ভোগ বা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সমস্ত দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা স্বায় তাদেরকে ভোগ্য দ্রব্য বলে।
মূলধনী দ্রব্য অন্য দ্রব্য উৎপাদনে সহায়তা করে।
যেসব দ্রব্য প্রত্যক্ষভাবে ভোগ করা হয় না কিন্তু অন্য দ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় তাদেরকে মূলধনী দ্রব্য বলে। যেমন- যন্ত্রপাতি, কারখানা, গুদামঘর ইত্যাদি। এসব দ্রব্য ভোগ্য বা চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। মূলধনী দ্রব্য বারবার উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এ দ্রব্যগুলো আবার অন্য মূলধনী দ্রব্য উৎপাদনেও ব্যবহৃত হয়।
সূর্যের আলো অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ নয়।
অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যকে সম্পদ হতে হলে তার চারটি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। যথা- উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা। এগুলোর কোনো একটি ছাড়া কোনো 'জিনিসকে অর্থনীতিতে সম্পদ বলা যাবে না। সূর্যের উপযোগ ও বাহ্যিকতা থাকলেও অপ্রাচুর্যতা ও হস্তান্তরযোগ্যতা এ দু'টি বৈশিষ্ট্য না থাকার কারণে অর্থনীতিতে সূর্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় না। উপযোগ হলো মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতা। সূর্য মানুষের আলোর অভাব পূরণ করে থাকে। অন্যদিকে বাহ্যিকতা বলতে কোনো কিছুর বাহ্যিক অস্তিত্ব থাকাকে বোঝায়, যা সূর্যের রয়েছে। অর্থাৎ সূর্য অর্থনীতিতে সম্পদ হওয়ার দুটি শর্ত পূরণ করে। কিন্তু সূর্যের আলো অপর্যাপ্তক নয় তথা সূর্যের আলোর যোগান সীমিত নয়। এছাড়া সূর্যের মালিকানা পরিবর্তন ও সম্ভব নয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উপযোগ ও বাহ্যিকতা থাকলেও সূর্যের আলো অপর্যাপ্ত নয় এবং এর হস্তান্তরযোগ্যতা নেই। মূলত অপর্যাপ্ততা ও হস্তান্তরযোগ্যতা এ দু'টি বৈশিষ্ট্যের অভাবে সূর্য অর্থনীতিতে সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত ফ্রিজটি অর্থনীতিতে সম্পদ। কারণ ফ্রিজের উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা ও বাহ্যিকতা রয়েছে।
অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহিক্যতা এই চারটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এখানে, উপযোগ হলো মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতা এবং হস্তান্তরযোগ্যতা হলো দ্রব্যটির মালিকানা বদল। আবার, সম্পদ চাইলেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া সম্ভব নয় এবং এর বাহ্যিক অস্তিত্ব থাকতে হবে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ফ্রিজটি অর্থনীতির ভাষায় সম্পদের সকল বৈশিষ্ট্য তথা উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা বিদ্যমান আছে। তাই অর্থনীতিতে এটি সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ফ্রিজটি অভাব মেটাতে সক্ষম। আবার এর বাহ্যিক অস্তিত্ব এবং হস্তান্তরযোগ্যতা রয়েছে। তাছাড়া ফ্রিজের যোগান বাজারে সীমিত অর্থাৎ চাইলেও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া সম্ভব নয়। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ফ্রিজটির উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা ও বাহ্যিকতা এ চারটি বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি অর্থনীতিতে সম্পদ বলে বিবেচিত হবে।
অর্থনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি। সম্পদ ও দ্রব্যের সংজ্ঞা ও এর শ্রেণি বিভাগ, সুযোগ ব্যয় ও চয়ন, আয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক কার্যাবলি এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এ অধ্যায়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থনীতির মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে এ মৌলিক ধারণাগুলো অর্থনীতিকে বুঝতে সহায়ক হবে।
Related Question
View Allকোন ব্যক্তি তার মালিকানাধীন উৎপাদনের উপকরণকে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করে তার বিনিময়ে যা অর্জন করে তাই আয়।
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেসব সম্পদ ব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শক্তি (বিদ্যুৎ, তাপ) উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- নদীর স্রোত ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় সোলার প্যানেল। আবার আণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র (পারমাণবিক বোমা, গ্রেনেড) ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নদীর স্রোত, সৌরশক্তি, আণবিক শক্তি এগুলো হচ্ছে শক্তি সম্পদের বিভিন্ন উৎস।
শফিকের মাছ-মাংস ক্রয়ের ধারণাটি সুযোগ ব্যয়ের (Opportunity Cost) মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প দ্রব্যটির যে পরিমাণ উৎপাদন ত্যাগ করতে হয় তাকে প্রথমোক্ত দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয় বলে।

প্রদত্ত চিত্রে (OX) অক্ষে মাংসের পরিমাণ এবং (OY) অক্ষে মাছের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে। AB রেখাটি হলো সুযোগ ব্যয় রেখা যা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে দুটি বিকল্প দ্রব্য (মাছ ও মাংস) ক্রয়ের বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে শফিক ১০০০ টাকা ব্যয় করে শুধু মাংস কিনলে OB পরিমাণ অর্থাৎ ৪ কেজি মাংস কিনতে পারে অথবা সে মাছ কিনলে OA পরিমাণ অর্থাৎ ২ কেজি মাছ কিনতে পারে। কিন্তু শফিক ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাংস এবং ১ কেজি মাছ ক্রয় করলো; যা C বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। অতএব C বিন্দুতে ১ কেজি মাছের সুযোগ ব্যয় হলো ২ কেজি মাংস।
উদ্দীপকের শফিকের দুটি দ্রব্য নির্বাচনের বিষয়টি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
নির্বাচন বলতে বোঝায় মানুষের অসীম অভাবের মধ্যে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো বাছাই করা। কারণ মানবজীবনে অভাব অসীম হলেও তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। এ জন্য মানুষের পক্ষে সকল অভাব একত্রে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে বেশি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো আগে পূরণ করার প্রচেষ্টা করে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, শফিক বাজারে গিয়ে দেখল তার মায়ের দেওয়া ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাছ অথবা ৪ কেজি মাংস ক্রয় করতে পারে। তখন সে অনেক চিন্তার পর ১ কেজি মাছ এবং ২ কেজি মাংস ক্রয় করে যা মূলত গুরুত্ব অনুসারে অভাব নির্বাচনকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, শফিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সম্পদ (১০০০ টাকা) দিয়ে অভাব নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ করে থাকে। কাজেই, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবজীবনে সম্পদের স্বল্পতা তথা দুষ্প্রাপ্যতার কারণে অভাব নির্বাচন করে তা পূরণ করতে হয়।
যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলে।
প্রকৃতি থেকে পাওয়া যে জিনিসগুলো মানুষের প্রয়োজন মেটায় তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।
মানুষ প্রকৃতি থেকেই সব সম্পদ আহরণ করতে পারে। কেননা প্রকৃতির মধ্যেই নানা মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। যেমন- ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদ-নদী, গাছপালা, জীবজন্তু ইত্যাদি প্রকৃতির উপাদান। বস্তুত, প্রকৃতির এসকল উপাদানকেই প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!