পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কিছু অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য কেঁপে ওঠে। ভূত্বকের এরূপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
সুনামি একটি জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ। সুনামি হলো পানির একের পর এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের
মধ্যে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়। এর ফলে উপরিতলে উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়।
গ অঞ্চলটি ভূঅভ্যন্তরের সর্বশেষ স্তর কেন্দ্রমণ্ডল। নিচে কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
গভীরতা/পুরুত্ব: গুরুমণ্ডলের নিম্নভাগ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এ মণ্ডলটি প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু। ভূ-অভ্যন্তরের স্তরসমূহের মধ্যে এ স্তরের পুরুত্বই সবচেয়ে বেশি
স্তরসমূহ: এ মণ্ডলটি দুটি স্তরে বিভক্ত। ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে কেন্দ্রমণ্ডলের একটি তরল বহিরাবরণ রয়েছে যা প্রায় ২,২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং একটি কঠিন অন্তঃভাগ রয়েছে যা ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু।
গঠন উপাদান: বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস যে, কেন্দ্রমণ্ডলের উপাদানগুলির মধ্যে লোহা, নিকেল, পারদ ও সীসা রয়েছে। তবে প্রধান উপাদান হলো নিকেল ও লোহা।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, পৃথিবীর কেন্দ্রে ভারি উপাদানগুলি অবস্থান নিয়েছে। তাছাড়া গভীরতা, তাপ ও চাপের কারণে এসব উপাদান ক্ষেত্রবিশেষে তরল অবস্থায় রয়েছে।
A ও B অঞ্চল যথাক্রমে অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডল। এদের গঠনগত এবং সার্বিক পার্থক্য রয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্তরের মধ্যে উপরের স্তরটিকে অশ্মমণ্ডল বলে। অশ্মমণ্ডলের উপরের অংশ ভূত্বক নামে পরিচিত। সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বককে সিয়াল স্তর বলে, যা সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা গঠিত। সমুদ্র তলদেশের ভূত্বক প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় গঠিত, যা সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদানের নাম সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম যা সাধারণভাবে সিমা নামে পরিচিত। ভূত্বকের উপরের স্তরে বাহ্যিক অবয়বগুলো যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি দেখা যায়।
পক্ষান্তরে গুরুমণ্ডল মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। গুরুমণ্ডলের কঠিন উর্ধ্বাংশের নিচের শিলা গলনাঙ্কের কাছাকাছি হওয়ায় আংশিক নরম অবস্থায় আছে, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরের নাম নমনীয়মণ্ডল। ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত।
সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়। এ সময় এর উপর যে আস্তরণ পড়ে তা হলো ভূত্বক। ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর। অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল। ভূত্বক যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি তার সাধারণ নাম শিলা। পৃথিবীতে কার্যরত বিভিন্ন ভূমিরূপ প্রক্রিয়া শিলা ও খনিজের ধরন দ্বারা প্রভাবিত হয়। ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তন দুরকম। ধীর পরিবর্তন ও আকস্মিক পরিবর্তন। এ অধ্যায়ে আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক গঠন, বিভিন্ন রকম শিলা, ভূপৃষ্ঠের ধীর ও আকস্মিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করব।
Related Question
View Allযে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে নদী উপত্যকা বলে।
উর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড় বড় শিলাখন্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নদিকের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।তাই একে 'V' উপত্যকা বলা হয়।
প্রবাহিত নদী খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
ঊর্ধ্বগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয় বলে উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়।
ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ায় তা বড় বড় শিলাখণ্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে নিচের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!