কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস প্রভৃতি মৌলের সমন্বয়ে গঠিত রাসায়নিক পদার্থ, যা মাটিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে, তাকে রাসায়নিক সার বলে।
জীবদেহে খাবার গ্রহণে বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদিত হয়। হজমকৃত খাদ্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ভেঙে সরল অণু ও শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
মানবদেহের অভ্যন্তরে নিম্নোক্ত বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়ঃ
C6H12O6 +6O2→ 6CO2 + 6H2O + শক্তি
জীবদেহের খাবার গ্রহণে এভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকের Z হলো মাস্ক। যদি কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্ষতিকর গ্যাস যেমন- NH3, CO, HCN, CI2, H2S প্রভৃতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কারণ এ গ্যাসগুলো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক সময় কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যাপক পরিমাণ গ্যাস তৈরি হয়, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
যেমন, শুষ্ক AICI, এর সাথে II₂O এর বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ HCI গ্যাস উৎপন্ন করে যা খালি মুখে সহ্য করা কঠিন।
AICI3 (শুষ্ক) + 3H2O→ Al(OH)3 + 3HCI(g)
মাস্ক মানুষের চোখ, মুখ ও নাক তিনটাকেই ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। ল্যাবের মাস্কে সাধারণত চারকোল, জিওলাইট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, ল্যাবরেটরিতে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
উদ্দীপকের X পদার্থটি হচ্ছে নিরাপদ চশমা এবং Y পদার্থটি হলো হ্যান্ড গ্লাভস। উভয় পদার্থই নিরাপত্তা বিধির অন্তর্ভুক্ত। কারণ চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় চোখকে রাসায়নিক পদার্থের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা একান্ড প্রয়োজন। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্বায়ী পদার্থ চোখে লেগে চোখের ক্ষতি করতে পারে। কোনো তরল পদার্থকে উত্তপ্ত করলে সেটি bumping এর মাধ্যমে চোখে লেগে চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই ল্যাবরেটরিতে চোখকে রাসায়নিক পদার্থের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিরাপদ চশমা ব্যবহার করা আবশ্যক। আবার অনেক সময় ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ক্ষতিকারক ও ক্ষয়কারক রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ করতে হয়। তাছাড়া গবেষণার প্রয়োজনে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ যেমন- As, Ag, Pb, Hg প্রভৃতি পদার্থ নিয়ে কাজ করতে হয়। তখন কোনো না কোনোভাবে এ পদার্থগুলো আমাদের ত্বকে লেগে যেতে পারে। এছাড়া বিষাক্ত সায়ানাইড লবণ নিয়ে কাজ করার সময় যদি কোনোভাবে তা শরীরের রক্তের সংস্পর্শে আসে তাহলে সায়ানো হিমোগ্লোবিন নামক জটিল যৌগ সৃষ্টি হয়। যা অক্সিজেন পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং এ সকল বিষাক্ত পদার্থসমূহ নিয়ে কাজ করার সময় অবশ্যই হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত।
তোমরা যারা নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তারা রসায়ন বইটি হাতে পেয়েছো। বইটি হাতে পেয়ে কিছু প্রশ্ন তোমাদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে— রসায়ন বিষয়টি কী? কেনই-বা আমরা রসায়ন পড়ব? অর্থাৎ রসায়ন আমাদের কী কাজে লাগে? রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার কি কোনো সম্পর্ক আছে? এসব বিষয়ের উত্তর এ অধ্যায়টি পড়লে জানতে পারবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- রসায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
- রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলোর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- রসায়ন পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নে অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার বর্ণনা করতে পারব।
- বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমিত সিদ্ধান্ত গঠন ও পরীক্ষা করতে পারব।
- রসায়নে ব্যবহারিক কাজের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব।
- প্রকৃতি ও বাস্তব জীবনের ঘটনাবলি রসায়নের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করতে আগ্রহ প্রদর্শন করব।
Related Question
View Allপরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো কিছু জানার চেষ্টাই হলো গবেষণা।
কাঁচা অবস্থায় আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে। যেমন- অ্যাসকরবিক এসিড, সাইট্রিক, ম্যালিক, অক্সালিক এসিড। তাই কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কিন্তু আম যখন পাকে তখন আমে বিদ্যমান এই এসিডগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে (মিষ্টি) পরিণত হয়। ফলে পাকা আম হয় মিষ্টি।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ঔষধ সেবন করছে।
প্রতিটি ঔষধই কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়। যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তথা ওষুধ সেবন করি। যেমন: জ্বর হলে আমরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাই। প্যারাসিটামল একটি রাসায়নিক যৌগ, এর রাসায়নিক নাম acetaminophen বা, 4-হাইড্রোক্সি অ্যাসিট্যানিলাইড। এটি আমাদের পাকস্থলিতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করলে আমরা আইবুপ্রফেন খাই।
এ রাসায়নিক যৌগটি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
তাছাড়া আমরা কৃমিনাশক হিসেবে যে ওষুধ খাই, তাও রাসায়নিক যৌগ। এছাড়াও টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, কাশি, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ যত প্রকার অসুখ আছে, তার প্রত্যেকটির প্রতিষেধক হিসেবে আমরা যে ওষুধ সেবন করি, তা কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১ম চিত্রটি অর্থাৎ ওষুধ সেবন, রসায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে ওষুধ সেবন ও B নং চিত্রে সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর ছবি দেখানো হয়েছে। এই দুইটি ছবি পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিক্ষেতে পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে গ্যামাক্সিন (C6H6Cl6), ডিডিটি (D.D.T.), অ্যালড্রিন, ক্লোরডেন, ম্যালাথায়ন, প্যারাথায়ন অন্যতম। এগুলো যখন সবজি ক্ষেতে বিদ্যমান পোকা মাকড়, কীটপতঙ্গ। মারার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কারণ ঐ সমস্ত কীটনাশক যখন জমিতে ছিটানো হয়, তখন সেগুলো বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এই দূষিত বাতাস মানুষ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ঐ সমস্ত কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা যেমন- মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, চোখ-জ্বালাপোড়া করা, পেটের পীড়া, বদহজম ইত্যাদি দেখা দেয়।
ঐ সমস্ত কীটনাশক মাটিতে মিশে মাটিকেও দূষিত করে। ফলে জমির। উর্বরতা নষ্ট হয়, জমিতে ভাল ফসল হয় না। আবার বৃষ্টি হলে ঐ সমস্ত কীটনাশক পুকুরে, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সাথে মিশে, পানিকে দূষিত করে। ফলে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মরে যায় এবং পুকুর, নদীতে বিদ্যমান বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শেওলাও মরে যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে তখন এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তখন এন্টাসিড খাওয়া হয়। কারণ এন্টাসিডে থাকে ক্ষারীয় অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!