মাটির নিচের স্তরে সঞ্চিত পানিই ভূগর্ভস্থ পানি।
উদ্ভিদ থেকে পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে পানি বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে। প্রস্বেদন বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর গতিবেগ ও সৌর বিকিরণের উপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের ভূমিরূপগুলো যথাক্রমে মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি এবং গভীর সমুদ্রখাত। এ ভূমিরূপগুলোর মধ্যে মহীসোপান একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মহাদেশসমূহের চারদিকে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান। মহীসোপান অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি। মৎস্য খাদ্যের প্রাচুর্যহেতু মহীসোপান অঞ্চলেই মৎস্যের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে এবং সেখানে মৎস্য শিকার ও মৎস্য ব্যবসার উন্নতি হয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। মহীসোপান অঞ্চলকে সমুদ্রতট বা সৈকত বলে। মানুষ আনন্দ ভ্রমণের জন্য সৈকতে যায় ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়। সমুদ্রের এ অংশে বহু নুড়ি পাথর রয়েছে। এতে ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, সীসা, তামা, নিকেল, দস্তা ইত্যাদি বহু মূল্যবান ধাতু পাওয়া যায়।
মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পদ সরবরাহের জন্য সমুদ্র তলদেশ বিপুল সম্ভাবনাময়। শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে, খাদ্যের যোগান, খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে মহীসোপান গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যে, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ইত্যাদিতে মহীসোপান ও এর উপরস্থিত সমুদ্র নানাভাবে সহায়তা করে থাকে।
উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, মহীসোপান মানবজীবনে প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে এবং এর প্রভাবও বিস্তৃত। তাই মানবজীবনে সমুদ্রখাতের চেয়ে মহীসোপানের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রে মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপগুলো দেখানো হয়েছে।
সাধারণভাবে মহাসাগরের তলদেশে ৫ ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। এগুলো হলো- i. মহীসোপান, ii. মহীঢাল, iii. গভীর সমুদ্রের সমভূমি, iv. নিমজ্জিত শৈলশিরা এবং v. গভীর সমুদ্রখাত। উক্ত ভূমিরূপগুলোর
বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
ভূমিরূপ | বৈশিষ্ট্য |
১. মহীসোপান (Continental Shelf | • সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। |
২. মহীঢাল (Continental slope) | • মহীসোপানের শেষ সীমা থেকে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সঙ্গে মিশে যায়। এই খাড়া ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে। |
৩. গভীর সমুদ্রের সমভূমি (Deep sea plains) | • মহীঢালের পর হতে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। |
৪. নিমজ্জিত শৈলশিরা (Oceanic ridge) | . আগ্নেয়গিরির থেকে লাভা বেরিয়ে এসে সমুদ্রগর্ভে জমাট বেঁধে যে ভূমিরূপ তৈরি হয়। তাকে নিমজ্জিত শৈলশিরা বলে। |
৫. সমুদ্রখাত (Oceanic trench গভীর | • গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলে এ ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। |
Related Question
View Allপৃথিবীর গভীরতম (১০,৮৭০ মিটার) খাতের নাম ম্যারিয়ানা খাত (Mariana trench) যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ পর্যন্ত ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental shelf) বলে।
পৃথিবীর নদীবন্দরগুলোর অধিকাংশই মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে। ফলে এসব অঞ্চলে নৌচলাচল ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। মহীসোপানের তলদেশে খনিজ সম্পদের ভান্ডার থাকায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্থানের পানির প্রবাহ বা স্রোতটি হলো ল্যাব্রাডর স্রোত। এটি একটি শীতল স্রোত।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত দুইটি সুমেরু শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণ দিকে' প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই স্রোতের জন্য উত্তর আমেরিকার ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের বন্দরগুলো বছরের প্রায় নয় মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ায় নিকটবর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত না হয়ে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার না হওয়ায় মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!