পোল্ট্রিকে সুস্থ রাখার জন্য রোগ প্রতিরোধ ও অসুস্থ পাখির চিকিৎসাকে পোল্ট্রির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বলে।
মিশ্র চাষে বিভিন্ন জাতের মাছ একত্রে লালন-পালন করা হয়। ফলে এরা পুকুরের বিভিন্ন স্তর থেকে খাদ্য গ্রহণ করে ও খাদ্যের যথাযথ ব্যবহার হয়। কিন্তু একক চাষে পুকুরের শুধুমাত্র একটি স্তরের খাদ্যের যথাযথ ব্যবহার হয়। অন্য স্তরের খাদ্য পুকুরে রয়ে যায় এবং মাছও কম পরিমাণে চাষ করা যায়। ফলে উৎপাদনও কম হয়। সুতরাং বলা যায় যে, একক চাষ অপেক্ষা মিশ্র চাষে মাছ উৎপাদন বেশি হয়।
উদ্দীপকে পুকুরের তিন ধরনের সাধারণ সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিচে তা বর্ণনা করা হলো:
i. মাছ ভেসে উঠা ও খাবি খাওয়া: পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদার উপস্থিতি, জৈব পদার্থের পচন, বেশি সার প্রয়োগ, ঘোলাতু, মেঘলা আবহাওয়া ও তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে পানিতে অক্সিজেনের অভাব হয় এবং এ সমস্যা দেখা যায়। এর ফলে মাছ ও চিংড়ি মারা যায়। অক্সিজেনের অভাবে মৃত মাছের মুখ 'হা' করা থাকে।
ii. পানির উপর সবুজ স্তর: অতিরিক্ত সবুজ শেওলা উৎপাদনের ফলে এ সমস্যা দেখা যায়। এর ফলে মাছের শ্বাসকষ্ট হয় ও মাছ পানির উপর খাবি খেতে থাকে। শেওলা পচে পরিবেশ নষ্ট হয়। মাছ ও চিংড়ির মৃত্যু হয়।
iii. ঘোলা পানি: বৃষ্টি ধোয়া পানি পুকুরে প্রবেশ করলে পানি ঘোলাটে হয়ে যায়। পুকুরের পাড়ে ঘাস না থাকলে এমনটি হয়। এর ফলে পানিতে সূর্যের আলো ঢুকে না, ফুলকা নষ্ট হয়ে যায় ও প্রাকৃতিক খাদ্য কমে যায়।
উদ্দীপকের পুকুরে মাছের ভেসে উঠে খাবি খাওয়া, পানির উপর সবুজ স্তর জমা ও পানি ঘোলা হওয়ার সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যাগুলো সমাধান না হলে আমাদের দেশে মাছের উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিবে।
পানিতে সাঁতার কেটে, বাঁশ পিটিয়ে, অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে ভেসে উঠা ও খাবি খাওয়ার সমস্যা সমাধান করা যায়। পানির উপর সবুজ স্তর জমলে পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে তা তুলে ফেলা যায়। এছাড়া চুন, জিপসাম ও ফিটকারী প্রয়োগ করে পানির ঘোলাত্ব দূর করা যায়।
এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মাছ স্বাস্থ্যসম্মত বসবাসের অনুকূল পরিবেশ পায়। এতে মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে ও রোগবালাই কম হয়। ফলে মাছের অধিক উৎপাদন হয়। এই সঠিক ও অধিক উৎপাদনের কারণে খামারিরা লাভবান হন। পাশাপাশি মাছের এই সঠিক উৎপাদন দেশের আমিষের ঘাটতি পূরণ করে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানীও করা যায়। আর সঠিকভাবে রোগবালাই ও পুকুর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে অনেক পতিত পুকুর, ডোবা, নালায় মাছ চাষ করা যায়। এতে বেকার ও স্বল্প আয়ের লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
উল্লিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করে আমাদের দেশের পুকুরের সাধারণ সমস্যাগুলো যথাযথভাবে সমাধান করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি এদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। এদেশের কৃষক প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিক কৃষি খামার পরিচালনা করে আসছে। এদেশের কৃষক তার খামারে শস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য উৎপাদন করে। এ অধ্যায়ে পারিবারিক কৃষি খামারের ধারণা ও গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- পারিবারিক কৃষি খামারের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পারিবারিক কৃষি খামার তৈরির কলাকৌশল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ক্ষুদ্র আয়ের উৎস হিসাবে পারিবারিক কৃষি খামারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব; •
- পারিবরিক দুগ্ধ খামার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের বর্ণনা করতে পারব;
- দুগ্ধ দোহন ও সংরক্ষণের সনাতন ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পারিবারিক খামারের তথ্য লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
- খামারের উৎপাদনের আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব ।
Related Question
View Allপরিবারের সদস্যদের পুষ্টি ও আর্থিক চাহিদা মেটানোর জন্য যে খামারের মাধ্যমে শস্য, শাকসবজি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য উৎপাদন করা হয় তাকে পারিবারিক খামার বলে।
যে খামার আকারে বড় এবং তাতে উৎপাদন, লেনদেন ও আমদানি- রপ্তানি বেশি তাকে বাণিজ্যিক খামার বলে।
বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক স্বচ্ছলতা, পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বাড়তি আয়ের ব্যবস্থার জন্য বাণিজ্যিক খামার প্রয়োজন। বাণিজ্যিক খামারের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখা যায়। দেশের কৃষি উৎপাদনে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বাণিজ্যিক খামার সাহায্য করে।
আরিফ ও হাসিফ দীর্ঘদিন নিজ আঙিনায় দেশি জাতের মুরগি পালন করে। এতে তেমন লাভবান হতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা পোল্ট্রি খামারের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপন করে অল্প সময়ের মধ্যেই সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ পারিবারিক পোল্ট্রি খামার স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত জাতের মুরগি পালন করেন। সফলভাবে পারিবারিক পোল্ট্রি খামার পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। বিশেষ করে পোল্ট্রির জাত, বাসস্থান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং টিকাদান কর্মসূচী সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে খামার পরিচালনা করে এবং তা থেকে অধিক মাংস ও ডিম পায়।
মূলত পোল্ট্রি পালনের সব ধরনের জ্ঞান থাকার জন্যই আরিফ ও হাসিফ সফলতা লাভ করেন।
আরিফ ও হাসিফ লক্ষ করলেন তাদের পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যগুলো বাড়ির পরিবেশকে দূষিত করছে। এ অবস্থায় তারা খামারের বর্জ্যগুলো পচিয়ে ফসলের জমিতে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
জমি বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। জৈব সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, মাটিস্থ উপকারী অণুজীবকে ক্রিয়াশীল রাখে, মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলী উন্নত করে। জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের পরিমাণ কম লাগে ফলে উৎপাদন খরচ কমে। উপরন্তু জৈব সার পরিবেশ বান্ধব। জৈব সার হিসেবে পোল্ট্রির বর্জ্য বেশ উৎকৃষ্ট ও উপযোগী। কাজেই তাদের খামারের বর্জ্যগুলো ফসলের জমিতে ব্যবহারের ফলে বাড়ির পরিবেশ দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। উপরন্তু জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং এই আলোচনা থেকে বলা যায়, আরিফ ও হাসিফের উদ্যোগটি খুবই যুক্তিযুক্ত।
পুকুরে অতিরিক্ত কাদা হলে একটি দড়ির মধ্যে ইটের টুকরা বেঁধে তা পানিতে টেনে তলার গ্যাস দূর করার উপকরণটিকে বলে হররা।
পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদার উপস্থিতি এবং বেশি পরিমাণ লতাপাতা ও আবর্জনা পচনের ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এতে করে পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মারা যায়।
এক্ষেত্রে হররা (একটি মোটা দড়ির সাথে ছোট ছোট দড়ি দ্বারা ইট ঝুলিয়ে বেঁধে দেওয়া) টেনে পুকুরের তলার গ্যাস দূর করার ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
