যে পরিবারের সন্তান-সন্ততি মাতৃধারায় সম্পত্তি, বংশনাম ও মর্যাদা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে এবং মা, মামা ও নানাকে পিতা, চাচা ও দাদার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাকে মাতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।
লেভিরেট ও সরোরেট বিবাহ বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় পারিবারিক সংহতি রক্ষায় বিদ্যমান দুই ধরনের বিবাহ ব্যবস্থা। লেভিরেট বা দেবর বিবাহ বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার মৃত ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বোঝায়। পক্ষান্তরে, সরোরেট বা শ্যালিকা বিবাহ লেভিরেট বিবাহের সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি তার মৃত স্ত্রীর ছোট বোনকে বিবাহের মাধ্যমে যে বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাকে সরোরেট বিবাহ বলে।
প্রধানত, মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যৎ চিন্তা, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা, নিজ বংশের মধ্যে সম্পত্তির বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য এ দুই ধরনের বিবাহ সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে "?' চিহ্নিত স্থানে 'জ্ঞাতিসম্পর্ক' প্রত্যয়টি প্রযোজ্য। সমাজবিজ্ঞানীদের মতানুসারে, আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ নিকটজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কই হলো জ্ঞাতিসম্পর্ক। অর্থাৎ, জ্ঞাতির সাথে সম্পর্কই জ্ঞাতিসম্পর্ক। বাংলাদেশের সমাজজীবনে জ্ঞাতিসম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত ও দৃঢ়। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জ্ঞাতিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে, আর্থিক সংকটে সহযোগিতা যেমন- সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, জমি বর্গা নেওয়া-দেওয়া, ঋণ আদান-প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে জ্ঞাতিরা সাহায্য করে থাকে। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড যেমন- নির্বাচন বা জনকল্যাণমূলক কাজে জ্ঞাতিরাই প্রথমে এগিয়ে আসে। নেতৃত্ব সৃষ্টিতেও জ্ঞাতিসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন- নির্বাচনের সময় যে প্রার্থীর জ্ঞাতি গোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি সে সহজেই নির্বাচনে জয়লাভ করে। এছাড়াও, স্বজনপ্রীতি, জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও জ্ঞাতিরা অনবদ্য অবদান রাখে।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের চারপাশে যেসব নির্দেশকসমূহ উল্লেখ আছে তা উপরে আলোচিত জ্ঞাতিসম্পর্কের বিভিন্ন কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, "?' চিহ্নিত স্থানে জ্ঞাতিসম্পর্ক প্রত্যয়টি প্রযোজ্য।
উদ্দীপকে "?' চিহ্নিত প্রত্যয় তথা জ্ঞাতিসম্পর্কের যেসব বৈশিষ্ট্য বা কাজ উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে স্বজনপ্রীতি আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। নিচে বাংলাদেশের সমাজের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আলোচনা করা হলো-
বাংলাদেশে জ্ঞাতিসম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত ও দৃঢ়। বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনে জ্ঞাতিসম্পর্কের বন্ধন খুবই শক্ত। জ্ঞাতিরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে জ্ঞাতিতে জ্ঞাতিতে যে স্বজনপ্রীতি সৃষ্টি হয় তা আর্থ-সামাজিকসহ সব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। আইন, বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জ্ঞাতিসম্পর্ক এক অঘোষিত বাধার সৃষ্টি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- বিচারক যদি কোনো আসামীর আত্মীয় হন তাহলে তিনি বিচারের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের আইনের ফাঁক খুজতে থাকেন, যাতে তার জ্ঞাতি সম্ভাব্য শাস্তি থেকে রক্ষা পায়। আবার সরকারি চাকরি লাভের ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস, যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অযোগ্য জ্ঞাতিকে নিয়োগ দান, স্রেফ জ্ঞাতি হওয়ার কারণে অযোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচনে মনোয়ন দান, আত্মীয়তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো ইত্যাদি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করার কিছু উদাহরণ।\
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে একথাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, জ্ঞাতিসম্পর্কের অন্যতম কাজ বা উপাদান স্বজনপ্রীতি আমলাতন্ত্রকে অনেকাংশেই প্রভাবিত করে।
Related Question
View Allগারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
শহুরে সমাজে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশের শহুরে সমাজ সাধারণত বৃহৎ এবং অধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট। ফলে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ কম। শহরের মানুষেরা অত্যন্ত যান্ত্রিক ও কৃত্রিম প্রকৃতির হওয়ায় পারস্পরিক আলাপ তেমন হয় না। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক দূরত্ব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হচ্ছে পরিবার। ক্ষমতার মাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশে দু ধরনের পরিবারের অস্তিত্ব লক্ষণীয়। যথা- পিতৃপ্রধান ও সমতাভিত্তিক পরিবার। সহজ কথায়, এ দেশের পরিবার প্রধানত পিতৃপ্রধান। অর্থাৎ সমস্ত পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরুষের অধিকার সর্বস্বীকৃত। তবে পিতৃপ্রধান পরিবারে নারীর মর্যাদা একেবারেই নেই এমন কথা বলা চলে না। এ বিষয়টি পরিবার থেকে পরিবারে পৃথক হতে পারে। অন্যদিকে, নগরাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষিত ও উদার মনোভাবাপন্ন পরিবারে সমতার নীতি মেনে চলতে দেখা যায়। তবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা নিতান্তই কম দেখা যায়।
উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত উপাদানগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশে যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায় তা হলো চাকমা নৃগোষ্ঠী।
চাকমা সমাজে আদামের নেতৃত্বে কারবারী, মৌজার নেতৃত্বে হেডম্যান এবং সার্কেলের নেতৃত্বে থাকেন রাজা। অবশ্য বর্তমানে এ ধরনের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। আবার এটাও ঠিক যে, অনুরূপ রাজনৈতিক প্রশাসনিক কাঠামোর নেতৃত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
আদাম বা পাড়া: কতকগুলো চাকমা পরিবার গুচ্ছ নিয়ে গঠিত হয় আদাম বা পাড়া। আদামের প্রধানকে বলা হয় কারবারী। চাকমা রাজা তাকে নিয়োগ করেন। তিনি আদামের শান্তিশৃঙ্খলা এবং সালিশ বিচার কার্যে মৌজা প্রধানকে সাহায্য করে থাকেন।
গ্রাম বা মৌজা: কতকগুলো চাকমা আদাম নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম বা মৌজা। এর প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। চাকমা রাজার সুপারিশক্রমে ডেপুটি কমিশনার হেডম্যানকে নিযুক্ত করেন। হেডম্যান মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। খাজনা আদায় করার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত থাকে।
চাকমা সার্কেল: চাকমা সমাজের কয়েকশ মৌজা বা গ্রাম মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত। এর প্রধান হচ্ছেন চাকমা রাজা। রাজা বংশ পরম্পরায় নিযুক্ত হন। চাকমা রীতি অনুযায়ী তিনি সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। চাকমা রাজা চাকমা সমাজের প্রতীক।
তিনি সমগ্র চাকমা জনগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র।
বিবাহের প্রধান সামাজিক উদ্দেশ্য হলো পরিবার প্রতিষ্ঠা করা।
কোচরা বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে।
কোচদের প্রধান উৎসবের মধ্যে হেমন্তকালে ধান রোপণ করার সময় 'গোচর পর্ণা', নতুন ফসল তোলার সময় 'লবণ খাওয়া' ও 'ধানের ফুল দেওয়া; পিতামাতার আত্মার কল্যাণ কামনায় 'কৈনা গৎ', পুত্র সন্তান লাভের আশায় ভাদ্র মাসের অষ্টম চাঁদে 'জিড়য়া' ও 'ভাদু' এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে বৃষ্টির কামনায় 'হুদুমা' ইত্যাদি প্রধান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!