ইসলামের তৃতীয় মৌলিক বিধান হলো- জাকাত।
যে পরিমাণ সম্পদ কোনো ব্যক্তির নিকট থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয় তাই নিসাব। যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তির মালিকানায় ৭.৫ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপা কিংবা এর যেকোনো একটির সমপরিমাণ অর্থ পূর্ণ এক বছর থাকে এবং তা যদি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়, তাহলে শরিয়ত নির্দেশানুযায়ী ২.৫% হারে আটটি খাতের যেকোনো খাতে দান করতে হয়। ব্যক্তির এই সম্পদের পরিমাণই হলো নিসাব।
নৈতিক চরিত্র গঠনে 'ক' তে উল্লেখিত বিধান তথা সালাতের ভূমিকা অপরিসীম। সালাত একটি ফরজ বা অবশ্যকরণীয় ইবাদত। ইসলামের ধর্মীয় কাঠামো যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সালাত তার মধ্যে দ্বিতীয়। মৌলিক ইবাদতগুলোর মধ্যে কেবল সালাতই আনুষ্ঠানিক এবং দৈহিক ইবাদত যা প্রত্যহ পাঁচবার আদায় করতে হয়। সালাতের মাধ্যমেই কেবল অশালীনতা ও অশ্লীলতা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। জামায়াতে সালাত আদায় করলে শ্রেণি বৈষম্য দূর ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। তাই উদ্দীপকে 'ক' ছকটি দ্বারা সালাতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। চরিত্র গঠনে সালাতের ভূমিকা ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। সালাতের মাধ্যমে সকল প্রকার পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। নিয়মিত সালাত আদায় ব্যক্তির মধ্যে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ চেতনার জন্ম দেয়। সে নৈতিক দিক থেকে পবিত্র হয়ে ওঠে। মন্দ, নিষিদ্ধ ও অশ্লীল আচরণ থেকে নিজেকে সে বিরত রাখে। তার মধ্যে এ সকল - অনৈতিক আচরণ প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরী হয়। এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে'।
পরিশেষে বলা যায় যে, সালাতই একমাত্র মাধ্যম যার সাহায্যে মানুষ তার চরিত্রকে নৈতিকভাবে পুনর্গঠন ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে পারে। এজন্য মানব জীবনে নৈতিক চরিত্র গঠনে সালাতের শিক্ষা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
দারিদ্র্য বিমোচনে 'খ' তে উল্লেখিত বিধান তথা জাকাতের ভূমিকা অপরিসীম। জাকাত একটি ফরজ ইবাদত। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে জাকাত তৃতীয়। এটি একটি অর্থনৈতিক ইবাদত এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। জাকাতের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বন্টন, দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে 'খ' ছকটি দ্বারা জাকাতের কথাই বুঝানো হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে এর গুরুত্ব ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাকাতলব্ধ অর্থ পরিকল্পিত উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যয় করা হলে সমাজে অভাব- অনটন থাকবে না। কেননা, সমাজে ধনীদের কাছ থেকে জাকাত সংগ্রহ করে তা গরিবদের সচ্ছলতার জন্যই ব্যয় করা হবে।
জাকাতের অর্থ দ্বারা শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করে বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। এতে করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকগুলো ধীরে ধীরে সচ্ছল হতে থাকে। পর্যায়ক্রমে সম্পদশালী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে সম্পদের প্রবাহ গতিশীল হয়। আবার, সমাজস্থ ধার্মিক শ্রেণি যদি সঠিকভাবে সততা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর নির্দেশ মতো নির্দিষ্ট খাতে জাকাত প্রদান করে তাহলে সমাজে কোনো অন্নহীন, বস্ত্রহীন ও গৃহহীন অভাবী মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। জাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র কল্যাণ ও দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে ভিক্ষাবৃত্তি, দারিদ্র্য ও বেকারত্বসহ সকল সমস্যা নির্মূল করা যায়।
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে দারিদ্র্যকে দূর করা সম্ভব। তাই দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের উচিত জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!