'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি জার্মান সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কস এর।
বস্তুগত সংস্কৃতির চূড়ান্ত বিকাশই হলো সভ্যতা।
সভ্যতা বলতে মানব সংস্কৃতির একটি উন্নত পর্যায়কে বোঝায়, যা নগর জীবনের উদ্ভবের সাথে সাথে উন্মেষ হয়েছে এবং যে পর্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী আর.এম. ম্যাকাইভার এর মতে সভ্যতা হলো আমাদের যা আছে বা আমরা যা ব্যবহার করি।
উদ্দীপকের'?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী ভৌগোলিক উপাদানটি প্রযোজ্য হবে।
সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহের মধ্য থেকে চারটি উপাদানকে সমাজবিজ্ঞানীরা মৌলিক উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- ১. জৈবিক উপাদান, ২. ভৌগোলিক উপাদান, ৩. সাংস্কৃতিক উপাদান এবং ৪. সামাজিক উপাদান। এ সমস্ত উপাদান ব্যক্তিজীবনে যেমন প্রভাব বিস্তার করে তেমনি ব্যক্তির সমাজজীবনকে প্রভাবিত করে। প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ নিয়ে গড়ে ওঠা পরিবেশকে ভৌগোলিক পরিবেশ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, ভৌগোলিক পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক জলবায়ু ও তাপমাত্রা, মৃত্তিকা ও জলের অবস্থান ও গতি, বনাঞ্চল, ঋতু, পশুপাখি, ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প ইত্যাদিকে বোঝায়। অর্থাৎ জৈব-সামাজিক উপাদান এবং মানবসৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ বাদে প্রায় সবই ভৌগোলিক পরিবেশের অন্তর্গত।
উদ্দীপকের চিত্রে উল্লিখিত চারটি উপাদানের মধ্যে অন্যতম উপাদান ভৌগোলিক উপাদান অনুপস্থিত। তাই '?' চিহ্নিত স্থানটিতে হবে ভৌগোলিক উপাদান।
সমাজজীবনে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয় তথা ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।
জনসংখ্যার ঘনত্ব ও সভ্যতার উত্থান নির্ভর করে জলবায়ু ও আবহাওয়ার ওপর। যেমন-নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু ও আবহাওয়া ফসল উৎপাদনে সহায়ক হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার ঘনবসতি হয়েছে এবং যার ফলে সভ্যতারও উৎপত্তি ঘটেছে। একটি দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে তার উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর। আর এ উৎপাদনের জন্যে দরকার উপযুক্ত জলবায়ু, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপ, আলো ইত্যাদি। তাই ভৌগোলিক পরিবেশের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা। পোশাক পরিচ্ছদ ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারাই নির্ধারিত হয়। যেমন- শীত প্রধান অঞ্চলে মোটা কাপড় বা গরম পশমি কাপড় পরার প্রচলন এবং গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে হালকা সুতি কাপড়ের প্রচলন দেখা যায়।
ভৌগোলিক পরিবেশভেদে ঘরবাড়ির ধরন তথা আবাসন ব্যবস্থা ভিন্ন হয়। যেমন- শীতপ্রধান দেশের ঘরবাড়ি আর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ির ধরন এক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনসমষ্টির দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় বাহ্যিক আকৃতির দিক থেকে সব মানুষ এক নয়। সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ শ্বেত বর্ণের এবং গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ কৃষ্ণ বর্ণের হয়ে থাকে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সমাজ জীবনে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allকটি. বি. বটোমোর- এর মতে "সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সমাজের শ্রেণি বা স্তরভিত্তিক বিভাজন যা মর্যাদা ও ক্ষমতা গঠন করে।"
মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাই হচ্ছে মার্কসবাদ। কার্ল মার্কসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে 'মার্কসবাদ'।
মার্কসবাদ হলো একটি সামগ্রিক চিন্তাধারা, একটি সমাজদর্শন। মার্কসবাদ হলো দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। এটি একটি সামগ্রিক তত্ত্বচিন্তা। যেকোনো জ্ঞান শৃঙ্খলাতেই এর প্রয়োগ সম্ভব। একে পৃথকভাবে কেবল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি অথবা ইতিহাস বা দর্শন তত্ত্ব বলা ঠিক নয়। জগৎকে ব্যাখ্যা করা নয়, তাকে বদলে দেওয়াটাই আসল কথা-মার্কসবাদী চিন্তার সারকথা এটাই।
উদ্দীপকের সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। কিছুসংখ্যক মানুষ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘকাল বসবাস করতে থাকলে তাদের মধ্যে অভিন্ন চিন্তাভাবনা, সামাজিক বিষয়াদিতে অভিন্নতা, ঐতিহ্যগত অভিন্নতাবোধ, গভীর সংহতিবোধ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর এভাবে সুসংহত সামাজিক জীবনযাপনের সূত্রেই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী যারা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে সমজাতীয় জীবনযাপন করে এবং যার ফলে সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংহতিবোধ বিরাজ করে। একই নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্প্রদায় সৃষ্টি হতে পারে, যেমন- মুসলিম সম্প্রদায়। আবার ঐতিহ্যবাহী সমজাতীয় পেশা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করেও সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে। যেমন- তাঁতি ও জেলে সম্প্রদায়। উদ্দীপকেও এমন একটি শ্রেণি লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস নারায়ণগঞ্জের হরিজন সমাজের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। অর্থাৎ সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। যারা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা ও সমজাতীয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তারা একটি পৃথক সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। উপরের আলোচনা ও উদ্দীপকের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায় সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় নামক প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদাগত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যা সাংস্কৃতিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত।
বাংলাদেশের সমাজ শ্রেণিভিত্তিক বা স্তরায়িত সমাজ। অর্থাৎ এ সমাজ শ্রেণিবিভক্ত। এ শ্রেণি বিভাজন কখনো উৎপাদনের উপায়ের মালিকানা, কখনো উঁচু-নিচু মর্যাদা আবার কখনো ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে ক্রমোচ্চভাবে বিভক্ত। একটি শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনাচরণ এবং জীবনধারণের পদ্ধতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনধারণের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। এ ধরনের স্তরবিন্যাস মূলত শিক্ষা, অর্থ, প্রতিপত্তি, বংশ মর্যাদা, পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে হয় এবং সংস্কৃতি দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমাজব্যবস্থায় সুইপার সমাজের মানুষকে নিম্ন মর্যাদার মনে করা হয়। অন্যদিকে রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তী ধনী ব্যক্তি। আমাদের সমাজে ধনী শ্রেণির মর্যাদাগত অবস্থান উঁচু স্তরে। তাই দেখা যায়, সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর মধ্যে একটি মর্যাদাগত ব্যবধান রয়েছে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের পাশাপাশি সংস্কৃতির ভূমিকাকে তুলে ধরে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাব বিস্তার করেছে।
সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের জীবনে খেলার মাঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবারের নির্দিষ্ট ও সীমিত গণ্ডি পেরিয়ে শিশু খেলার মাঠে প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে আসে। খেলার মাঠে সঙ্গী-সাথীদের মাধ্যমে সে প্রভাবিত হয়। নিজেও অন্যান্যদের প্রভাবিত করে। এতে করে তার মধ্যে নেতৃত্ব, নিয়ম-শৃঙ্খলা, দায়িত্ব-কর্তব্য, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলির সূচনা ও বিকাশ ঘটে। তাই সমাজজীবনের রূপায়ণ ও সামাজিকীকরণে মানুষের জীবনে খেলার মাঠের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!