি উচ্চমানের আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় যার সবকয়টা উদ্ভিজ্জ আমিষে থাকে না। তাই প্রাণিজ আমিষের জৈবমূল্য অনেক বেশি। সে জন্য প্রাণিজ আমিষকে উচ্চমানের আমিষ বলে।

873
উত্তরঃ

উদ্দীপকে জহির জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হওয়ায় তাকে তার পেশার স্বার্থেই প্রতিদিন খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতের মাধ্যমে শরীরের শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে তার দেহে অধিক তাপ ও শক্তির যোগান দেবে এরূপ খাদ্যের চাহিদা অধিক থাকে। তাই তাকে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। যেমন- ঘি, মাখন, ডিম, দুধ, বাদাম, চর্বিযুক্ত মাংস ইত্যাদি খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সে প্রচুর স্নেহ বা চর্বি উপাদানের সরবরাহ পাবে।

এছাড়া দুধ, ডিম, বাদাম, ডাল, মাংস ইত্যাদি খাবারের আমিষ তার দেহের ক্ষয়পূরণ করে দেহ গঠনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া দেহে শক্তি উৎপাদনের অন্যতম উৎস হলো শর্করা জাতীয় খাবার। এজন্য ভাত, আলু, রুটি, চিনি, দুধ ইত্যাদি শর্করা যুক্ত খাবার জহিরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে।

401
উত্তরঃ

আলোচ্য উদ্দীপকে জহির একজন ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ায় তাকে প্রতিদিন প্রচুর দৌড়াতে ও শারীরিক কসরত করতে হয়। ফলে তার মৌল বিপাকের হার বেশি এবং অধিক সময় ধরে তার দেহের মাংসপেশি সংকোচিত প্রসারিত হয় তাই তার খাদ্যের চাহিদাও বেশি। কিন্তু তার বড় ভাই ড. রায়হান দিনের অধিকাংশ সময় গবেষণাগারে বসে সময় কাটান বলে জহিরের মতো তার দেহের মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ হয় না। তাই শারীরিক পরিশ্রম কম করাতে তার উচ্চ শক্তি সরবরাহকারী খাদ্যের চাহিদাও কম। কাজেই BMR বা বেসাল মেটাবলিক রেট জহিরের তুলনায় ড. রায়হানের অনেক কম। এজন্য জহিরের মতো উচ্চ তাপশক্তি সরবরাহকারী চর্বিযুক্ত খাবার ও অন্যান্য উপাদানের খাবার যদি ড. রায়হান অধিক গ্রহণ করেন তবে তা তার শরীরে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে তা তার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমাবে এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হবে। এজন্য ড. রায়হানের খাদ্য তালিকায় তার ছোট ভাইয়ের চেয়ে তুলনামূলক কম পরিমাণ খাবার থাকবে এবং জহিরের মতো চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া তার মোটেই উচিত হবে না।

376
উত্তরঃ

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান অত্যন্ত কম পরিমাণে প্রয়োজন হয় তারাই হলো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট । 

815
উত্তরঃ

উদ্ভিদের প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকেই সমষ্টিগতভাবে 'অত্যাবশ্যকীয় উপাদান' বলা হয়। কারণ এদের যে কোন একটির অভাব হলেই উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হয়ে এর অভাবজনিত লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং পুষ্টির অভাব জনিত রোগের সৃষ্টি হয়।

1.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews