ক্লান্ত ঘুঘুর বিলাপ-জলে দুপুরের তন্দ্রা ভেজে।
বাংলা মাকে সমৃদ্ধ করার জন্যই শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষ ঘর-উদাসী।
বাংলার কামার ও কুমার, জেলে, চাষি, বাউল, মাঝিসহ সকল শ্রমজীবীও কৃষিজীবী মানুষ সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে। দেশকে রক্ষা করার জন্য তারা দেশের উন্নতির লক্ষ্যে যার যার ক্ষেত্রে কাজ করে যায়। তাদের কাছে নিজের ঘরের চেয়েও দেশ বড়ো, তাই তারা ঘরের প্রতি উদাসীন থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রটি 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় ফুটে ওঠা দেশমাতৃকার জন্য তাঁর সন্তানদের আত্মত্যাগের দিকটিকে নির্দেশ করে।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় কবি তাঁর দেশমাতাকে পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী বলে উল্লেখ করেছেন। সন্তানদের অকৃত্রিম ভালোবাসাই এই মাকে গর্বিত করেছে। কেননা, মাকে শত্রুমুক্ত রাখতে তাঁর সন্তানেরা অকাতরে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত।
উদ্দীপকের চিত্রটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের। সেখানে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে যুদ্ধরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। প্রাণের ভয়কে তুচ্ছ করেই তাঁরা এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য দেশকে শত্রুমুক্ত করা। একইভাবে, 'গরবিনী মা-জননী' কবিতাতেও কবি দেশমাতার প্রতি তাঁর সন্তানদের গভীর ভালোবাসার পরিচয় তুলে ধরেছেন। এই সন্তানেরা মাতৃভূমির জন্য প্রয়োজনে মরতেও দ্বিধা করে না। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত দেশমাতৃকার জন্য সন্তানদের গভীর ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতাকেই নির্দেশ করে।
কেবল মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগের চিত্র তুলে ধরায় উদ্দীপকটি 'গরবিনী মা-জননী' কবিতার অংশবিশেষকে ধারণ করে।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় কবি ভাগ্যবতী বাংলা মায়ের গর্বিত হওয়ার কারণ খুঁজেছেন। তিনি লক্ষ করেছেন, দেশমাতার প্রিয় সন্তানরা তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। একারণে দেশকে শত্রুমুক্ত রাখতে প্রয়োজনে তারা প্রাণ দিতেও পিছপা হয় না।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যুদ্ধরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তাঁরা প্রাণভয়কে তুচ্ছ করে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই তাঁরা এ কাজে প্রবৃত্ত হয়েছে।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দেশবাসীর গভীর ভাবাবেগ ও অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। মাতৃভূমি বাংলাকে শত্রুমুক্ত রাখতে তাঁর সন্তানরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতেই প্রস্তুত। আলোচ্য কবিতার এ দিকটি উদ্দীপকের চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধরত অবস্থার মধ্য দিয়েও উঠে এসেছে। কিন্তু কবিতাটিতে এছাড়াও মাতৃভূমির সৌন্দর্য, সন্তানদের প্রতি দেশমাতার অবদানসহ নানা বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকের চিত্রে এসকল বিষয় উঠে আসেনি। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allসন্ধ্যা-দুপুর মার পায়ে ধুলোর নূপুর বাজে।
'রক্তে-ধোওয়া সরোজিনী' বলতে আত্মত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত দেশমাতৃকাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতার কবি দেশমাতৃকা বাংলাকে তুলনা করেছেন কোমল পদ্মের সাথে। দেশমাতৃকার মর্যাদা রক্ষার জন্য এদেশের সন্তানেরা অনেক সংগ্রাম করেছে, বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এ কারণেই কবি দেশমাতাকে 'রক্তে-ধোওয়া সরোজিনী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদের মাধ্যমে 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় উল্লিখিত দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় সর্বাবস্থায় বাংলা মাকে রক্ষার দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কথা উঠে এসেছে। এই মায়ের মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁর সন্তানেরা অনেক কষ্ট স্বীকার করে। তবুও কোনো অন্যায় অবিচারকে তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। দেশমাতৃকার জন্য প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গ করতেও তাদের দ্বিধা নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদ তার মাকে অনেক ভালোবাসে। মায়ের মুখের হাসির জন্য সে যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। এমন মাতৃভক্তির প্রকাশ 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায়ও লক্ষ করা যায়। সাজিদের বক্তব্যে কবিতার এ বিশেষ দিকটিই ফুটে উঠেছে।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'গরবিনী মা-জননী' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই মায়ের মহিমা ও তাঁর প্রতি সন্তানের গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় দেশমাতৃকার বন্দনা প্রকাশিত হয়েছে। মাতৃভূমি মমতা দিয়ে তাঁর সন্তানদের বুকে আগলে রাখেন। দেশমাতৃকার মর্যাদা রক্ষায় তাই তার সন্তানেরাও থাকে অবিচল।
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজিদ তাঁর মায়ের অসামান্য ত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁর রত্নগর্ভা মা সন্তানদের মানুষ করেছেন। সাজিদ তাই মায়ের প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন- মায়ের মুখের হাসি ফোটাতে তিনি যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকবেন।
'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় দেশকে মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মা-ই পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে আপনজন। মায়ের মতো দেশও আলো-বাতাস দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাই মাকে আমরা যেমন ভালোবাসি দেশের জন্যও আমাদের তেমন ভালোবাসাই জ্ঞাপন করতে হবে। মায়ের জন্য আমরা যেকোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকব। দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজিদের বিলিয়ে দিতে থাকব। উদ্দীপকে মায়ের কথা বলা হয়েছে, আর আলোচ্য কবিতায় দেশমাতৃকার কথা। তবে উভয় ক্ষেত্রেই মায়ের জন্য একই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সার্বিক বিবেচনায় তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
সবুজ তৃণ মায়ের আঁচল কোণে লেগে থাকে।
সাহসী ও সংগ্রামী সন্তানদের কারণে বাংলাদেশ গর্বিত।
বিভিন্ন পেশাজীবী সন্তান দেশমাতৃকার কোল জুড়ে থাকে। এই মাকে রক্ষা করার জন্য এই সন্তানরা শত কষ্ট সহ্য করে। কোনো অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারকে তারা মেনে নিতে পারে না। দেশের জন্য তারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধা করে না। দেশমাতৃকাকে সমস্ত দুঃশাসন থেকে রক্ষার জন্য মায়ের সন্তানরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা যেকোনো দুঃসময়ে জেল জুলুম ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে নিজের সুখ শান্তি ও আলস্য পরিহার করে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে দ্বিধা করে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

