যশের জন্য লিখলে যশও হবে না, লেখাও ভালো হবে না।
পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে রচনা যথাসম্ভব সহজ-সরল করা প্রয়োজন।
লেখকের লেখার উদ্দেশ্য পাঠকের কাছে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা। উৎকৃষ্ট লেখকগণ পাঠকের সঙ্গে নিজের যোগাযোগে সচেতন থাকেন। সারল্য হয় তাঁদের রচনার বিশেষ গুণ। পাঠক যদি লেখকের কথা বুঝতেই না পারে, তবে রচনা সৃষ্টির উদ্দেশ্য বৃথা হয়ে যায়। এ কারণেই রচনা সরল করা জরুরি।।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় কলামে আলোচ্য প্রবন্ধে উল্লিখিত রচনার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে লেখকদের করণীয় সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শের স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রচনার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে নবীন লেখকরা কী কী করতে পারে সে বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ প্রদান করেছেন। তিনি সরলতাকে রচনার শ্রেষ্ঠ অলংকার বলে গণ্য করেছেন। তাঁর মতে, যে লেখা পাঠক সহজেই বুঝতে পারে সেটিই সেরা লেখা। একই সঙ্গে তিনি বস্তুনিষ্ঠতাকেও রচনার অন্যতম প্রধান গুণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় কলামে উৎকৃষ্ট সাহিত্যের দুটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সরলতা বা প্রাঞ্জলতা সুসাহিত্যের অন্যতম প্রধান গুণ। সরল ভাষায় লেখা রচনাসমূহ সহজবোধ্যতার জন্য পাঠক পছন্দের শীর্ষে থাকে। রচনার নিরপেক্ষতা, সারবস্তুর সত্যতা নিশ্চিত করা রচয়িতার. অনিবার্য দায়িত্ব। এ দিকটিই বস্তুনিষ্ঠতা হিসেবে পরিচিত, যা উন্নত রচনার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আলোচ্য প্রবন্ধে রচনার উৎকর্ষ সাধনে উদ্দীপকের দ্বিতীয় কলামে প্রদর্শিত দিকগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়ার তাগিদ বিদ্যমান।
উদ্দীপকের মূলে রয়েছে উৎকৃষ্ট সাহিত্য সৃজনের আহ্বান যা আলোচ্য প্রবন্ধেরও মূলকথা।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আদর্শ লেখক হওয়ার উপায় সম্পর্কে নবীন লেখকদের প্রতি বেশকিছু উপদেশ প্রদান করেছেন। আদর্শ লেখক হতে গেলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে রচনার সমৃদ্ধির জন্য কী কী করণীয় ও বর্জনীয়। তবেই বাংলা সাহিত্যের ভান্ডার উৎকৃষ্ট সৃষ্টিকর্মে ভরে উঠবে।
উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও উল্লেখযোগ্য দুটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবকল্যাণের ভাবনা সাহিত্যের মূল প্রেরণা। লেখা সমৃদ্ধ করার জন্য লেখকের মাঝে থাকা চাই বিশেষ কিছু দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা। সরলতা ও বস্তুনিষ্ঠতা এ বিষয় দুটি নিশ্চিত করে। কলাম-১ ও কলাম-২ এ প্রদর্শিত প্রসঙ্গগুলোর মেলবন্ধনেই সৃষ্টি হয় উৎকৃষ্ট সাহিত্য। উদ্দীপকের এ ধারণা আলোচ্য প্রবন্ধও সমর্থন করে।
সাহিত্যের উদ্দেশ্য অত্যন্ত মহৎ। এ কারণে সাহিত্য রচনা সাধনার ব্যাপার। এ জগতে প্রবেশকারী নবীন লেখকগণকে এ বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেন আলোচ্য প্রবন্ধটি। তাঁর বিশ্বাস প্রবন্ধে উল্লিখিত পরামর্শগুলো মেনে চললে আদর্শ লেখক হওয়া সম্ভব। সম্ভব উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা, যা বাংলা ভাষায় সমৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজন। উদ্দীপকে উৎকৃষ্ট সাহিত্যের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে রচনার গুরুত্বপূর্ণ দুটি গুণ সরলতা ও বস্তুনিষ্ঠতাকে সুসাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে দেখানো হয়েছে। সর্বোপরি, এখানে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যার স্বরূপ আলোচ্য প্রবন্ধেও আমরা দেখতে পাই। সার্বিক বিবেচনায় তাই বলা যায়, 'উদ্দীপকটি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের মূলভাবের অনুগামী।
Related Question
View Allবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সত্য ও ধর্ম।
আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা বা অন্যের অনিষ্ট সাধনের উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ চরম গর্হিত কাজ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মানবতার মঙ্গল সাধন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি। লেখার মাধ্যমে যদি সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা হয়, তবে তা সার্থক হয়। অন্যদিকে যে লেখায় কেবল নিজের স্বার্থ প্রাধান্য পায়, যাতে মিথ্যা প্রশ্রয় দেওয়া হয়, যে লেখা মানুষের পীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই সৎ মনোভাব ছাড়া লেখনী ধারণকে লেখক মহাপাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনায় 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রকাশিত মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যায়।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। লেখকের মতে, খ্যাতি বা অর্থলাভ সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য নয়। মানুষের কল্যাণ বা সৌন্দর্য সৃষ্টিই লেখকের মূল অভিপ্রায় হওয়া বাঞ্ছনীয়। লেখকদের প্রতি তাই তাঁর নিবেদন, যে লেখায় মানুষের অনিষ্ট হয় তা পরিত্যাগ করে মানবমজাল নিশ্চিত করে এমন সাহিত্য রচনায় ব্রতী হওয়া উচিত।
উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের মহান শিল্পী কাজী নজরুল ইসলামের কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংকটকালে তিনি মানবমুক্তির গান নিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মানুষের শোষণ-বঞ্চনা, ক্ষুধা-দারিদ্র্যের যন্ত্রণা তাঁর লেখনীতে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। শ্রেণি-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের স্বপ্নের কথাই নজরুলের সাহিত্যে মুখ্য হয়ে ওঠে। মানবহিতৈষী মনোভাব নিয়ে সাহিত্য রচনায় অগ্রসর হওয়ার আহ্বান আলোচ্য প্রবন্ধেও বিদ্যমান। প্রবন্ধের লেখকের মতে, এটিই সাহিত্য রচনার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এ বৈশিষ্ট্যই কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাহিত্যের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের চর্চা অব্যাহত রাখার বিবেচনায় উদ্দীপকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় কিছু পরামর্শ প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য যশ বা অর্থ লাভ নয় বরং মানবকল্যাণ। লেখকগণের উচিত লোকরঞ্জন পরিত্যাগ করে সত্য প্রকাশে অসংকোচ হওয়া। বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী করার জন্য বঙ্কিমচন্দ্রের এ পরামর্শ অমূল্য।
আলোচ্য উদ্দীপকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখক সত্তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শোষণ-বঞ্চনা, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা- এ সবই তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। নিজের সাহিত্যে তিনি এ সমস্ত অন্ধকারের অবসান কামনা করেছেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন সৌহার্দপূর্ণ সমাজ গড়াই ছিল নজরুলের লক্ষ্য। আলোচ্য প্রবন্ধের মূলসুরও তাই।
লেখক মাত্রই সত্য ও সুন্দরের পূজারি। মানবমুক্তির গভীরতম অনুভূতি লেখকের জাদুকরী শব্দমালায় আমাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে। সমাজের অসাম্য, অন্যায়, অরাজকতা লক্ষ করেও যে চুপ থাকে বা অন্যায়কারীদের তোষণ করে সে প্রকৃত লেখক নয়। প্রকৃত লেখক কখনোই সত্য প্রকাশে পিছপা হন না। তাঁর সত্য ভাষণেই মানবমুক্তির দুয়ার উন্মোচিত হয়। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত কৰি কাজী নজরুলের লেখার মাঝে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেজেছিল প্রবল বিদ্রোহের সুর। মানবকল্যাণের শাশ্বত ও সুন্দর বাণীই ছিল তাঁর লেখার মূল হাতিয়ার। এই হাতিয়ারকে জীবনপথের পাথেয় করার নিবেদনই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য প্রবন্ধে করেছেন। রচনায় মানবমঙ্গলকেই সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণের নিবেদন জানিয়েছেন তিনি, যার প্রতিফলন উদ্দীপকে স্পষ্টরূপেই ফুটে উঠেছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম Rajmohans Wife ।
সাহিত্যে অলংকার বা ব্যঙ্গ যথাযথভাবে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে লেখক আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখক নতুন লেখকদের আদর্শ লেখক হওয়ায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত নতুনদের যথাযথ অলংকার বা ব্যক্তা ব্যবহারের প্রতি আলোকপাত করেছেন লেখক। কেননা লেখার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নানাবিধ অলংকার। ব্যঙ্গ সেসবের মধ্যে অন্যতম। এসব অলংকার ব্যবহার যথার্থভাবে করতে না পারলে এবং তা বারবার পড়লে যদি বেখাপ্পা মনে
হয়, তখন তা কেটে দেওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন। প্রশ্নোক্ত বক্তব্যে সে কথাই বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
