১৯৯০ সালের ১০ই অক্টোবর বিরোধী জোট ও দলগুলোর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তোলে।
সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এদেশে সামরিক শাসনের যাত্রা শুরু হয়ে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ৭৫ থেকে ৯০, এই দীর্ঘ সময়ে অনেক স্বৈরশাসক ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। সব সময়ই জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই এদেশের জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আরো বেশি সোচ্চার হতে থাকে। যদিও তিনি দমননীতির আশ্রয় গ্রহণ করে ৯ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তবে ১৯৯০ এর শেষের দিকে এসে জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে পড়ে। এরশাদের পক্ষে আর এ আন্দোলন দমন করা সম্ভব হয়নি। ফলে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এভাবেই দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
উপরের তথ্যচিত্রে বাংলাদেশের সামরিক শাসনব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয় এবং তা ১৯৯০ সাল তথা স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের রাজনীতি একটি অস্থিতিশীল অবস্থা অতিক্রম করেছে। যদিও বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন, তবে তিনি মাত্র তিন মাস ক্ষমতায় ছিলেন। এ সময় সেনাবাহিনীতে দেখা দেয় নৈরাজ্যকর অবস্থা। ফলে সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার জন্য বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ উদ্যোগী হন। এরই ধারাবাহিকতায়
খালেদ মোশাররফ খন্দকার মোশতাক ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। কিন্তু তিনি মাত্র চার দিনের মাথায় ৭ নভেম্বর কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের হাতে। পরবর্তী সময়ে জিয়া বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে জোরপূর্বক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামরিক ফরমান জারি করে বাহাত্তরের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করেন। জিয়াউর রহমান প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। জিয়াউর রহমানও সেনা অভ্যুত্থানে মৃত্যুবরণ করেন। জেনারেল জিয়ার হত্যার পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বগ্রহণ করেন। এরপর বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাপ্রধান এরশাদ বলপূর্বক নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদ ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেন।
উল্লিখিত তথ্যচিত্রে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ এর মধ্যবর্তী সময়কে তুলে ধরা হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশে উপরে আলোচিত সামরিক শাসনব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে যে সামরিক শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশে চালু হয়েছিল, ১৯৯০ সালে সে ব্যবস্থার পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বাংলাদেশের সামরিক শাসকদের অন্যতম ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। স্বাধীনতার পর এদেশের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র- জনতার প্রতিরোধ, আন্দোলন, সংগ্রাম, হরতাল মোকাবিলা করেছেন জেনারেল এরশাদ। ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখলের পর দীর্ঘ নয় বছরের উ • পুরো সময়টাই জনগণ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কৃষক সংগঠনসহ কতিপয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচেষ্টায় এরশাদবিরোধী চেতনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক' লেখাসহ ঢাকার জিপিওর নিকট জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হলে জনগণ আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে পুলিশের গুলিতে ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর যে স্বৈরতন্ত্রের বীজ বাংলাদেশে রোপিত হয়েছিল, জেনারেল এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে তার শিকড় উপড়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশ পুনরায় যাত্রা শুরু করে গণতন্ত্রের পথে।
Related Question
View Allউপজেলা ব্যবস্থা জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় প্রবর্তিত হয়।
ইনডেমনিটির আভিধানিক অর্থ হলো কাউকে নিরাপদ করা বা নিরাপত্তা বিধান করা। মূলত যারা জাতির পিতা ও তার পরিবারবর্গ, জাতীয় চার নেতাকে অবৈধভাবে অস্ত্রের জোরে হত্যা করেছিল বাংলাদেশের কোনো আদালতে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না- এই মর্মে ইনডেমনিটি বা নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছিল।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা পরবর্তী নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল। তার শাসনামলের দীর্ঘ নয় বছরের প্রায় পুরো - সময়টাই জনগণ আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কৃষক সংগঠনসহ এরশাদবিরোধী চেতনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। হরতাল-অবরোধে প্রশাসনে এক প্রকার স্থবিরতা দেখা দেয়। অবশেষে জেনারেল এরশাদ তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে পদত্যাগ করেন।
উদ্দীপকের চলচ্চিত্রে দেখা যায়, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ, কৃষক, শ্রমিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ বিষয়গুলোতে ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়।
সামরিক শাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' লেখাসহ ঢাকার জিপিও-এর নিকট জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে নির্বিচারে জনতার উপর গুলি চালায়, অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে যান। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জনগণ ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর বিরোধী জোট ও দলগুলো সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে যা রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তোলে। এদিন মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হয় এবং তিন শতাধিক আহত হয়। আর ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে পুলিশের গুলিতে ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। রাজপথ চলে যায় জনতার দখলে এবং ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের শহরে। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বস্তুত নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেছেন।
শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার শতভাগ ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১। বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭০ ভাগে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২' প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে 'শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!