শারীরিক শিৰার উদ্দেশ্য চারটি।
একটি চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর সংবিত ও নির্দিষ্ট পদৰেপসমূহকে বলা হয় উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য বাস্তবতার আলোকে হয়ে থাকে। মানুষ উদ্দেশ্য লাভ করতে পারে এমনকি তা পরিমাপ করাও সম্ভব।
সাধারণভাবে লব্য ও উদ্দেশ্য এই ধারণার মধ্যে কোনো পার্থক্য মনে না হলেও উদ্দীপকে উলিরখিত উদ্দেশ্যগুলো অর্জন অর্থাৎ শারীরিক শিবার উদ্দেশ্য অর্জনের বেত্রে লব্য ও উদ্দেশ্য এ দুই ধারণা সমার্থক নয়। এবেত্রে লব্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ
| লব্য | উদ্দেশ্য |
| i.লব্য হলো চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল। | ⅰ. উদ্দেশ্য হলো গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর সংৰিপ্ত ও নির্দিষ্ট পদৰেপসমূহ। |
| ii. লব্যের অস্তিত্ব মানুষের কল্পনায়। | ii. উদ্দেশ্য হলো বাস্তব। |
| iii. লব্যের রূপায়ণ সম্ভব নয়। | iii. উদ্দেশ্যের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব। |
| vi. লব্যের পরিমাপ সম্ভব নয়। | vi. উদ্দেশ্যের পরিমাপ সম্ভব। |
উদ্দীপকে শারীরিক শিবার রয়েছে। শারীরিক শিৰাবিদগণ শারীরিক শিৰার লব্যে পৌঁছানোর জন্য বেশ কয়েকটি অন্তর্বর্তী পদবেপের কথা উলেরখ করেছেন, এগুলোই শারীরিক শিবার উদ্দেশ্য হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন চিন্তাবিদদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতামত সার্বিক বিবেচনা করে শারীরিক শিবার উদ্দেশ্যকে উলিরখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিচে এই ভাগগুলো বিশেরষণ করা হলো: উদ্দেশ্যের চারটি ভাগের উলেরখ
শারীরিক অসুস্থতা অর্জনের উদ্দেশ্য
i. খেলাধুলার নিয়মকানুন মেনে ভালো করে খেলতে পারা।
ii. কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করা।
iii. স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বয় সাধনে কর্মৰমতা বৃদ্ধি করা।
iv. দেহ ও মনের সুষম উন্নতি করা।
v. সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে শারীরিক সৰমতা অর্জন করা।
মানসিক বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্য
i. উপস্থিত চিন্তাধারার বিকাশ সাধন।
ii. নৈতিকতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন।
iii. সেবা ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হওয়া।
iv. বিভিন্ন দলের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠা।
চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের উদ্দেশ্য
i. আনুগত্যবোধ ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পাওয়া।
ii. খেলাধুলার মাধ্যমে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হওয়া।
iii. খেলোয়াড়ি ও বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব গড়ে ওঠা।
iv. প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব গড়ে ওঠা।
v. আত্মসংযমী হওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।
সামাজিক গুণাবলি অর্জনের উদ্দেশ্য
i. নেতৃত্বদানের সবমতা অর্জন ও সামাজিক গুণাবলি অর্জন করা।
ii. বিনোদনের সাথে অবসর সময় কাটানোর উপায় জানা।
iii. বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করা।
iv. সকলের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা।
শারীরিক শিৰাবিদদের মতামত থেকে এটা পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান যে, শারীরিক শিবার উদ্দেশ্য সাধারণ শিবার মতোই ব্যক্তিসত্তার সর্বোচ্চ ও সুষম বিকাশ সাধন করে এবং সুপরিকল্পিতভাবে খেলাধুলায় পারদর্শিতা অর্জনে সাহায্য করে।
প্রাচীনকালে শারীরিক শিক্ষা বলতে শরীর সম্বন্ধীয় শিক্ষাকে বোঝানো হতো। আধুনিককালে এ ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। শরীর সম্বন্ধীয় শিক্ষা বা শারীরিক কসরতকে শারীরিক শিক্ষা নয় শরীরচর্চা বলে। শারীরিক শিক্ষা শুধু শরীর নিয়েই আলোচনা করে না, এর সাথে মানসিক বিকাশ ও সামাজিক গুণাবলি কীভাবে অর্জিত হয় সে ব্যাপারেও সহায়তা করে। শরীর ভালো না থাকলে মন ভালো থাকে না, কাজে মন বসে না, তাই দেহ ও মনের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। 'সুস্থ দেহে সুন্দর মন' প্রাচীন এই প্রবাদটি সর্বযুগে সর্বকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক উন্নয়ন, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক গুণাবলি অর্জনই হলো শারীরিক শিক্ষা। শারীরিক শিক্ষা কর্মসূচি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন লাভ করা যায়। একজন শিক্ষার্থী শারীরিক শিক্ষা লাভ করে সুস্থ দেহে সুন্দর মনের অধিকারী হয়ে সমাজে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- শারীরিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সুস্থজীবনের জন্য শারীরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- বাংলাদেশের শারীরিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।
- শারীরিক শিক্ষার কর্মসূচির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- শারীরিক শিক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি যথা আন্তঃশ্রেণি, আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানাদি সঠিকভাবে পালন করতে পারব ।
- শারীরিক শিক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
