স্বামী-স্ত্রী সহযোগে অথবা স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানকে নিয়ে গঠিত পরিবার হলো অণু পরিবার (Nuclear Family)।
সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মানব শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। বস্তুত সামাজিকীকরণ হচ্ছে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। কেননা, জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন বাহন ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীদল শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া তাই সামাজিকীকরণকে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে।
সামাজিক বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হচ্ছে সংস্কৃতি। সাধারণ অর্থে, সংস্কৃতি বলতে আমরা নাটক, গান, নৃত্য, আবৃত্তি প্রভৃতি বিনোদনমূলক বিষয়গুলোকে বুঝি। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতি প্রত্যয়টি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ যা কিছু করে তাই সংস্কৃতি। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপখাইয়ে চলতে গিয়ে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানুষ যা কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কার করেছে তার সবই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত। অর্থাৎ- সংস্কৃতি হলো সার্বিক জীবনপ্রণালি। সমাজজীবনের বিভিন্ন উপাদানের ভিত্তিতে সংস্কৃতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। মূলত যান্ত্রিকতা ও শিল্পকলার বদৌলতে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য যে সমস্ত উপাদান বিদ্যমান তাই বস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ট্রাক্টর, কল-কারখানার যন্ত্রপাতি, ইট, রড, রাস্তাঘাট প্রভৃতি। অন্যদিকে, সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি। যেমন- ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, বিশ্বাস প্রভৃতি। উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানের একপাশে কৃষিপ্রযুক্তি, শিল্পপ্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অপরপাশে ভাষা, সাহিত্য, লোকরীতি, শিল্পকলা তথা অবস্তুগত সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে যা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উপরের আলোচনা শেষে একথা স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে '?' চিহ্নিতস্থানে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী সাংস্কৃতিক উপাদানটি বসবে।
"সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে উক্ত উপাদান তথা সাংস্কৃতিক উপাদানটির প্রভাব অনস্বীকার্য"- উক্তিটি যথার্থ।
সমাজবিজ্ঞানীগণ সমাজজীবন তথা সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সাধনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সাংস্কৃতিক উপাদানকে চিহ্নিত করেছেন। সংস্কৃতি বলতে সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট সকল বস্তুগত ও অবস্তুগত উপকরণকে বুঝিয়েছেন। তবে সংস্কৃতির মূল উপাদান যা সমাজ ও সভ্যতার বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে, তা হলো কৃৎকৌশল বা উপাদান কৌশল। জামানদার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতে, উৎপাদন কৌশলে পরিবর্তন আসলে উৎপাদন সম্পর্কেও পরিবর্তন আসে, যার প্রভাবে উৎপাদন পদ্ধতিও পরিবর্তিত হয়। আর উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসলে সমাজকাঠামোতে পরিবর্তন আসে। যেমন- সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান ভূমিকে কেন্দ্র করে কৃষি সভ্যতার বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীতে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা হয় যা সমাজকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আনে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন- কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, যোগাযোগ প্রযুক্তি মানুষের জীবন-যাপন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, সমাজকাঠামোর উক্ত পরিবর্তন তখনই সম্ভবপর হয়েছে যখন মানুষ শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা প্রভৃতি নিয়ে চিন্তার সুযোগ পেয়েছে যা অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।
উপরের আলোচনা শেষে নিঃসন্দেহে বলা যায়, সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব অপরিসীম।
Related Question
View Allকটি. বি. বটোমোর- এর মতে "সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সমাজের শ্রেণি বা স্তরভিত্তিক বিভাজন যা মর্যাদা ও ক্ষমতা গঠন করে।"
মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাই হচ্ছে মার্কসবাদ। কার্ল মার্কসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে 'মার্কসবাদ'।
মার্কসবাদ হলো একটি সামগ্রিক চিন্তাধারা, একটি সমাজদর্শন। মার্কসবাদ হলো দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। এটি একটি সামগ্রিক তত্ত্বচিন্তা। যেকোনো জ্ঞান শৃঙ্খলাতেই এর প্রয়োগ সম্ভব। একে পৃথকভাবে কেবল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি অথবা ইতিহাস বা দর্শন তত্ত্ব বলা ঠিক নয়। জগৎকে ব্যাখ্যা করা নয়, তাকে বদলে দেওয়াটাই আসল কথা-মার্কসবাদী চিন্তার সারকথা এটাই।
উদ্দীপকের সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। কিছুসংখ্যক মানুষ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘকাল বসবাস করতে থাকলে তাদের মধ্যে অভিন্ন চিন্তাভাবনা, সামাজিক বিষয়াদিতে অভিন্নতা, ঐতিহ্যগত অভিন্নতাবোধ, গভীর সংহতিবোধ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর এভাবে সুসংহত সামাজিক জীবনযাপনের সূত্রেই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী যারা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে সমজাতীয় জীবনযাপন করে এবং যার ফলে সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংহতিবোধ বিরাজ করে। একই নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্প্রদায় সৃষ্টি হতে পারে, যেমন- মুসলিম সম্প্রদায়। আবার ঐতিহ্যবাহী সমজাতীয় পেশা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করেও সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে। যেমন- তাঁতি ও জেলে সম্প্রদায়। উদ্দীপকেও এমন একটি শ্রেণি লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস নারায়ণগঞ্জের হরিজন সমাজের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। অর্থাৎ সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। যারা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা ও সমজাতীয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তারা একটি পৃথক সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। উপরের আলোচনা ও উদ্দীপকের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায় সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় নামক প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদাগত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যা সাংস্কৃতিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত।
বাংলাদেশের সমাজ শ্রেণিভিত্তিক বা স্তরায়িত সমাজ। অর্থাৎ এ সমাজ শ্রেণিবিভক্ত। এ শ্রেণি বিভাজন কখনো উৎপাদনের উপায়ের মালিকানা, কখনো উঁচু-নিচু মর্যাদা আবার কখনো ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে ক্রমোচ্চভাবে বিভক্ত। একটি শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনাচরণ এবং জীবনধারণের পদ্ধতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনধারণের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। এ ধরনের স্তরবিন্যাস মূলত শিক্ষা, অর্থ, প্রতিপত্তি, বংশ মর্যাদা, পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে হয় এবং সংস্কৃতি দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমাজব্যবস্থায় সুইপার সমাজের মানুষকে নিম্ন মর্যাদার মনে করা হয়। অন্যদিকে রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তী ধনী ব্যক্তি। আমাদের সমাজে ধনী শ্রেণির মর্যাদাগত অবস্থান উঁচু স্তরে। তাই দেখা যায়, সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর মধ্যে একটি মর্যাদাগত ব্যবধান রয়েছে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের পাশাপাশি সংস্কৃতির ভূমিকাকে তুলে ধরে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাব বিস্তার করেছে।
সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের জীবনে খেলার মাঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবারের নির্দিষ্ট ও সীমিত গণ্ডি পেরিয়ে শিশু খেলার মাঠে প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে আসে। খেলার মাঠে সঙ্গী-সাথীদের মাধ্যমে সে প্রভাবিত হয়। নিজেও অন্যান্যদের প্রভাবিত করে। এতে করে তার মধ্যে নেতৃত্ব, নিয়ম-শৃঙ্খলা, দায়িত্ব-কর্তব্য, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলির সূচনা ও বিকাশ ঘটে। তাই সমাজজীবনের রূপায়ণ ও সামাজিকীকরণে মানুষের জীবনে খেলার মাঠের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!