অবৈধ সুযোগ সুবিধা লাভের জন্য কোনো ব্যক্তির আইন ও নীতিবিরুদ্ধ কাজকে দুর্নীতি বলে।
জনস্বাস্থ্য রক্ষা তথা সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তার জন্য খাদ্যে ভেজাল রোধ প্রয়োজন।
বর্তমান যুগে খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা হিসেবে পরিগণিত। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর প্রভাবে নানাভাবে শারীরিক ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে কিডনি, লিভার ও পাকস্থলীর ক্ষতি হয়। তাই সুস্থ থাকার জন্য খাদ্যে ভেজাল রোধ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'ক' শাসনব্যবস্থা দ্বারা স্থানীয় শাসন ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
শাসনকার্য সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই বিভিন্ন ধরনের শাসন ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে দু ধরনের শাসন ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়। তার মধ্যে স্থানীয় শাসনের অর্থ হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক শাসন। স্থানীয় শাসনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসনের নিয়ন্ত্রণকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় শাসন মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ের সকল সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে নীতি ও সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় শাসনের উপর অর্পিত হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষের নীতি নির্ধারণের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের স্থানীয় শাসনের ক্ষেত্রে জনগণেরও অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। কারণ স্থানীয় শাসন সরকারি কর্মকর্তাদের শাসন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন-জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' শাসনব্যবস্থা দ্বারা উল্লিখিত তথ্যসমূহ উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা স্থানীয় শাসন ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের 'খ' শাসন ব্যবস্থা দ্বারা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়। গণতন্ত্রের বিকাশে 'খ' শাসন ব্যবস্থা তথা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এমন এক শাসন ব্যবস্থা যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা গৌণ, জনগণের প্রতিনিধিদের ভূমিকাই মুখ্য। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত দ্বারা পরিচালিত শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়। বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ। আমরা জানি, গণতন্ত্র বলতে মূলত জনগণের শাসনকে বোঝায়, যা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন দ্বারা প্রতিফলিত হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে জনগণ সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধানে জনগণের সম্পৃক্ত হওয়ায় সুযোগ থাকায় স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে যা গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করে।
যেহেতু স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হয় সেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চার ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মূল লক্ষ্য স্ব-শাসন, যার ফলে জনগণ পরবর্তীতে বৃহত্তর শাসন ব্যবস্থায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। এছাড়াও স্থানীয় জনগণের মনে গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি আস্থা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, 'খ' তথা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপৌরসভার প্রধানকে মেয়র বলা হয়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের স্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
উদ্দীপকের 'X' হলো সিটি কর্পোরেশন নামক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন অন্যতম। বিভিন্ন স্থানের বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহৎ নগরীর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়েছে। এটি মূলত একটি নগরভিত্তিক স্থানীয় সংস্থা। উদ্দীপকে এ প্রতিষ্ঠানটিরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান 'X'-এর সংখ্যা হলো ১১। এ প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যক্লিনিক ও ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়ে থাকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ও জনগণের সক্রিয় ভূমিকায় এ সংস্থার কার্যক্রম সাধিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। যথা: ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও গাজীপুর। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ অর্থাৎ মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলররা সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলি সম্পাদন করেন। এসব কাজে জনগণও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। মহানগরীর উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি কর্পোরেশন বহুবিধ কাজ করে থাকে। সন্ত্রাস দমন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধের জন্য এ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহানগরীর জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সিটি কর্পোরেশন বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে। যেমন- হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও নির্মাণের অনুমতি প্রদান, শৌচাগার নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ইত্যাদি। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে- রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, বিশ্রামাগার নির্মাণ, মোটরগাড়ি ও ট্রাক ছাড়া অন্য সকল প্রকার যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান ও চলাচল ইত্যাদি। এ সংস্থাটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, নগর
X' প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনকে অধিক কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সিটি কর্পোরেশন মহানগরের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে। এর মেয়র ও কাউন্সিলরদের জনগণ সরাসরি নির্বাচন করতে পারে। এর ফলে সিটি কর্পোরেশনে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারাও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের সীমিত জনবলের পক্ষে মহানগরের মতো বিশাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে জনগণ নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ও আবর্জনা ফেলে ও নিজ দায়িত্বে নিজেদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করে। মহানগরের জনগণের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের জন্য সিটি কর্পোরেশন গভীর ও অগভীর নলকূপ খনন করে। জনগণ পানির অপচয় রোধ করে সকলের জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করে। এসব কাজে এলাকার জনগণ সম্পৃক্ত হয়ে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করে। ভূমি অধিগ্রহণ, বাড়িঘর স্থানান্তর ইত্যাদি কাজেও জনগণ কর্পোরেশনকে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন সংগ্রহ করে। রাস্তাঘাটে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ব্যাপারেও এ প্রতিষ্ঠানটিকে জনগণ সহযোগিতা করে। পরিশেষে বলা যায়, মহানগরের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সিটি কর্পোরেশন যেসব কাজ করে তা মূলত জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হয়। এ কারণে জনগণও এসব কাজে সহযোগিতা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় শাসন হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, যেটি গঠিত হয় স্থানীয় পর্যায়ে নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
