'সু' অর্থ বন্দর এবং নামি অর্থ ঢেউ। সুতরাং সুনামি অর্থ বন্দরের ঢেউ।
বৈশ্বিক উষ্ণতার মূল কারণ অর্থাৎ গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ না কমালে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে। এতে পৃথিবীর দুই প্রান্তের মেরুর বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে। ফলে বহু দেশ এবং দ্বীপ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মূল ভূ-খণ্ডের ভেতর ঢুকে খাবার ও ব্যবহার করা পানিকে লবণাক্ত করবে। এ কারণেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বিপদজনক।
চিত্রে যে দুর্যোগটির ফলে বিল্ডিংটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা হলো ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের ফলে আমাদের দেশ যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিছু কিছু দেশে ভূমিকম্প অনেকটা ধ্বংসযজ্ঞের মতো হয়। নিচে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরা হলো-
বড় ভূমিকম্প নদীর গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপূত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছে। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ভূমিকম্প না হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত। বাংলাদেশের ভেতরে সাম্প্রতিক কালে কোনো বড় ভূমিক হয়নি, কিন্তু আশপাশে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। ১৮৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলকায় রিখটার স্কেলে ৭মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৯৭ সালে শিলংয়ে ৮.৭মাত্রায় একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। যেহেতু অতীতে এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। তাই আমাদের ধরে নিতে হয় ভবিষ্যতেও হতে পারে। সেটি কখন হবে যেহেতু আমাদের জানা নেই, তাই সব সময়েই প্রস্তুত থাকতে হবে।
২০১০ সালে হাইতিতে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প ২০১১ সালে জাপানের ভূমিকম্প এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে গেছে। জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল।
উদ্দীপকের দুর্যোগ অর্থাৎ ভূমিকম্প পরবর্তী করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণে আমার দেয়া পরামর্শগুলো হবে-
i. বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকলে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করে দেখা কেউ আহত হয়েছে কি না। আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নিতে হবে, মনে রাখা উচিত সত্যিকারের বড় ভূমিকম্প হলে হাসপাতালে অসংখ্য মানুষকে জরুরি চিকিৎসা দিতে হয়। কাজেই যার প্রয়োজন বেশি তাকে আগে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
ii. পানি, ইলেকট্রিসিটি গ্যাসলাইন পরীক্ষা করা, যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হবে। বাসায় গ্যাসের গন্ধ পেলে ঘরের দরজা-জানালা খুলে ঘরের বাইরে যেতে হবে।
iii. রেডিওতে খবর শোনার চেষ্টা করা। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে টেলিফোন ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক অচল না করে দেয়া জরুরি কাজের জন্য ত্রাণ বাহিনীকে টেলিফোন ব্যবহার করতে দিতে হবে। বড় ভূমিকম্পের পর টেলিফোন অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
iv. ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিংয়ের বাইরে থাকতে হবে। ভাঙা কাচ ইত্যাদিতে যেন পা কেটে না যায়, সেজন্য খালি পায়ে হাঁটা হাটি না করা।
v. সমুদ্র উপকুলে বসবাস করলে সমুদ্র থেকে দূরে সরে যেতে হবে। সুনামি এসে আঘাত করতে পারে।
vi. ধ্বংসপ্রাপ্ত বিল্ডিংয়ের নিচে আটকা পড়লে, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা না করে উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিজের শক্তি বাঁচিয়ে রেখে উদ্ধারকারী দল এলে তাদেরকে সংকেত দেওয়ার জন্য কোনো কিছুতে নিয়মিতভাবে আঘাত করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
vii. বড় ভূমিকম্প হলে আফটার শক হিসেবে আরো ভূমিকম্প হতে los পারে সে জন্য প্রস্তুত থাকা।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!