উত্তরঃ

OSI মডেল (Open Systems Interconnection Model) হলো একটি ধারণাগত কাঠামো যা টেলিযোগাযোগ বা কম্পিউটার সিস্টেম কিভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে তা বর্ণনা করে। এটি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (International Organization for Standardization - ISO) দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক ফাংশনগুলিকে সাতটি স্তরে (Layers) বিভক্ত করা হয়, যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের জটিল প্রক্রিয়াকে বুঝতে এবং ডিজাইন করতে সাহায্য করে। এই মডেলটি বিভিন্ন ভেন্ডরের পণ্য এবং সফ্টওয়্যারের মধ্যে আন্তঃঅপারেবিলিটি (Interoperability) নিশ্চিত করতে একটি সাধারণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

OSI মডেলের লেয়ারসমূহ আলোচনা:

OSI মডেলে মোট সাতটি লেয়ার বা স্তর রয়েছে, যা উপর থেকে নিচে অথবা নিচ থেকে উপরে সাজানো যায়। প্রতিটি লেয়ারের নির্দিষ্ট কাজ এবং দায়িত্ব রয়েছে:

        
  • ১. অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার (Application Layer):         

    এটি OSI মডেলের সর্বোচ্চ স্তর এবং ব্যবহারকারীর সবচেয়ে কাছাকাছি। এই স্তরটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামগুলিকে নেটওয়ার্ক পরিষেবায় অ্যাক্সেস করার সুযোগ দেয়। এটি সরাসরি ব্যবহারকারীর ডেটা পরিচালনা করে এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক পরিষেবা যেমন ফাইল ট্রান্সফার, ইমেল, রিমোট অ্যাক্সেস ইত্যাদি প্রদান করে। উদাহরণ: HTTP, FTP, SMTP, DNS ইত্যাদি প্রোটোকল এই স্তরে কাজ করে।

        
  •     
  • ২. প্রেজেন্টেশন লেয়ার (Presentation Layer):         

    এই স্তরটি ডেটার সিনট্যাক্স (Syntax) এবং সিমান্টিক্স (Semantics) নিয়ে কাজ করে। এর প্রধান কাজ হলো অ্যাপ্লিকেশন লেয়ারের জন্য ডেটা উপস্থাপন করা। ডেটা এনক্রিপশন (Encryption), ডিক্রিপশন (Decryption), কম্প্রেশন (Compression) এবং বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্যে ডেটা রূপান্তর (যেমন ASCII থেকে EBCDIC) এই স্তরের কাজ।

        
  •     
  • ৩. সেশন লেয়ার (Session Layer):         

    এই স্তরটি বিভিন্ন ডিভাইসের অ্যাপ্লিকেশনগুলির মধ্যে সেশন স্থাপন, পরিচালনা এবং শেষ করার জন্য দায়ী। এটি ডায়ালগ কন্ট্রোল (Dialog Control) বা সংযোগ স্থাপন এবং বজায় রাখার কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে একটি সেশন ঠিকঠাক মতো চলে এবং প্রয়োজনে ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজেশন (Synchronization) পয়েন্ট তৈরি করে যাতে নেটওয়ার্ক ত্রুটির ক্ষেত্রে ডেটা পুনরায় পাঠানো সহজ হয়।

        
  •     
  • ৪. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Transport Layer):         

    এই স্তরটি এন্ড-টু-এন্ড (End-to-End) ডেটা ট্রান্সফার এবং ত্রুটিমুক্ত ডেটা ডেলিভারি নিশ্চিত করে। এটি ডেটাকে সেগমেন্টে (Segment) বিভক্ত করে এবং রিসিভার প্রান্তে সেগমেন্টগুলিকে পুনরায় একত্রিত করে। ফ্লো কন্ট্রোল (Flow Control) এবং এরর কন্ট্রোল (Error Control) এর মাধ্যমে ডেটা নির্ভরযোগ্যভাবে এবং সঠিক ক্রমে গন্তব্যে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করে। TCP (Transmission Control Protocol) এবং UDP (User Datagram Protocol) এই স্তরের প্রধান প্রোটোকল।

        
  •     
  • ৫. নেটওয়ার্ক লেয়ার (Network Layer):         

    এই স্তরটি নেটওয়ার্ক জুড়ে প্যাকেটগুলিকে (Packets) সোর্স থেকে ডেস্টিনেশন পর্যন্ত লজিক্যাল অ্যাড্রেসিং (Logical Addressing) এবং রাউটিং (Routing) এর মাধ্যমে পৌঁছে দেয়। আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) এই স্তরের প্রধান উপাদান। রাউটার (Router) ডিভাইসগুলি এই স্তরে কাজ করে, যা ডেটা প্যাকেটকে সেরা পথ খুঁজে বের করে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

        
  •     
  • ৬. ডেটা লিংক লেয়ার (Data Link Layer):         

    এই স্তরটি ফিজিক্যাল লেয়ারের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যভাবে ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। এটি ডেটাকে ফ্রেমে (Frame) বিভক্ত করে এবং ম্যাক অ্যাড্রেসিং (MAC Addressing) ব্যবহার করে লোকাল নেটওয়ার্কে ডিভাইসগুলির মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে। এরর ডিটেকশন (Error Detection) এবং এরর কারেকশন (Error Correction) মেকানিজম এই স্তরে কাজ করে। এই স্তরটি দুটি সাব-লেয়ারে বিভক্ত: লজিক্যাল লিংক কন্ট্রোল (LLC) এবং মিডিয়া অ্যাক্সেস কন্ট্রোল (MAC)।

        
  •     
  • ৭. ফিজিক্যাল লেয়ার (Physical Layer):         

    এটি OSI মডেলের সর্বনিম্ন স্তর। এর প্রধান কাজ হলো ফিজিক্যাল মিডিয়ামের (যেমন কেবল, ফাইবার অপটিক, ওয়্যারলেস) উপর দিয়ে কাঁচা বিট (Raw Bits) আকারে ডেটা ট্রান্সফার করা। এই স্তরটি ফিজিক্যাল সংযোগ, ইলেকট্রিক্যাল স্পেসিফিকেশন, ডেটা এনকোডিং (Encoding), এবং হার্ডওয়্যার ইন্টারফেস (যেমন কেবল, কানেক্টর, হাব) নিয়ে কাজ করে।

        
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
136

স্টার টপোলজি (Star Topology) হলো একটি নেটওয়ার্ক টপোলজি, যেখানে সমস্ত ডিভাইস বা নোড একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (যেমন হাব, সুইচ, বা রাউটার) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই কেন্দ্রীয় ডিভাইস নেটওয়ার্কের সকল ডেটা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণের ব্যবস্থা করে। এটি বর্তমানে জনপ্রিয় এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক টপোলজি, কারণ এটি স্থাপন এবং পরিচালনা করা সহজ।

স্টার টপোলজির বৈশিষ্ট্য:

১. কেন্দ্রীয় নোড:

  • স্টার টপোলজিতে প্রতিটি ডিভাইস সরাসরি একটি কেন্দ্রীয় নোডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই কেন্দ্রীয় নোড নেটওয়ার্কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডেটা রুটিংয়ের কাজ করে।

২. বিন্দু-থেকে-কেন্দ্র সংযোগ:

  • প্রতিটি ডিভাইস (নোড) কেন্দ্রীয় নোডের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সংযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। এই সংযোগের মাধ্যমে ডেটা পাঠানো হয় এবং কেন্দ্রীয় নোড ডেটা প্রসেস করে গন্তব্যে পাঠায়।

৩. সহজ ইনস্টলেশন এবং ব্যবস্থাপনা:

  • স্টার টপোলজি সহজে ইনস্টল এবং পরিচালনা করা যায়, কারণ সমস্ত সংযোগ কেন্দ্রীয় নোডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি নতুন ডিভাইস সংযোগ বা মেরামতের সময় ব্যবস্থাপনা সহজ করে।

স্টার টপোলজির সুবিধা:

১. সহজ সমস্যা সমাধান:

  • কোনো ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিলে, তা সহজে সনাক্ত করা যায়, কারণ প্রতিটি ডিভাইস পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় নোডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এতে নির্দিষ্ট একটি সংযোগ সমস্যা করলে, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক প্রভাবিত হয় না।

২. নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ:

  • স্টার টপোলজিতে নতুন ডিভাইস সংযুক্ত করা সহজ। শুধুমাত্র নতুন ডিভাইসটি কেন্দ্রীয় নোডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়, যা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে সহজ করে।

৩. উন্নত কর্মক্ষমতা:

  • প্রতিটি ডিভাইস কেন্দ্রীয় নোডের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করে, তাই সংঘর্ষ কম হয় এবং নেটওয়ার্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৪. নির্দিষ্টতা এবং নিয়ন্ত্রণ:

  • কেন্দ্রীয় নোড সমস্ত সংযোগ এবং ডেটা রুটিং নিয়ন্ত্রণ করে, যা নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

স্টার টপোলজির সীমাবদ্ধতা:

১. কেন্দ্রীয় নোডের উপর নির্ভরতা:

  • স্টার টপোলজির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় নোডের উপর নির্ভরশীল। যদি কেন্দ্রীয় নোডে সমস্যা হয় বা এটি অকেজো হয়ে যায়, তবে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক কাজ বন্ধ করে দেয়।

২. খরচবহুল:

  • প্রতিটি ডিভাইসকে কেন্দ্রীয় নোডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে আলাদা কেবলের প্রয়োজন হয়, যা নেটওয়ার্ক স্থাপনের খরচ বাড়ায়।

৩. দূরত্বের সীমাবদ্ধতা:

  • স্টার টপোলজিতে ডিভাইস এবং কেন্দ্রীয় নোডের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে সংযোগের মান কমে যেতে পারে, এবং এটি সংযোগ স্থাপনের জটিলতা বাড়াতে পারে।

স্টার টপোলজির ব্যবহার:

১. অফিস নেটওয়ার্ক:

  • অফিস এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্টার টপোলজি খুবই জনপ্রিয়, কারণ এটি সহজে ইনস্টল করা যায় এবং ম্যানেজমেন্ট সহজ।

২. হোম নেটওয়ার্ক:

  • বাড়ির ওয়াইফাই বা লোকাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে স্টার টপোলজি ব্যবহৃত হয়, যেখানে রাউটার কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে কাজ করে।

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:

  • স্কুল এবং কলেজ ক্যাম্পাসে কম্পিউটার ল্যাব তৈরির জন্য স্টার টপোলজি ব্যবহার করা হয়, যেখানে প্রতিটি কম্পিউটার কেন্দ্রীয় সুইচ বা রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

সারসংক্ষেপ:

স্টার টপোলজি হলো একটি জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক বিন্যাস, যেখানে সমস্ত ডিভাইস একটি কেন্দ্রীয় নোডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এটি স্থাপন এবং পরিচালনা সহজ, তবে কেন্দ্রীয় নোডের ওপর নির্ভরশীলতা এবং খরচবহুল কেবলিং এর কারণে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তবুও, এটি ছোট এবং মাঝারি আকারের নেটওয়ার্কের জন্য একটি কার্যকরী সমাধান।

Related Question

View All
উত্তরঃ

OSI মডেল (Open Systems Interconnection Model) হলো একটি ধারণাগত কাঠামো যা টেলিযোগাযোগ বা কম্পিউটার সিস্টেম কিভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে তা বর্ণনা করে। এটি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (International Organization for Standardization - ISO) দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক ফাংশনগুলিকে সাতটি স্তরে (Layers) বিভক্ত করা হয়, যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের জটিল প্রক্রিয়াকে বুঝতে এবং ডিজাইন করতে সাহায্য করে। এই মডেলটি বিভিন্ন ভেন্ডরের পণ্য এবং সফ্টওয়্যারের মধ্যে আন্তঃঅপারেবিলিটি (Interoperability) নিশ্চিত করতে একটি সাধারণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

OSI মডেলের লেয়ারসমূহ আলোচনা:

OSI মডেলে মোট সাতটি লেয়ার বা স্তর রয়েছে, যা উপর থেকে নিচে অথবা নিচ থেকে উপরে সাজানো যায়। প্রতিটি লেয়ারের নির্দিষ্ট কাজ এবং দায়িত্ব রয়েছে:

        
  • ১. অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার (Application Layer):         

    এটি OSI মডেলের সর্বোচ্চ স্তর এবং ব্যবহারকারীর সবচেয়ে কাছাকাছি। এই স্তরটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামগুলিকে নেটওয়ার্ক পরিষেবায় অ্যাক্সেস করার সুযোগ দেয়। এটি সরাসরি ব্যবহারকারীর ডেটা পরিচালনা করে এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক পরিষেবা যেমন ফাইল ট্রান্সফার, ইমেল, রিমোট অ্যাক্সেস ইত্যাদি প্রদান করে। উদাহরণ: HTTP, FTP, SMTP, DNS ইত্যাদি প্রোটোকল এই স্তরে কাজ করে।

        
  •     
  • ২. প্রেজেন্টেশন লেয়ার (Presentation Layer):         

    এই স্তরটি ডেটার সিনট্যাক্স (Syntax) এবং সিমান্টিক্স (Semantics) নিয়ে কাজ করে। এর প্রধান কাজ হলো অ্যাপ্লিকেশন লেয়ারের জন্য ডেটা উপস্থাপন করা। ডেটা এনক্রিপশন (Encryption), ডিক্রিপশন (Decryption), কম্প্রেশন (Compression) এবং বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্যে ডেটা রূপান্তর (যেমন ASCII থেকে EBCDIC) এই স্তরের কাজ।

        
  •     
  • ৩. সেশন লেয়ার (Session Layer):         

    এই স্তরটি বিভিন্ন ডিভাইসের অ্যাপ্লিকেশনগুলির মধ্যে সেশন স্থাপন, পরিচালনা এবং শেষ করার জন্য দায়ী। এটি ডায়ালগ কন্ট্রোল (Dialog Control) বা সংযোগ স্থাপন এবং বজায় রাখার কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে একটি সেশন ঠিকঠাক মতো চলে এবং প্রয়োজনে ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজেশন (Synchronization) পয়েন্ট তৈরি করে যাতে নেটওয়ার্ক ত্রুটির ক্ষেত্রে ডেটা পুনরায় পাঠানো সহজ হয়।

        
  •     
  • ৪. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Transport Layer):         

    এই স্তরটি এন্ড-টু-এন্ড (End-to-End) ডেটা ট্রান্সফার এবং ত্রুটিমুক্ত ডেটা ডেলিভারি নিশ্চিত করে। এটি ডেটাকে সেগমেন্টে (Segment) বিভক্ত করে এবং রিসিভার প্রান্তে সেগমেন্টগুলিকে পুনরায় একত্রিত করে। ফ্লো কন্ট্রোল (Flow Control) এবং এরর কন্ট্রোল (Error Control) এর মাধ্যমে ডেটা নির্ভরযোগ্যভাবে এবং সঠিক ক্রমে গন্তব্যে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করে। TCP (Transmission Control Protocol) এবং UDP (User Datagram Protocol) এই স্তরের প্রধান প্রোটোকল।

        
  •     
  • ৫. নেটওয়ার্ক লেয়ার (Network Layer):         

    এই স্তরটি নেটওয়ার্ক জুড়ে প্যাকেটগুলিকে (Packets) সোর্স থেকে ডেস্টিনেশন পর্যন্ত লজিক্যাল অ্যাড্রেসিং (Logical Addressing) এবং রাউটিং (Routing) এর মাধ্যমে পৌঁছে দেয়। আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) এই স্তরের প্রধান উপাদান। রাউটার (Router) ডিভাইসগুলি এই স্তরে কাজ করে, যা ডেটা প্যাকেটকে সেরা পথ খুঁজে বের করে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

        
  •     
  • ৬. ডেটা লিংক লেয়ার (Data Link Layer):         

    এই স্তরটি ফিজিক্যাল লেয়ারের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যভাবে ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। এটি ডেটাকে ফ্রেমে (Frame) বিভক্ত করে এবং ম্যাক অ্যাড্রেসিং (MAC Addressing) ব্যবহার করে লোকাল নেটওয়ার্কে ডিভাইসগুলির মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে। এরর ডিটেকশন (Error Detection) এবং এরর কারেকশন (Error Correction) মেকানিজম এই স্তরে কাজ করে। এই স্তরটি দুটি সাব-লেয়ারে বিভক্ত: লজিক্যাল লিংক কন্ট্রোল (LLC) এবং মিডিয়া অ্যাক্সেস কন্ট্রোল (MAC)।

        
  •     
  • ৭. ফিজিক্যাল লেয়ার (Physical Layer):         

    এটি OSI মডেলের সর্বনিম্ন স্তর। এর প্রধান কাজ হলো ফিজিক্যাল মিডিয়ামের (যেমন কেবল, ফাইবার অপটিক, ওয়্যারলেস) উপর দিয়ে কাঁচা বিট (Raw Bits) আকারে ডেটা ট্রান্সফার করা। এই স্তরটি ফিজিক্যাল সংযোগ, ইলেকট্রিক্যাল স্পেসিফিকেশন, ডেটা এনকোডিং (Encoding), এবং হার্ডওয়্যার ইন্টারফেস (যেমন কেবল, কানেক্টর, হাব) নিয়ে কাজ করে।

        
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
323
উত্তরঃ

OSI মডেল (OSI Model)-এর বিভিন্ন লেয়ারে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. ফিজিক্যাল লেয়ার (Physical Layer)

      
  • হাব (Hub): এটি একটি মাল্টিপোর্ট রিপিটার (Multiport Repeater) যা ডিজিটাল সিগন্যালকে (Digital Signal) শক্তিশালী করে এবং নেটওয়ার্কের সমস্ত সংযুক্ত ডিভাইসে সম্প্রচার করে। এটি ডেটা ফিল্টারিং (Data Filtering) করতে পারে না।
  •   
  • রিপিটার (Repeater): রিপিটার দুর্বল হয়ে যাওয়া সিগন্যালকে শক্তিশালী করে এর কভারেজ বা দূরত্ব বাড়ায়। এটি ফিজিক্যাল লেয়ারে (Physical Layer) কাজ করে।
  •   
  • নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC - Network Interface Card): NIC কম্পিউটারের সাথে নেটওয়ার্ক ক্যাবলের (Network Cable) সংযোগ স্থাপন করে এবং ফিজিক্যাল লেয়ারে ডেটা ট্রান্সমিশনের (Data Transmission) জন্য প্রয়োজনীয় সার্কিটরি (Circuitry) প্রদান করে।
  •   
  • ক্যাবল (Cable): ফিজিক্যাল কানেক্টিভিটি (Physical Connectivity) প্রদান করে, যেমন ইথারনেট ক্যাবল (Ethernet Cable), ফাইবার অপটিক ক্যাবল (Fiber Optic Cable) ইত্যাদি।

২. ডেটা লিংক লেয়ার (Data Link Layer)

      
  • সুইচ (Switch): সুইচ একটি ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস (Intelligent Device) যা MAC অ্যাড্রেস (MAC Address) ব্যবহার করে ডেটা ফ্রেমকে (Data Frame) নির্দিষ্ট গন্তব্যে ফরওয়ার্ড করে। এটি হাবের (Hub) চেয়ে বেশি কার্যকর কারণ এটি কলিশন ডোমেইন (Collision Domain) কমিয়ে দেয়।
  •   
  • ব্রিজ (Bridge): ব্রিজ দুটি ভিন্ন LAN সেগমেন্টকে (LAN Segment) সংযুক্ত করে এবং MAC অ্যাড্রেস (MAC Address) এর উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্র্যাফিক (Data Traffic) ফিল্টার করে।
  •   
  • নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC): NIC এই লেয়ারেও কাজ করে, বিশেষ করে MAC অ্যাড্রেসিং (MAC Addressing) এবং ফ্রেম ইনক্যাপসুলেশন (Frame Encapsulation) এর জন্য।

৩. নেটওয়ার্ক লেয়ার (Network Layer)

      
  • রাউটার (Router): রাউটার বিভিন্ন নেটওয়ার্কের (Network) মধ্যে ডেটা প্যাকেট (Data Packet) ফরওয়ার্ড করে IP অ্যাড্রেস (IP Address) ব্যবহার করে। এটি সেরা পাথ (Best Path) নির্ধারণ করতে রাউটিং টেবিল (Routing Table) ব্যবহার করে।
  •   
  • লেয়ার ৩ সুইচ (Layer 3 Switch): এটি একটি সুইচ যা রাউটারের (Router) মতো রাউটিং ফাংশনালিটি (Routing Functionality) প্রদান করে। এটি হার্ডওয়্যার (Hardware) ভিত্তিক হওয়ায় দ্রুততার সাথে IP অ্যাড্রেস (IP Address) ব্যবহার করে প্যাকেট ফরওয়ার্ড করতে পারে।

৪. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Transport Layer)

      
  • এই লেয়ারে সরাসরি কোনো ডেডিকেটেড নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার ডিভাইস (Dedicated Network Hardware Device) ব্যবহৃত হয় না। এই লেয়ারের কার্যকারিতা মূলত অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রোটোকল যেমন TCP (Transmission Control Protocol) এবং UDP (User Datagram Protocol) এই লেয়ারে ডেটা সেগমেন্টেশন (Data Segmentation), ফ্লো কন্ট্রোল (Flow Control) এবং এরর হ্যান্ডলিং (Error Handling) এর কাজ করে।

৫. সেশন লেয়ার (Session Layer)

      
  • এই লেয়ারেও কোনো নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যার ডিভাইস (Networking Hardware Device) থাকে না। সেশন প্রতিষ্ঠা (Session Establishment), পরিচালনা (Management) এবং সমাপ্তি (Termination) অ্যাপ্লিকেশন (Application) এবং অপারেটিং সিস্টেমের (Operating System) মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

৬. প্রেজেন্টেশন লেয়ার (Presentation Layer)

      
  • এই লেয়ারটি ডেটা এনক্রিপশন (Encryption), ডিক্রিপশন (Decryption), কম্প্রেশন (Compression) এবং ডেটা ফরম্যাট ট্রান্সলেশন (Data Format Translation) এর মতো কাজগুলো পরিচালনা করে। এখানেও সরাসরি কোনো হার্ডওয়্যার ডিভাইস (Hardware Device) ব্যবহৃত হয় না।

৭. অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার (Application Layer)

      
  • এই লেয়ারটি ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যাপ্লিকেশন পরিষেবা (Application Service) প্রদান করে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেশন গেটওয়ে (Application Gateway) বা মাল্টিলেয়ার সুইচ (Multilayer Switch) এই লেয়ারে কাজ করতে পারে, তবে মূলত HTTP, FTP, SMTP, DNS ইত্যাদি সফটওয়্যার প্রোটোকল (Software Protocol) এই লেয়ারে কার্য সম্পাদন করে।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
203
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews