জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সার্ক গঠিত হয়।
সার্ক গঠনের দুটি উদ্দেশ্য হলো- ১. সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা এবং ২. এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে ডায়াগ্রামে প্রদর্শিত সংস্থা তথা জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অকৃত্রিম বন্ধুর মতো কাজ করে যাচ্ছে। এসব সংস্থা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি, যোগাযোগ, শিশুমৃত্যু হ্রাস, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, বিজ্ঞান, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রগতি অর্জনে যথেষ্ট সাহায্য করছে।
উদ্দীপকের ডায়াগ্রামে রয়েছে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক আদালত ও সচিবালয়, যা জাতিসংঘের ছয়টি শাখাকে নির্দেশ করে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমাদের দেশকে সাহায্য করে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে মিয়ানমার হতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করায় যে ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়, জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের যে বিরোধ ছিল তা ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক অগ্রগতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম।
'বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সাথে উক্ত সংস্থা তথা জাতিসংঘের সম্পর্ক মধুর এবং সুনিবিড়'- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করারও ক্ষমতা রাখে। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনাসদস্য প্রেরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। নামিবিয়া এবং ইরাক-ইরানে দুটি শান্তিরক্ষার অপারেশনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪০টি দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে প্রায় ১.৪৬ লক্ষ সেনাসদস্য পাঠিয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭১০ জন নারী পুলিশ সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিবিসি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের "The cream of UN Peacekeepers" বলে আখ্যায়িত করেছে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, 'বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের সম্পর্ক মধুর এবং সুনিবিড়'।
পৃথিবী নামের এ গ্রহটিতে অনেকগুলো দেশ আছে। দেশগুলো বিশ্বের সাতটি মহাদেশে বিভক্ত । স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হলেও দেশগুলোর পক্ষে একা চলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব যা বিশ্ব শান্তি ও এসব দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য । বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন থেকে বিশ্বে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক সংগঠন । যেমন : সার্ক, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘ ইত্যাদি । এ অধ্যায়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এবং বাংলাদেশের সাথে এদের সম্পর্ক বিষয়ে আমরা জানব ।
এ অধ্যায় পড়া শেষে আমরা-
♦ জাতিসংঘের গঠন ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব
♦জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব
♦ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব
♦ কমনওয়েলথের গঠন, উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব
♦ ওআইসির গঠন, উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব
♦ সার্কের গঠন, উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারব ।
Related Question
View AllSAARC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে "South Asian Association for Regional Cooperation" |
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। এ এলাকার উপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অছি এলাকার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' সাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
কেননা ওআইসি-এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ২৩। ওআইসির কিছু উদ্দেশ্য আছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, বর্ণবৈষম্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিলোপ করা, ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা। এছাড়া মুসলিম জাতির মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সংগ্রামকে জোরদার করতে সাহায্য করা, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
উদ্দীপকের হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' মধ্যেও আমরা দেখতে পাই, এই সংস্থার প্রাথমিক সদস্য ২৩। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সৎভাব বজায় রাখা এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই আমরা বলতে পারি, হাসান সাহেবের শান্তি সংস্থার সাথে ওআইসির উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
হাকিম সাহেবের সংস্থার সাথে জাতিসংঘের অনেক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলো হলো- শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সুকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা; অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা; এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিবাদের মীমাংসা করা।
উদ্দীপকের হাকিম সাহেবের সংস্থা 'সূর্যনগর সমবায় সমিতি' এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ পাঠাগার, খেলাধুলার ক্লাব গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যগুলোর সাথে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের অনেক মিল রয়েছে।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ছয়টি।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের।
নিরাপত্তা পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!