রক্তকে পাম্প দিয়ে শরীর থেকে বের করে বর্জ্য পদার্থ অপসারণের উদ্দেশ্যে পরিসুত করে আবার দেহে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াই হলো হিমোডায়ালাইসিস।
গবিনী হলো প্রতিটি বৃক্কের রেনাল সাইনাস হতে উৎপন্ন অনৈচ্ছিক পেশিযুক্ত নালিবিশেষ। এর দৈর্ঘ্য ৩০-৩৫ সে.মি.। গবিনী বৃক্কের পেলভিস হতে উৎপন্ন হয়ে তীর্যকভাবে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে। বৃক্কে উৎপন্ন মূত্র এর মাধ্যমে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে।
উদ্দীপকের B অংশটি হলো রেনাল করপাসল। নেফ্রনের অগ্রপ্রান্তকে বলা হয় রেনার করপাসল। রেনাল করপাসল এর গঠন ও কাজ নিম্নে বর্ণিত হলো-
এটি বৃক্কের কর্টেক্সে অবস্থিত এবং বোম্যানস ক্যাপসুল ও গ্লোমেরুলাস নিয়ে গঠিত। বোম্যানস ক্যাপসুল আঁইশাকার এপিথেলিয়ামে গঠিত দ্বিস্তরী পেয়ালার মতো প্রসারিত অংশ যা রেনাল করপাসলে গ্লোমেরুলার কৈশিক জালিকাগুচ্ছকে ঘিরে অবস্থান করে। এর গ্লোমেরুলাস সংলগ্ন স্তর হলো ভিসেরাল, বহিঃপ্রাচীর প্যারাইটাল স্তর এবং দুই স্তরের মাঝখানে সংকীর্ণ গহ্বর ক্যাপসুলার স্পেস নামে পরিচিত। বোম্যানস ক্যাপসুলের অভ্যন্তরে ঘনিষ্টভাবে গ্লোমেরুলাস অবস্থান করে। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট একটি ক্ষুদ্র অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল বোম্যানস ক্যাপস্যুলে প্রবেশ করে এবং ৫০-৬০টি কৈশিক জালিকায় বিভক্ত হয়ে গ্লোমেরুলাস গঠন করে।
কাজ: রেনাল করপাসলে রক্তের আল্ট্রাফিলট্রেশন বা অতি সূক্ষ্ম ছাঁকন ঘটে, এবং রক্ত হতে রেচন বর্জ্য, পানিসহ অন্যান্য দ্রব্য পরিদ্রুত হয়ে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট হিসেবে বোম্যান্স ক্যাপসুলে জমা হয়।
উদ্দীপকের A-অভাটি হলো বৃদ্ধ এবং এটি অসমোরেগুলেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেহাভ্যন্তরের কোষ কলায় বিদ্যমান পানি ও বিভিন্ন লবণের ভারসাম্যতা রক্ষার কৌশলকে অভিস্রবণ নিয়ন্ত্রণ বা অসমোরেগুলেশন বলে। বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুণঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে ১২০ মিলিলিটার পানি পুনঃশোষিত হয় এবং ১ মিলিলিটার মূত্র নির্গত হয়। বৃক্ক দেহ থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি বিমুক্ত করে দেহে 'লবণ সাম্যতা নিয়ন্ত্রণ করে। বৃক্কের অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স থেকে ক্ষরিত হরমোন অ্যান্ডোস্টেরনের প্রভাবে মূত্র, ও ঘাম থেকে-সোডিয়াম ক্লোরাইড পুনঃশোষণ ও পটাশিয়ামের নির্গমন নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে দেহের অন্তঃকোষীয় ও বহিঃকোষীয় তরলে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্লোরাইডের সাম্যবস্থা বজায় থাকে। বিপাকজাত দূষিত পদার্থ বিশেষ করে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ-ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া প্রভৃতি মূত্রের সাথে দেহ থেকে অপসারিত হয় বৃক্কের মাধ্যমে। এছাড়াও দেহে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ বা মাত্রাতিরিক্ত গৃহীত ওষুধ প্রভৃতিকে বৃদ্ধ মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গমণ করে। এভাবেই বৃদ্ধ অসমোরেগুলেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allপ্রাণিকোষে রিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো রেচন।
গ্লোমেরুলাস রক্তের হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপে। রক্তের প্রোটিন ও রক্তকণিকা ছাড়া সকল পানি, লবণ, শর্করা, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড প্রভৃতি পরিস্রাবণ প্রক্রিয়ায় কৈশিকজালিকার এন্ডোথেলিয়াম ও ভিত্তিঝিল্লি এবং রেনাল ক্যাপসুলের এপিথেলিয়াম ভেদ করে ক্যাপসুলের স্পেসে জমা হয়। এ পরিদ্রুত তরলকে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের সূক্ষ্ম গাঠনিক একক হলো নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের সূক্ষ্ম গঠন বর্ণনা করা হলো-
নেফ্রনের দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার। নেফ্রন প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। মালপিজিয়ান করপাসল ও বৃক্কীয় নালিকা। মালপিজিয়ান করপাসল বৃক্কের কর্টেক্সে অবস্থিত। এটি দুটি অংশে বিভক্ত- বোম্যান্স ক্যাপসুল ও গ্লোমেরুলাস। বৃক্কীয় নালিকা 'রেনাল করপাসল, প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকা, হেনলির লুপ, ডিস্টাল প্যাঁচানো নালিকা ও সংগ্রাহক নালিকা নিয়ে গঠিত। রেনাল করপাসল নেফ্রনের সম্মুখভাগে থাকে। এটি বোম্যানস ক্যাপসুল এবং গ্লোমেরুলাস সমন্বয়ে গঠিত। রেনাল করপাসলের পরবর্তী প্রায় ১৪ মি.মি. অংশকে প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকা বলে যা এক স্তর বিশিষ্ট কিউবয়ডাল এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলোর একপ্রান্তে মাইক্রোভিলাইযুক্ত ব্রাশ বর্ডার এবং অপরপ্রান্তে ব্যাসাল চ্যানেল থাকে। এ নালিকার শেষপ্রান্ত সোজা হয়ে মেডুলা অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং একটি 'U' আকৃতির লুপ গঠন করে যা হেনলির লুপ নামে পরিচিত। এ লুপে দুটি অংশ। যথাঃ অবরোহন বাহু এবং আরোহন বাহু। এ লুপের আরোহন বাহুর পরবর্তী ৫ মি.মি. হলো ডিস্টাল প্যাঁচানো নালিকা। এ নালিকার পরবর্তী অংশই সংগ্রাহক নালিকা। কিছু সংগ্রাহক নালিকা একত্রিত হয়ে বেলিনি-র ডাক্ট গঠন করে। অনেকগুলো বেলিনি-র ডাক্ট একত্রে মেডুলাতে প্যাপিলারি ডাক্টের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক। এটি নাইট্রোজেন ঘটিত তরল বর্জ্য সৃষ্টি করে তা দেহ থেকে অপসারণ করে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ থাকে, এগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে বৃক্কের পেলভিসে পৌঁছায়। পেলভিস থেকে ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ বেয়ে ইউরেটারে প্রবেশ করে। ইউরেটার থেকে মূত্র মূত্রথলিতে আসে এবং সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্রথলি মূত্র দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা জাগে এবং মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রপথে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে বৃক্ক মানবদেহ থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে।
প্রাণিকোষে বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো রেচন।
বৃক্কের গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট নেফ্রনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বিভিন্ন দ্রব্য এর প্রাচীরের কোষে শোষিত হয়ে সংলগ্ন কৈশিকজালিকায় প্রবেশের প্রক্রিয়াকে বলা হয় নির্বাচিত পুনঃশোষণ। বৃক্কের প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকার কোষেই অধিকাংশ পুনঃশোষণ সংঘটিত হয়ে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
