মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে যে উৎসব পালন করে তাকে সাংগ্রাই উৎসব বলে।
বিভিন্ন জীবন-প্রণালি যখন একটি অন্যগুলোর সংস্পর্শে আসে; তখন তাদের মধ্যে সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানের বিনিময় ঘটে। সংস্কৃতির বিনিময়ের ফলে তৈরি হয় সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ। যা মানুষে মানুষে সাংস্কৃতিক আন্তঃসম্পর্কের ভিত রচনা করে। এই আন্তঃসম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও স্থায়িত্ব জীবন-প্রণালির গঠনগুলোর মধ্যে সুষম যোগাযোগ স্থাপন করে।
মানচিত্রে 'A' চিহ্নিত স্থানটি হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এই অঞ্চলে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী যেমন- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চক্যা, ইত্যাদি। তবে এখানে বসবাস করা প্রধান নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক। তাদের মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা এবং কালো, গায়ের রং ঈষৎ হলদেটে। চাকমারা জুম চাষের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। যা মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের চাষের পদ্ধতি। চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের অধিকাংশ গ্রামে 'কিয়াং' বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। চাকমাদের জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ উৎস হলো বিজু। যা নববর্ষ উপলক্ষে পালন করা হয়। চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পরিবারে পিতাই প্রধান। আবার তাদের সমাজে চাকমা রাজা হলো প্রধান। তিনি চাকমা সার্কেল নিয়ন্ত্রণ করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত "B" অঞ্চলের নৃগোষ্ঠী সাঁওতালদের সাংস্কৃতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
মানচিত্রে "B" চিহ্নিত অঞ্চল হলো বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা প্রভৃতি এলাকা এ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠী হলো সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী। সাঁওতালদের প্রধান খাদ্য ভাত। তারা সাধারণত মাটির ঘরে বাস করে। তাদের বাড়ির দেয়াল মাটির তৈরি এবং তাতে খড়ের ছাউনি থাকে। তারা তাদের ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে পছন্দ করে। তাদের নিজস্ব দুটি উৎসব হলো- 'সোহরাই' এবং 'বাহা'। তাদের সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো- ঝুমুর নাচ, বিবাহ অনুষ্ঠানে তারা 'দোন' ও 'ঝিকা' নাচের আয়োজন করে। সাঁওতাল মেয়েরা শাড়ি আর পুরুষরা লুঙ্গি পরে। তারা অলঙ্কারপ্রিয়। মেয়েরা হাতে ও গলায় পিতলের গহনা পরে। পুরুষরা কেউ কেউ গলায় মালা ও হাতে বালা পরে থাকে।
সুতরাং বলা যায়, সাঁওতালদের সংস্কৃতি বিচিত্র্যতায় পূর্ণ।
বাংলাদেশে বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন : চাকমা, গারো, সাঁওতাল, মারমা ও রাখাইনদের ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনধারা, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানব।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানব এবং মানচিত্রে শনাক্ত করতে পারব;
• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করব।
Related Question
View Allবাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
সমতলভূমিতে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি ও মালো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া এবং পাবনা জেলার সমতলভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী সংখ্যা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি, মণিপুরি, গারো, হাজং এবং কোচ নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমিতে তারা নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। তারা লোকগীতি, নৃত্য এবং ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ করে।
রাখাইন নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসতি কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। রাখাইনরা কৃষি, নৌকা নির্মাণ এবং মৎস্যশিকার পেশায় দক্ষ।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গারো, হাজং, কোচ, খাসি এবং মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো কৃষিকাজ ও নৃত্য-গীতের জন্য পরিচিত।
পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই নৃগোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করলেও কৃষি ও পশুপালন তাদের প্রধান পেশা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
