মহীসোপানের শেষ সীমা হতে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সাথে মিশে যায়, এই ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে।
জোয়ার ভাটার পানি ওঠানামার সীমানাকে তটদেশীয় অঞ্চল বলে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে আবার ভাটার টানে তা নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এই ওঠানামার একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি সমুদ্র তীরের যতদূর পর্যন্ত উপরে উঠে সেখান থেকে ভাটার টানে তা যে স্থানে নেমে যায় সে স্থানের বিস্তৃত অংশকে তটদেশীয় অঞ্চল বলে। স্থল হতে সাগর পর্যন্ত এ অঞ্চল প্রায় ৩.২ কিলোমিটার প্রশস্ত।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত মহাসাগরের নাম প্রশান্ত মহাসাগর।
এ মহাসাগরের পশ্চিমে এশিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অবস্থিত। পাঁচটি মহাসাগরের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ। এর আয়তন ১৬ কোটি ৬২ লক্ষ বর্গ কি.মি.। এর গভীরতা প্রায় ৩,৯৩৯ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ১০.৭৯ কিমি। এ মহাসাগর ভূপৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্থান অধিকার করে আছে। বিখ্যাত নাবিক ম্যাগেলান এ মহাসাগরে প্রবেশে কোনো প্রকার ঝড়তুফান বা তরঙ্গের আস্ফালন দেখতে পান নি। এ কারণে এ মহাসাগরের নাম রাখেন প্রশান্ত মহাসাগর। এ মহাসাগরে তেমন ঝড়তুফান হয় না। এর উপকূল আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল অপেক্ষা ভগ্ন। এটি দক্ষিণ দিকে প্রশস্ত, উত্তর দিকে ক্রমেই সংকীর্ণ। বেরিং প্রণালির মাধ্যমে এটি উত্তর মহাসাগরের সাথে যুক্ত হয়েছে। এর উপকূলে এশিয়া মহাদেশে ছোট-বড় বহু দ্বীপ রয়েছে।
এছাড়া পীত সাগর, পূর্ব চীন সাগর, ওখষ্টক সাগর প্রভৃতি এ মহাসাগরের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত মহাসাগরটি হলো আটলান্টিক মহাসাগর। এ মহাসাগরের আয়তন প্রায় ৮ কোটি ৬৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
এটি সমগ্র ভূভাগের প্রায় ১৬% এবং প্রশান্ত মহাসাগরের অর্ধেক। এ মহাসাগরের ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। আটলান্টিক মহাসাগরে কতকগুলো শৈলশিরা রয়েছে। প্রশস্ত মহীসোপান থাকার দরুন এ মহাসাগর সবচেয়ে কম গভীর। এ মহাসাগরের গড় গভীরতা ৩,৫৭৫ মিটার। আমাজান ও কঙ্গো আটলান্টিক মহাসাগরে এসে পড়েছে। এ মহাসাগরের উত্তরে সুবিস্তৃত মহীসোপান রয়েছে, কিন্তু দক্ষিণের মহীসোপান একটু সরু। এ মহাসাগরে তুলনামূলক কম সংখ্যক দ্বীপ রয়েছে। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম উপকূলে নিউ ফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপ প্রকৃতপক্ষে মহীসোপানের উচ্চতম অংশ। আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের ন্যায় ভঙ্গিল পর্বত নেই।
এছাড়া বিভিন্ন প্রকার মালভূমি শৈলশিরা, গভীর গিরিখাতসমূহ বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূমিরূপ এ মহাসাগরে গড়ে উঠেছে।
Related Question
View Allমহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান।
সমুদ্রের গভীরে গর্তসদৃশ বিষয়টি গভীর সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের l
পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক পাতের সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাতের উদ্ভব হয় বিধায় প্রতিটি গভীর সমুদ্রখাত পাত সীমানায় অবস্থিত। এ পাত সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত যার ভূমিরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরের মহীঢাল এলাকায় খাড়া ঢাল বিশিষ্ট অবস্থানজনিত একটি গভীর নিমগ্ন খাত রয়েছে। এটি প্রায় ১২ কিমি. চওড়া এবং প্রায় ১২৭০ মিটার গভীর। এছাড়া প্রচন্ড ঢেউয়ের প্রভাবে পলল মহীসোপান জমা হয়ে চরাভূমি গঠন করে।
বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড নামে একটি গভীর গিরিখাত; ৯০ ডিগ্রি পূর্ব শৈলশিরা, মায়ানমার ও চ্যাগোস পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রখাত ও কতিপয় নিমজ্জিত চরাভূমি। বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের গভীরতা সর্বত্র ২০০ মিটারের কম। দক্ষিণ-পূর্বাংশের মহীসোপান খুবই চওড়া।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। নিচে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো-
বঙ্গোপসাগরের তলদেশ নানা ধরনের সম্পদে সমৃদ্ধ। এ সাগরের তলদেশ খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধশালী। সম্প্রতি বাংলাদেশের উপকূলীয় মহীসোপান অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রচুর খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাগরের অনেক স্থানে আবার মূল্যবান লোহা, সিসা, তামা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মৎস্য সম্পদেও এ এলাকা সমৃদ্ধশালী। এখানকার মৎস্য সম্পদের মধ্যে লাক্ষা, রূপচান্দা, চান্দা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, হাঙ্গর, কোরাল, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের প্রান্ত পর্যন্ত অঞ্চলকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
পানি ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, তাই জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীবজগতের ওপর পানিচক্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। পানিচক্রের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় সূর্যের তাপশক্তি দ্বারা। বাষ্পীভবন ও বর্ষণ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বাষ্পীভবন বেশি হলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। এ বৃষ্টিপাত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীজগতের ওপর প্রভাব রাখে। তাই বলা যায়, জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
