মাছের অতিপ্রিয় খাদ্য প্লাঙ্কটন। এটি অতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী।
সমুদ্রের পানি একটি নিদিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে। একে সমুদ্রস্রোত বলে।
বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সাথে ঘর্ষণ তৈরি করে। এর ফলে পানিতে ঘূর্ণন তৈরি হয় এবং সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (Planetary winds
উদ্দীপকের 'ক' কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝাকে নির্দেশ করে।
উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে অল্প স্থানব্যাপী তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। এ অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণবাত সৃষ্টির ফলে প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। জাহাজ ও বিমান চলাচলে অসুবিধা দেখা যায়। যেমন- উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে শীতল ল্যাব্রাডর এবং উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলনের ফলে এবং এশিয়ার উপকূলে শীতল কামচাটকা ও বেরিং স্রোত এবং উষ্ণ জাপান স্রোতের মিলনের ফলে এরূপ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়।
মহাসাগরে 'খ' তথা অগভীর মগ্নচড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের সঙ্গে বাহিত বড় বড় হিমশৈল (Iceberg) উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে এসে গলে যায়। ফলে হিমশৈলের মধ্যস্থিত বিভিন্ন নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি সমুদ্রতলে সঞ্চিত হয় এবং কালক্রমে মগ্নচড়ার সৃষ্টি হয়।
অগভীর মগ্নচড়াগুলোতে প্রচুর পরিমাণ প্লাঙ্কটন জন্মায় বংশবৃদ্ধি করে। এই প্লাঙ্কটন মাছের অতি প্রিয় খাদ্য। তাই মগ্নচড়াগুলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মাছ আহরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যেমন: নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং -জাপান উপকূলের গ্রান্ড ব্যাঙ্ক, সেবল ব্যাঙ্ক প্রভৃতি হতে প্রচুর মাছ ধরা হয়।
মগ্নচড়াগুলো পৃথিবীর বিখ্যাত মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র। এগুলোকে ঘিরে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। সুতরাং বলা যায়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগভীর মগ্নচড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allপৃথিবীর গভীরতম (১০,৮৭০ মিটার) খাতের নাম ম্যারিয়ানা খাত (Mariana trench) যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ পর্যন্ত ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental shelf) বলে।
পৃথিবীর নদীবন্দরগুলোর অধিকাংশই মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে। ফলে এসব অঞ্চলে নৌচলাচল ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। মহীসোপানের তলদেশে খনিজ সম্পদের ভান্ডার থাকায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্থানের পানির প্রবাহ বা স্রোতটি হলো ল্যাব্রাডর স্রোত। এটি একটি শীতল স্রোত।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত দুইটি সুমেরু শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণ দিকে' প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই স্রোতের জন্য উত্তর আমেরিকার ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের বন্দরগুলো বছরের প্রায় নয় মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ায় নিকটবর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত না হয়ে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার না হওয়ায় মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!