সাফল্যাঙ্কগুলোর বণ্টনের মাঝামাঝি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হবার প্রবণাতে কেন্দ্রীয় প্রবণতা (Central Tendency) বলা হয়।
মনোবিজ্ঞানে পরিসংখ্যানের বহুমুখী প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেমন-
১. পরিসংখ্যান পরীক্ষণ পদ্ধতির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
২.পরীক্ষণলব্ধ তথ্যের সংক্ষিপ্তকরণ ও অর্থপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
৩. প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বানুমান করে।
কোনো বণ্টনের তথ্য বা উপাত্তসমূহকে দুটি সমান ভাগে বিভক্ত করার পর বণ্টনের মাঝামাঝি বিন্দুতে অবস্থানকারী তথ্য বা উপাত্তকেই মধ্যমা বা মধ্যক বলে। মধ্যকের ব্যবহার নিম্নরূপ-
১. নামভিত্তিক ও গুণবাচক উপাত্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপক হিসেবে মধ্যমা ব্যবহার করা হয়।
২. সূচক সংখ্যা ও কালীন সারির তথ্য বিশ্লেষণে মধ্যমা ব্যবহার করা যায়।
৩. খোলা শ্রেণি (Open File) ব্যবধানের তথ্যসারির কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপক হিসেবে বিশেষভাবে মধ্যমাকে ব্যবহার করা হয়।
৪. সহজবোধ্যতার ক্ষেত্রে মধ্যমাকে লেখচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
৫. সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় মধ্যমাকে ব্যবহার করা হয়।
দৃশ্যকল্প-১-এর A চিহ্নিত পরিমাপটি হলো গড়। নিচে দৃশ্যকল্প-২-এর গড় নির্ণয় করা হলো।
শ্রেণি ব্যবধান | পৌনঃপুন্য (f) | মধ্যবিন্দু (X) | fx |
৩৯ – ৪১ | ২ | ৪০ | ৮০ |
৩৬-৩৮ | ৩ | ৩৭ | ১১১ |
৩৩-৩৫ | ৫ | ৩৪ | ১৭০ |
৩০ – ৩২ | ১০ | ৩১ | ৩১০ |
২৭ - ২৯ | ৭ | ২৮ | ১৯৬ |
২৪ - ২৬ | ২ | ২৫ | ৫০ |
২১ – ২৩ | ১ | ২২ | ২২ |
| N = ৩০ |
|
|
আমরা জানি,
গড় X =
N
= ৯৩৯
৩০
দৃশ্যকল্প ২-এর নির্ণেয় গড়
= ৩১.৩ (প্রায়)
এখানে,
X = গড়
f = পৌনঃপুন্য
X = মধ্যবিন্দু
∑ = যোগফল
N = পৌনঃপুন্যের সমষ্টি
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকোনো বণ্টনের সবচেয়ে বড় সংখ্যা থেকে সবচেয়ে ছোট সংখ্যার বিয়োগফলের সাথে ১ যোগ করলে যে মান পাওয়া যায় তাকে পরিসর বলে।
কেন্দ্রীয় প্রবণতা হলো তথ্যসারির একটি প্রতিনিধিত্বকারী মান যার চারদিকে অন্যান্য সংখ্যা জড়ো হয়। কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলতে বোঝায় X-অক্ষের ওপর একদল সাফল্যাঙ্ককের অবস্থান অথবা একটি পৌনঃপুন্য বণ্টনের সাফল্যাংকের একটি কেন্দ্রীয় বিন্দুর চার পাশে জড় হওয়ার প্রবণতা। আমরা যখন কোনো পৌনঃপুন্যের বণ্টন লক্ষ করি তখন দেখা যায় যে, সাফল্যাঙ্কগুলোর বণ্টনের মাঝামাঝি বিন্দুতে, অর্থাৎ কেন্দ্রস্থলে স্তূপীকৃত হওয়ার এবং দুই প্রান্তে ক্রমশ বিরল হয়ে আসার একটা প্রবণতা রয়েছে। একে কেন্দ্রীয় প্রবণতা বলে।
দৃশ্যকল্প-১ এর 'B' চিহ্নিত স্থানে মধ্যক বা মধ্যমাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-১ কেন্দ্রীয় প্রবণতা বিভিন্ন পরিমাপকে দেখানো হয়েছে। আমরা জানি, কেন্দ্রীয় প্রবণতার কেন্দ্রমুখী অংশসমূহকে ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: গড় বা গাণিতিক গড়, মধ্যক বা মধ্যমা এবং কেন্দ্রিক বা প্রচুরক। প্রদত্ত ছকের প্রথমাংশে গড় উল্লেখ থাকায় এটা খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে 'B' অংশে মধ্যক বা মধ্যমা এবং 'C' অংশে কেন্দ্রীক বা প্রচুরককে নির্দেশ করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-১ এ 'B' চিহ্নিত স্থান তথা মধ্যমা বা মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র
নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-অবিন্যস্ত উপাত্ত থেকে মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র হলো-
Mdn = N+1 তম সংখ্যা
2
এখানে, N হলো সাফল্যাঙ্ককের মোট সংখ্যা সংখ্যাগুলোকে ক্রমানুসারে সাজিয়ে মোট সাফল্যাংক তথা N এর সাথে ১ যোগ করে ২ দ্বারা ভাগ করতে হবে। প্রাপ্ত সংখ্যাটি হবে মধ্যক। বিন্যাস্ত উপাত্ত থেকে মধ্যক নির্ণয়ের সূত্র হলো-

এখানে Mdn= মধ্যক
L = মধ্যক যে শ্রেণিতে আছে সেই শ্রেণির প্রকৃত নিম্নসীমা।
cfl = মধ্যক যে শ্রেণিতে আছে তার নিচের শ্রেণির ক্রমবর্ধিষ্ণু পৌনঃপুন্য
f= মধ্যক যে শ্রেণিতে আছে সেই শ্রেণির পৌনঃপুন্য
N = পৌনঃপুন্যের সমষ্টি।
i = শ্রেণিসীমা
প্রদত্ত সারণি হতে 'C' চিহ্নিত পরিমাপটি তথা প্রচুরক নিচে নির্ণয় করে দেখানো হলো-
শ্রেণি ব্যবধান | পৌনঃপুন্য |
৪০-৪৪ | ২ |
৩৫-৩৯ | ৩ |
৩০ - ৩৪ | ৭ |
২৫- ২৯ | ৯ |
২০- ২৪ | ৮ |
১৫ - ১৯ | ৫ |
১০-১৪ | ৬ |
| N = ৪০ |
এখন, প্রচুরক =Lmo

Lmo = যে শ্রেণির পৌনঃপুন্য সবচেয়ে বেশি সেই শ্রেণির প্রকৃত নিম্নসীমা
fa = সবচেয়ে বেশি পৌনঃপুন্য বিশিষ্ট্য শ্রেণির পূর্ববর্তী শ্রেণির পৌনঃপুন্যের পার্থক্য।
fb = সবচেয়ে বেশি পৌনঃপুন্য বিশিষ্ট্য শ্রেণির পরবর্তী শ্রেণির পৌনঃপুন্যের পার্থক্য
i = শ্রেণিসীমা
এখন,

= ২৪.৫ + ১.৬৭
= ২৬.১৭
নির্ণেয় প্রচুরক ২৬.১৭।
কোনো বণ্টনের সবচেয়ে বড় সংখ্যা থেকে সবচেয়ে ছোট সংখ্যার বিয়োগফলের সাথে ১ যোগ করলে যে মান পাওয়া যায় তাকে পরিসর বলে।
পরিসরকে শ্রেণি ব্যবধান দ্বারা ভাগ করলে পাওয়া যাবে শ্রেণিসংখ্যা।
পৌনঃপুন্য বণ্টনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো শ্রেণিরসংখ্যা নির্ণয় করা।
শ্রেণিসংখ্যা নির্ণয়ের সূত্র হলো:
শ্রেণিসংখ্যা = পরিসর
শ্রেণি ব্যবধান
শ্রেণিসংখ্যা প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করলেও সাধারণত ৫ থেকে ১০ এর মধ্যে হলে ভালো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!