সমুদ্রের বা সাগর ও মহাসাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
সমুদ্রস্রোত উৎপত্তির জন্য প্রধান কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ।
।
প্রবল নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় সমুদ্রের উপরের স্তরের পানিরাশিকে একই দিকে চালিত করে। অয়ন বায়ু প্রবাহিত এলাকায় সমুদ্রস্রোত পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে এবং পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত এলাকায় সমুদ্রস্রোত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এভাবে সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে বায়ুপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে 'গ' চিহ্নিত স্রোতটি হলো উত্তর আটলান্টিক স্রোত।
উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের যে শাখাটি পশ্চিমা বায়ু দ্বারা তাড়িত হয়ে ব্রিটিশ দ্বীপুঞ্জ এবং নরওয়ের পশ্চিম উপকূল দিয়ে উত্তর মহাসাগরে শেষ হয় তাকে উত্তর আটলান্টিক স্রোত বলে। উত্তর মহাসাগরে প্রবেশ করে এ স্রোতটি শীতল স্রোতে পরিণত হয়। এ স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ ও নরওয়ে উপকূলে বরফ জমতে পারে না। এটি ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলকে উষ্ণ রাখে। ফলে ঐ অঞ্চলে নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। এ স্রোতের কারণে এ অঞ্চল দিয়ে অনায়াসে জাহাজ চলাচল করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়। উত্তর মহাসাগরে প্রবেশ করে এ স্রোত শীতল স্রোতে পরিণত হয় বলে ঐ অঞ্চলের জলবায়ু ঠাণ্ডা থাকে।
তাই বলা যায়, প্রাকৃতিকভাবে সাশ্লটিত উত্তর আটলান্টিক স্রোত ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে।
উদ্দীপকে 'ক' এবং 'খ' চিহ্নিত স্রোত দুটি হলো-দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত এবং নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত।
বেঙ্গুয়েলা স্রোত যখন নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিক দিয়ে সোজা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয় তখন তাকে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত বলে। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মধ্য দিয়ে যে উফ। স্রোতটি নিরক্ষরেখায় উত্তর দিক দিয়ে সোজা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় তা হলো নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত। এ দুটি স্রোতের মধ্যে সাদৃশপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-
- দুটি স্রোতই সেন্টরক অন্তরীপে বাধা প্রাপ্ত হয়।
- উভয় স্রোতই নিরক্ষরেখার উপর দিয়ে প্রশ্নহিত হয়।
- দুটি স্রোেতই'একটি নির্দিষ্ট সময়ে তীব্র গতি প্রাপ্ত হয়।
- দুটি স্রোতই উষ্ণ স্রোত।
- দুটি স্রোতই আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত।
- দুটি স্রোতই উষ্ণ স্রোত বিধায় জাহাজ চলাচলের জন্য উপযোগী।
- তাই বলা যায় দুটি স্রোতের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য থাকলে ও বহু সাদৃশ্য ও বিদ্যমান।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allসমুদ্রের পানিরাশির একস্থান হতে অন্যস্থানে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়াই সমুদ্রস্রোত।
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি।
আহ্নিক গতির জন্য পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর সর্বদা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এ আবর্তনের জন্য সমুদ্রের উপরিভাগের তরল পানি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' স্রোত দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতকে নির্দেশ করে।
বেঙ্গুয়েলা স্রোত যখন নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিক দিয়ে সোজা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয় তখন তাকে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত বলে।
দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর প্রভাবে এ স্রোতের গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চলের উপর দিকে প্রবাহিত হয় বলে এটি একটি উষ্ণ স্রোত। এ স্রোতটি আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে এসে সেন্টরকে অন্তরীপে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। প্রথম ও প্রধান শাখাটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূল দিয়ে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে এবং পরে মেক্সিকো উপসাগরে পৌছে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতে পরিণত হয়। দ্বিতীয় শাখাটি দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল' দিয়ে প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের কথা বলা হয়েছে। যার দুটি স্রোত বিপরীত ধর্মী। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত সুমেরু শীতল স্রোত দুটি গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এ মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এ শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকট দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। এর একটি শাখা উপসাগরীয় স্রোতের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে এবং অপর শাখাটি উপসাগরীয় স্রোতের পশ্চিম পাশ দিয়ে উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল বেয়ে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের নীল পানি উত্তর-পূর্ব দিকে এবং তার পাশ দিয়ে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সবুজ পানি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। এ দুটি বিপরীত স্রোত পরস্পর বিপরীত দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভব তাদের স্রোতের সীমারেখা সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। এ দুটি স্রোতের মধ্যবর্তী সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে l
উত্তর মহাসাগর হতে ল্যাব্রাডর স্রোতের সাথে অনেক হিমশৈল ভেসে আসে। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সংস্পর্শে ঐ সব হিমশৈল গলে যায়। এর ফলে হিমশৈলের সাথে বাহিত কাদা, বালি প্রভৃতি সমুদ্রতলে সঞ্চিত হয়ে বৃহৎ মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে। নিউফাউল্যান্ডের নিকটবর্তী গ্র্যান্ড ব্রাঙ্ক এরূপে সৃষ্টি হয়েছে।
উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ওপর দিকে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়। অন্যদিকে ল্যাব্রাডর স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হয়। এ বিপরীতধর্মী দুই বায়ুর সংমিশ্রণে এ অঞ্চলে প্রায়ই কুয়াশা ও ঝড়-তুফান লেগে থাকে।
চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যায়ক্রমে সমুদ্রের পানিরাশির স্ফীতি ও অবনমনকে জোয়ারভাটা বলে।
চন্দ্রের আকর্ষণে পানি ফুলে ওঠাকে মুখ্য জোয়ার বলে।
চন্দ্র এক স্থানে স্থির থাকে না। তা পৃথিবীর চারদিকে সর্বদা ঘুরছে। আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এ আকর্ষণে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
