HIV হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস।
কিশোর অপরাধ প্রতিটি সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক "সামাজিক সমস্যা। সামাজিক সুষ্ঠু পরিবেশ ও মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে খারাপ সঙ্গ এবং বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে জড়িত হয়ে শিশু-কিশোররা অপরাধী হয়ে ওঠে। সুষ্ঠু। চিত্তবিনোদনমূলক কার্যক্রম, অপসংস্কৃতিরোধ, গঠনমূলক পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। সুষ্ঠু চিত্তবিনোদনমূলক কার্যক্রম কিশোরদের মানসপটে অবচেতনভাবেই অপরাধমূলক কর্মকান্ডের প্রতি ঘৃণা এবং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আনয়নে সহায়তা করে, যা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিত্র 'ক'-এ বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
পুরুষ বা নারী কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে যে সহিংস আচরণ করা হয় তাই নারীর প্রতি সহিংসতা। কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি নানা অজুহাতে নারীর আর্থসামাজিক, শারীরিক কিংবা মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটিয়ে থাকে। এ সহিংস আচরণ বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, কর্মক্ষেত্র, হাট-বাজার থেকে শুরু করে যেকোনো স্থানে ঘটতে পারে। নারীর প্রতি সহিংসতার নানা প্রকৃতি রয়েছে। যেমন- প্রহার, যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন, শিক্ষা ও সম্পত্তির অধিকারের বঞ্চনা, অত্যাধিক কাজের বোঝা চাপানো, কন্যা শিশুকে মারধর, যৌনপীড়ন প্রভৃতি।
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' তে নারীর প্রতি সহিংসতার এরূপ চারটি প্রকৃতি নির্দেশিত হয়েছে। সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা আমাদের দেশে যৌতুক প্রথাকে প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করেছে, যা বর্তমানে সহিংসতার হাতিয়ার রূপে 'ব্যবহৃত হচ্ছে। কন্যাসন্তানকে শিক্ষা দানের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, কন্যাসন্তানের প্রতি মা-বাবার উদাসীনতা, পুত্রসন্তানকে প্রাধান্য দেওয়া, বিবাহে কন্যার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করার মনোভাব এবং পুরুষতান্ত্রিক অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি নারীর প্রতি সহিংসতাকে একধাপ বাড়িয়ে দেয়। নারীর প্রতি সহিংসতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দারিদ্র্য। নারীর প্রতি শারীরিক নির্যাতনের দরুন কখনো কখনো নারী আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকে। নির্যাতনের, সহিংসতার ধরন ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রণয়ন ও এর যথাযথ প্রয়োগ, নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রবর্তিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা সম্ভব।
না, আমি মনে করি গণসচেতনতাই চিত্র- 'খ'-এ নির্দেশিত সমস্যা তথা দুর্নীতি সমস্যা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয় বরং অন্যতম প্রধান উপায়।
গণসচেতনতার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অবৈধ পন্থায় নীতি বহির্ভূত বা জনস্বার্থবিরোধী কাজই দুর্নীতি। রাজনৈতিক এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি বলতে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের জন্য কার্যালয়ের দায়িত্বের অপব্যবহারকে বোঝায়। সাধারণত ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, বল প্রয়োগ বা ভয় প্রদর্শন, প্রভাব খাটানো, ফাইল বন্দি করা, প্রতারণা করা এবং ব্যক্তি বিশেষকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনকে দুর্নীতি বলে। উদ্দীপকে চিত্র 'খ' তে উল্লিখিত সমস্যার ধরনসমূহ দুর্নীতিকে নির্দেশ করে। দুর্নীতির কারণ হিসেবে লোভ ও উচ্চাভিলাষী মনোভাব, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার অভাব, কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা ও ব্যাপক বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং মুদ্রাস্ফীতি, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা যায়। দুর্নীতিবাজ, নকলবাজ, প্রতারক ও মুখোশধারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনলে দুর্নীতি উচ্ছেদ সহজতর হবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক আন্দোলন কর্মসূচি প্রভৃতির মাধ্যমেও দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব। তাছাড়া, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটলে সমাজ থেকে দুর্নীতির অবসান ঘটবে।
সুতরাং বলা যায়, দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতাই একমাত্র উপায় নয় বরং গণসচেতনতার সাথে সাথে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ ঝস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি সমস্যার মূলোৎপাটন সম্ভব।
Related Question
View Allএইচআইভি (HIV) হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস, যার পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency Virus) ।
এইডস হচ্ছে এমন একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি যা এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রবেশ করে। এইডস রোগটি ছড়ানোর বিভিন্ন উপায় থাকলেও এর অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে যৌন মিলন। অর্থাৎ এইচআইভি সংক্রমিত পুরুষ বা মহিলার সাথে যৌন মিলনে এ রোগ ছড়াতে পারে।
ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হলেন যে, রিমির মা এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
এইচআইভি (HIV) হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস। এ ভাইরাসের পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency virus) সংক্ষেপে এইচ আইভি (HIV)। এটি মানবদেহে প্রবেশ করে দেহের নিজস্ব, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। এ ভাইরাস অনেকদিন পর্যন্ত শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সাধারণত এর সুপ্তিকাল ৬-৭ মাস। উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির পিতার ছয় মাস পর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে এইডস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেন। এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায় হলো এইডস। যদি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কারও দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায় তবেই তাকে এইচআইভি পজিটিভ বলা হয়। এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি এইডস রোগে আক্রান্ত হয়। যা ব্যক্তির অনিবার্য পরিণতি অকাল মৃত্যু। তাই বলা যায়, রিমির মায়ের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তার নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি এইডস রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির পরিবারের সমস্যা মোকাবিলায় 'নির্মল হাসি' সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, মানবিক ও সময়োপযোগী।
এইডস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। তাই এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা অনুচিত। এক্ষেত্রে উদ্দীপকে 'নির্মল হাসি' উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম প্রশংসনীয়। রিমির বাবা সিঙ্গাপুরে চাকরিরত অবস্থায় অসুস্থতাবোধ করলে দেশে ফিরে আসেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর ছয় মাস পর তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। নির্মল হাসি নামক উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় চিকিৎসা শুরু করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার তাকে এইডস রোগে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করলে পরিবারটি বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়। এ সমস্যা প্রতিরোধে নির্মল হাসি সংস্থা পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ায় এবং- নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেমন- সামাজিক ও মানসিক সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রোগীর প্রতি সমাজের অন্যান্যদের মানসিক ও সামাজিক সমর্থন আদায়ে প্রচেষ্টা চালায়। রোগীর সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং স্নেহ- ভালোবাসা দিয়ে রোগীর মনকে প্রফুল্ল রাখতে চেষ্টা করে। রোগীকে সবার কাছ থেকে আলাদা না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের উপদেশ দেয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখে।
তাই বলা যায়, এইডস রোগীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় সেগুলো মোকাবিলায় নির্মল হাসি সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ৪,০৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে গাড়ির সংখ্যা যে হারে বেড়েছে সে হারে দক্ষ চালক তৈরি হয়নি। অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ি চালানোর জন্য যেসব আইন ও নিয়মনীতি রয়েছে তাও অধিকাংশ গাড়ি চালকরা জানেন না। এ কারণে তারা কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই কম বেতনে সনদবিহীন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব চালকদের অধিকাংশই তরুণ বয়সের, যারা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। এ কারণেও প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!