সংবিধানের ১১৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কর্মচারী ও রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় আইনের দ্বারা গঠিত প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বলে।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা। যে কারণে এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এক ঘটনা।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সমগ্র দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। সমগ্র জনতা বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের প্রতিহত করতে থাকে। মূলত তার এ ভাষণে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এজন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয়।
চিহ্নিত বিভাগটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হাইকোর্ট বিভাগ।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ নিয়ে গঠিত। হাইকোর্ট বিভাগের দ্বারা অধস্তন সকল আদালত তথা দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাখা তদারকি ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ছকে (?) চিহ্নিত বিভাগটি দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ছকে উল্লিখিত সুপ্রিম কোর্ট এর দুটি বিভাগ (?) চিহ্নিত ও আপিল বিভাগ। (?) চিহ্নিত বিভাগটির অধীনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাখা, যেটি হাইকোর্ট বিভাগেরও অধস্তন শাখা। শাসনতন্ত্র ও আইন দ্বারা প্রদত্ত সকল আদি ও আপিল সংক্রান্ত ক্ষমতা ও এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের উপর ন্যস্ত। এছাড়া শাসনতন্ত্র প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহ কার্যকরী করার সকল দায়িত্ব হাইকোর্ট বিভাগের। এ মর্মে সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, (ক) কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহের কোনো একটি বলবৎ করার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলির সাথে সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যেকোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপর্যুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবে। (খ) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অধস্তন আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় সংবিধানের ব্যাখ্যাসংক্রান্ত আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত আছে তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেবেন এবং স্বয়ং মামলাটি মীমাংসা করবেন। হাইকোর্ট বিভাগ সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তাই বলা যায়, (?) চিহ্নিত বিভাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হাইকোর্ট বিভাগের কার্যাবলীর পরিধি বিস্তৃত।
(?) চিহ্নিত বিভাগটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাইকোর্ট বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্ট বিভাগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা জনগণের মৌলিক অধিকার ও সুশাসন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের উপর ন্যস্ত।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি নিশ্চিতকরণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ তার ওপর ন্যস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। বিচারব্যবস্থা একটি দেশের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড। আর বাংলাদেশ বিচারব্যবস্থার শীর্ষে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, এটি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের সময়ে গঠিত। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ওপর সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার দায়িত্ব ন্যস্ত। হাইকোর্ট বিভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার সহায়তায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন সংরক্ষণ করতে পারে। কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার খর্ব হলে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আশ্রয় নিতে পারেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যেন সকল মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার ভোগ করতে পারে সে ব্যাপারেও হাইকোর্ট বিভাগ দৃষ্টি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কেউ বঞ্চিত হলে হাইকোর্ট বিভাগ তাকে যথাযথ সহায়তা দিয়ে থাকে।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও হাইকোর্ট বিভাগ প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Question
View Allমন্ত্রণালয় হলো সচিবালয়ের একটি প্রশাসনিক শাখা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের - মাপকাঠি হলো সে দেশের বিচার বিভাগ কার্য সম্পাদনে কতটুকু স্বাধীন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। জনগণের মৌলিক অধিকার, সংবিধান এবং আইন সংরক্ষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরি।
উদ্দীপকের আবুল কালামের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী। তিনি হলেন শাসন ব্যবস্থার মধ্যমণি। তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়। তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধান করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারালে কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি একাধারে দলের নেতা, সংসদের নেতা, মন্ত্রিসভার মধ্যমণি, রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা এবং জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংহতির প্রতীক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আবুল কালাম 'Y' রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তিনি এমন এক সূর্য যার চার দিকে রাজনৈতিক গ্রহগুলো আবর্তিত হয়। উদ্দীপকের 'Y' এর মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা পরিচালিত হয়। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদ অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
একটি দেশের জনগণ তাদের সরকারের ওপরই সর্বোতভাবে নির্ভরশীল। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান। এ ব্যবস্থায় জনগণ প্রধানমন্ত্রীকেই তাদের মূল আশ্রয় বলে মনে করে। তার ওপর দেশের উন্নতি, অবনতিত, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন প্রভৃতি অনেকাংশে নির্ভর করে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই প্রধানমন্ত্রী এ দেশের শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যন্ত সব বিষয়ের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট। দেশের উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা তার ওপর বর্তায়। এ কারণে তৃণমূল থেকে জাতীয় সব পর্যায়েই তাকে নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। তিনি জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক সংকট প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণের পাশে দাঁড়ান, সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে ভরসা দেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের মতো সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ফলে জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদটি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন কিংবা শাসন বিভাগের কাজ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা বিচার বিভাগ কর্তৃক পর্যালোচনা করার ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক। সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষাকারী হিসেবে বিচার বিভাগ এর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকে। বিচার বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ, তাহলে তা বাতিল করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তেমনি শাসন বিভাগের কোনো কাজ সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বজায় রাখতে বিচার বিভাগ এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
